4.1 C
Toronto
রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৩

কী হবে ১০ ডিসেম্বর ?

কী হবে ১০ ডিসেম্বর ?
ফাইল ছবি

বাংলাদেশে সামরিক ক্যু হয়েছে প্রধানত দুটি। প্রথমটি হয়েছিল ১৯৭৫ সালের ১৫ ই আগষ্ট আর দ্বিতীয়টি হয়েছিল ১৯৮১ সালের ৩০ শে মে। ১৯৭৫ সালে আরো ক্যু পাল্টা ক্যু হয়েছিল কিন্তু সেগুলি একটি বড় ক্যুর ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া হিসাবেই ইতিহাসে আলোচিত হয়ে থাকে।

আর বাংলাদেশে স্বাধীনতা উত্তর গন-অভ্যুত্থান সংগঠিত হয় প্রধানত দুটি। প্রথমটি সংগঠিত হয়েছিল ১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের মাধ্যমে আর দ্বিতীয়টি সংগঠিত হয়েছিল কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতি আদায়ের মাধ্যমে। দ্বিতীয় গন-অভ্যুত্থানের ক্ষেত্রে খেলেদা জিয়া সরকারের সরাসরি পতন না হলেও তৎকালীন সরকার পার্লামেন্টে কেয়ারটেকার সরকার পদ্ধতির বিল পাস করতে বাধ্য হয়েছিলেন। এরপর ১৯৯৬ সালে কেয়ারটেকার সরকারের অধিনে যে নির্বাচন হয়েছিল তাতে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে।

- Advertisement -

এরপর সামরিক-বেসামরিক মিশ্রনে একটি অভ্যুত্থান সংগঠিত হয় তাতে ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকারের সেনা সমর্থিত স্বল্পকালীন সরকার গঠিত হয়। ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন সরকার গঠিত হবার আগে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে প্রধান বিচারপতি কে এম হাসানের কেয়ারটেকার প্রধান হবার বিরোধিতা করে আন্দোলন চলছিল। পরে তুমুল আন্দোলনের মুখে কে এম হাসান কেয়ারটেকার প্রধানের পদ গ্রহনে অস্বীকৃতি জানায়। এরপর রাষ্ট্রপতি ইয়াজুদ্দিন কেয়ারটেকারের দায়িত্ব গ্রহন করেন। প্রথম দিকে আওয়ামী লীগ কেয়ারটেকার প্রধান হিসাবে ইয়াজুদ্দিনকে মেনে নিলেও পরবর্তীতে তার নিরপেক্ষতার বিষয়ে প্রশ্ন তুলে পুনরায় আন্দোলন সংগঠিত করে। এরপর ইয়াজুদ্দিন পদত্যাগ করেন এবং অর্নিদিষ্টকালীন জরুরী অবস্থা ঘোষণার মধ্য দিয়ে ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিনের সামরিক-বেসামরিক সরকার গঠিত হয়।

এই হচ্ছে স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের সামরিক ক্যু এবং গন-অভ্যুত্থানের অতি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস।
এত ভূমিকার কারন হচ্ছে, আগামী ১০ ই ডিসেম্বর বাংলাদেশে কিছু একটা হতে যাচ্ছে বলে বহু আগে থেকেই নানা গুঞ্জন শাখা-প্রশাখা বিস্তার লাভ করেছে।

বিএনপির নেতা আমানুল্লাহ আমানের বক্তিতা থেকে এর সূত্রপাত। তিনি তার বক্তিতায় বলেছিলেন, আগামী ১০ ই ডিসেম্বরের পর দেশ খালেদা জিয়ার কথায় চলবে। পরে অবশ্য তিনি তার এই অবস্থান থেকে সরে এসেছেন। বুঝতে অসুবিধা হয় না, এই ধরনের বক্তব্য আসলে মাঠ গরম করার বক্তব্য। নেতা কর্মিদের মনোবল চাংগা করার জন্য এক ধরনের স্টান্টবাজীর বক্তব্য। মির্জা ফখরুল ইসলাম সাহেব অবশ্য এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, দুমাস ব্যাপী বিভিন্ন জেলায় বিএনপির বিভাগীয় গনসমাবেশ হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকা বিভাগীয় গন-সমাবেশের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটবে।

লেখাটির ভূমিকায় বাংলাদেশে সামরিক ক্যু এবং গন-অভ্যুত্থানের একটি সংক্ষিপ্ত ইতিহাস দেওয়া হয়েছে।
এই ভূমিকার কারন হচ্ছে, বাংলাদেশে আসলে বর্তমানে সামরিক ক্যু এবং গন-অভ্যুত্থান হবার মতো কোন রকম পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। বিশ্ব প্রেক্ষাপট বর্তমানে একেবারেই সামরিক ক্যুর অনূকূলে নয়। সামরিক বাহিনীর কর্মকর্তারা ভালোভাবেই জানে কোন ধরনের সামরিক অভ্যুত্থান বর্তমানে বিশ্বের কোথাও সমর্থন পাবে না।
আর গন-অভ্যুত্থান সংগঠিত হবার মতো যেসব অনুষংগ প্রয়োজন তার কোনটিই বর্তমানে নেই। অতীতের গন-অভ্যুত্থানগুলির চুলচেরা বিশ্লেষণ করলে দেখা যে , অভ্যুত্থানগুলিতে ব্যাপক জন সম্পৃক্ততা ছিল। সিভিল প্রশাসন ভেংগে পড়েছিল। প্রশাসনের অনেকেই সরকার পক্ষ ত্যাগ করে গন-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিল। সামরিক-আধা সামরিক বাহিনীর বিরাট অংশ সরকারের পক্ষাবলম্বন না করে বরং নিরপেক্ষ অবস্থান নিয়েছিল।

বিএনপির প্রধান সমস্যা রাজপথে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জিয়া পরিবারের কেউ স্ব-শরীরে উপস্থিত নেই। সব কিছু চালিত হচ্ছে প্রবাস থেকে আসা নির্দেশনার মাধ্যমে। বর্তমানে যারা মাঠ পর্যায়ে নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের পক্ষে গন-মানুষকে সম্পৃক্ত করে গন-অভ্যুত্থান সংগঠিত করা সম্ভব নয়।

তাই ১০ ই ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির একটি বড় সমাবেশ হওয়া ছাড়া আর তেমন কিছুই হবে না। আর সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী সমেবেশটি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে হলে সমাবেশটির গন জামায়েত অনেক ছোট দেখা যাবে।

স্কারবোরো, কানাডা

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles