-5.3 C
Toronto
বুধবার, ফেব্রুয়ারী ১, ২০২৩

৫০০ রূপি সাহায্য চেয়ে পেলেন ৫৫ লাখ

 

৫০০ রূপি সাহায্য চেয়ে পেলেন ৫৫ লাখ
গিরিজা হরিকুমার বাঁয়ে সুভদ্রার জন্য সাহায্য চেয়ে গত শুক্রবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছিলেন

ক্ষুধার্ত বাচ্চাদের খাবার কিনে দেওয়ার জন্য সাহায্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেন ভারতীয় এক নারী। এর পর ওই নারীর জন্য লাখ লাখ রূপি সাহায্য পাঠিয়েছে বহু অচেনা মানুষ। খবর বিবিসির।

- Advertisement -

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কেরালা রাজ্যের ৪৬ বছর বয়সী অধিবাসী সুভদ্রা তার স্বামী মারা যাওয়ার পর অন্ন সংস্থান করতে পারছিলেন না। খাদ্য কেনার জন্য সুভদ্রা তার ছেলের শিক্ষিকার কাছে মোটে ৫০০ রূপি সাহায্য চেয়েছিলেন।

তার এই দুরবস্থা দেখে ওই শিক্ষিকা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্য চেয়ে একটি প্রচারণা শুরু করেন। গত রোববার নাগাদ ওই পরিবারটি ৫৫ লাখ রূপি সাহায্য পেয়েছে।

গত অগাস্ট মাসে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকেই অন্ন সংস্থান করতে হিমশিম খাচ্ছেন সুভদ্রা। তিনি শুধু তার এই নামটুকুই বলেছেন। তিনি কোনো চাকরি খুঁজতে পারছিলেন না। কারণ তার তিন ছেলের মধ্যে ছোটটি সেরেব্রাল প্যালসিতে আক্রান্ত। তাকে সারাক্ষণ দেখাশোনা করতে হয়।

গত শুক্রবার সুভদ্রা তার মেজ ছেলের স্কুলের শিক্ষিকা গিরিজা হরিকুমারের কাছে গিয়ে বলেন, ছেলেদের খেতে দেওয়ার মতো কিছু আর নেই তার ঘরে। হিন্দি ভাষার শিক্ষিকা হরিকুমার বিবিসিকে বলেন, তিনি তার ছাত্র অভিষেকের কাছে আগেও জানতে চেয়েছিলেন যে বাবার মৃত্যুর পর তারা কোন সমস্যায় আছে কি না। কিন্তু এই প্রথম অভিষেক বা তার মা সাহায্যের হাত পেতেছে।

হরিকুমার বলেন, আমি তাকে এক হাজার রূপি দেই এবং বলি যে আমি কিছু একটা করব। তারপর তিনি তাদের বাড়িতে যান এবং দেখতে পান তারা হতদরিদ্র অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

“তাদের রান্নাঘরে সামান্য কিছু খাদ্যশস্য আছে, শিশুদের খাওয়ার মত কিছু নেই”, বলেন হরিকুমার। তিনি আরও বলেন, তখন আমি ভাবলাম, সুভদ্রাকে সামান্য কিছু সাহায্য দেওয়ার কোনো মানে নেই। কারণে এতে তার পরিবারের তেমন কোনো উপকার হবে না।

শুক্রবার সন্ধ্যাবেলায় পরিবারটির অবস্থা জানিয়ে ফেসবুকে একটা পোস্ট লেখেন হরিকুমার। তিনি সবার কাছে আহ্বান জানান সম্ভব হলে কিছু সাহায্য সহযোগিতা করতে।

ওই পোস্টে সুভদ্রার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নম্বরও উল্লেখ করে দেন হরিকুমার যাতে সাহায্য সরাসরি সুভদ্রার কাছে গিয়েই পৌঁছায়। সোমবারের মধ্যে পোস্টটি ভাইরাল হয়ে যায়। এরই মধ্যে সুভদ্রার অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে ৫৫ লাখ রূপি।

এই টাকার কিছুটা সুভদ্রাদের অসমাপ্ত বাড়ির কাজ শেষ করতে খরচ হবে যে বাড়িটার কাজ তার স্বামী মৃত্যুর আগে শুরু করে গিয়েছিলেন। বাকিটা ব্যাংকেই জমা থাকবে তাদের খরচ চালানোর জন্য। সাহায্য করার আবেদনটি এখন অবশ্য সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles