-1.3 C
Toronto
শনিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২৩

রুমে ঢুকেই প্রযোজক আমার জামা ধরে টানতে থাকে: ইন্দ্রাণী

রুমে ঢুকেই প্রযোজক আমার জামা ধরে টানতে থাকে: ইন্দ্রাণী
ছবি ইন্দ্রাণী হালদার

মিডিয়া জগতকে বাইরে থেকে দেখলে যতটা জমকালো সুন্দর মনে হয় ভেতরে ঠিক যেন তার উল্টো পরিবেশ। ঠিক এমনটাই জানালেন ভারতের মিডিয়া জগতে ৩৪ বছর ধরে কাজ করা জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদার। কাজ করার একেবারে শুরুর দিকে তিক্ত অভিজ্ঞতাও হয়েছিল তার।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে প্রকাশিত হওয়া এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের যাত্রাটা মোটেও মসৃণ ছিল না। যার কারণে ‘কাস্টিং কাউচ’-এর শিকার হতে হয়েছিল তাকে।

- Advertisement -

মিডিয়ায় কাজ করতে গিয়ে অনেক নায়ক-নায়িকাই লালসার শিকার হন প্রযোজক-পরিচালকদের। এ গল্প নতুন কিছু নয়। তবে প্রকাশ্যে নিয়ে আসতে পারে খুব কম নায়ক নায়িকাই।

নেটদুনিয়ায় ‘মিটু’ মুভমেন্টের জন্য এখন অনেক ঘটনার কথাই দর্শকরা জানে। তবে এমন ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল টালিপাড়ার জনপ্রিয় অভিনেত্রী ইন্দ্রাণী হালদারকেও, তা অনেক ভক্তদেরই অজানা।

সম্প্রতি টালিগঞ্জ ইন্ডাস্ট্রিতে প্রায় ৩৪ বছর পার করায় তার অভিজ্ঞতার ঝুলির কথা বলতে গিয়ে বেরিয়ে এল এমনই এক তিক্ত স্মৃতি।

অভিনয় জীবনে মুম্বাই যাওয়ার স্বপ্ন সবারই থাকে, ইন্দ্রাণীরও ছিল। সুযোগও পেয়েছিলেন। কিন্তু সেই ছবির প্রযোজক যা করেছিলেন, সেই ভয়াবহ ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে এখনও হাত-পা কেঁপে ওঠে এ অভিনেত্রীর।

ইন্দ্রাণী বলেন, তখন আমার বয়স ২০। আমার সঙ্গে শুটিংয়ে মা-বাবাও যেতেন। শুটিংয়ে প্রথম শিডিউলে আমার মা গিয়েছিলেন। দু’জনকে ভালো হোটেলে রাখা হয়। কিন্তু সমস্যাটা হয় দ্বিতীয় শিডিউলে।

এই অভিনেত্রী জানান, সেই সময় তার সঙ্গে বাবার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাদের টিকিট কাটা হয় একটি সকালের আরেকটি বিকেলের। শুধু তাই নয়, হোটেলের পরিবেশ দেখেই মনে সন্দেহের দানা বাঁধতে শুরু করে তার। সন্দেহ সত্যিতে পরিণত হয় যখন তিনি জানলেন আজ তার কোনো শুটিং নেই।

এমন পরিস্থিতিতেই দুপুরে প্রযোজকের ফোন পান ইন্দ্রাণী। প্রযোজক জানান, দুপুরে ইন্দ্রাণীর সঙ্গে কথা বলতে হোটেলে আসবেন। তা শুনেই ঘাবড়ে গিয়েছিলেন ইন্দ্রাণী। দুপুর গড়াতেই প্রযোজক ইন্দ্রাণীর হোটেল রুমে চলে আসে। ‘কাস্টিং কাউচ’-এর সে মুহূর্তের কথা জানাতে গিয়ে ইন্দ্রাণীর এখনও হাত পা কেঁপে ওঠে।

এ অভিনেত্রীর ভাষায়, রুমে ঢুকেই আমার সঙ্গে অসভ্যতা করার চেষ্টা করেন তিনি। নিজের জামাকাপড় খোলার চেষ্টা করেন। আমার হাত ধরেও টানাটানি শুরু করেন। এক মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছিল, আমায় ধর্ষিতা হতে হবে? হাত-পা সহায় ছিল। সেই যাত্রায় প্রযোজকের স্ত্রীর ফোন আমায় বাঁচিয়ে নেয়। তবে সেই প্রযোজক বলেছিলেন, আমার জীবনে কখনও উন্নতি হবে না। বড় বড় নায়িকা আপস করতে দু’মিনিটও ভাবেন না। কিন্তু আমি কখনও আপস করতে রাজি ছিলাম না।

এই ঘটনার পর মিডিয়ায় অনেক সময় পাড়ি দিয়েছেন। মুম্বাইয়ের ধারাবাহিকেও দর্শক দেখেছেন ইন্দ্রাণীকে। ব্যক্তিগত জীবনে সফল হওয়ার পাশাপাশি পেশাগত জীবনেও সফল আপসহীন এ অভিনেত্রী। কিছু দিনের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে তার নতুন রিয়্যালিটি শো। তবে এত সফলতার মাঝেও কিছু বিস্মৃতি যেন এখনও ভুলতে পারেন না তিনি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles