4.1 C
Toronto
রবিবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৩

জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, অন্তরঙ্গ ছবি পোস্টারিং

জাবি শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ, অন্তরঙ্গ ছবি পোস্টারিং
ছবি সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) সহকারী প্রক্টর ও পাবলিক হেল্থ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান জনির বিরুদ্ধে একাধিক প্রাক্তন ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে ওই ছাত্রীর সাথে জনির অন্তরঙ্গ ছবি পোস্টারিং করা হয়েছে। এর পরই বিষয়টি ভাইরাল হয়ে ‘টক অব ক্যাম্পাস’ পরিণত হয়। এরপর একে একে বর্তমান-প্রাক্তনসহ ৪ ছাত্রীর সাথে জনির অন্তরঙ্গ ছবি প্রকাশ্যে আসে।

এদিকে মাহমুদুর রহমান জনির অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও শিক্ষক নিয়োগে অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা তদন্তপূর্বক তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও জাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

- Advertisement -

জানা গেছে, সম্প্রতি বিভাগে প্রভাষক পদে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত সাবেক এক ছাত্রীর সাথে জনির এক অন্তরঙ্গ ছবি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের দেয়ালে পোস্টারিং করা হলে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। পরে ছাত্রলীগের একাধিক সাবেক নেতাকর্মী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তাদের বিভিন্ন পোস্টে জনির অতীতের অনৈতিক কর্মকান্ডের বিবরণ তুলে ধরে শাস্তির দাবি জানায়।
এতে দাবি করা হয়, অভিযুক্ত জনি ২০১২ সালে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের পদ-পদবি, বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরি ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। ইতোমধ্যে এ সম্পর্কিত একাধিক অডিও রেকর্ড, স্ক্রিনশট ও ছবি এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অডিও রেকর্ড সূত্রে জানা যায়, বিভাগটির সাবেক এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের পরে গর্ভধারণ করলে তিনি তাকে জোরপূর্বক গর্ভপাতে বাধ্য করেন। এছাড়াও ১৪ বছর আগে ভিন্ন ধর্মের তার এক সহপাঠী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপককে বিশেষ আইনে গোপনে বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের বিষয়ে এই শিক্ষিকা বলেন, ‘বিশেষ আইনে বিয়ের বিষয়টি আমার একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার। সেটি প্রকাশ করতে চাচ্ছিনা।’

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সজিব কুমার সাহা বলেন, ‌‌‘জনির সঙ্গে দীর্ঘদিন রাজনীতি করার দরুন আমি জানি, সে ছাত্রনেতা ও শিক্ষক থাকা অবস্থায় একাধিক ছাত্রলীগ নেত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। পাশাপাশি সে নিয়োগ ও ভর্তি বাণিজ্যের সঙ্গেও জড়িত ছিল।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বঙ্গবন্ধু শিক্ষক পরিষদের একজন সাবেক শিক্ষক নেতা বলেন, ‘এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরিবিধি অনুসারে ২ এর ঘ, ৩ এর জ এবং ৪ এর ঘ মোতাবেক ‘নৈতিক অসচ্চরিত্র’ ও ‘অসদাচরণ’ সংঘটিত হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগরে শিক্ষক ও কর্মকর্তা নিয়োগে প্রশাসনের স্বেচ্ছাচারিতা এই ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে।’

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পাবলিক হেলথ এন্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের এক ছাত্রী বলেন, ‘আমাকে শিক্ষক বানানোর প্রলোভন দেখিয়ে কুপ্রস্তাব দেয় জনি। আমি সবকিছু না জেনে রাজিও হয়েছিলাম। পরে জানতে পারি জনি বিবাহিত এবং একাধিক নারীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। এরপর জনির কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় যোগ্যতা ও পদ খালি স্বত্ত্বেও আমাকে শিক্ষক হিসেবে নেওয়া হয়নি। উপরন্তু যাকে নেয়া হয়েছে তার সঙ্গে জনির অন্তরঙ্গ ছবি ফাঁস হয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও যোগ্য প্রার্থী ছিল।’

২০১২ সালের ওই কমিটির শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহমেদ রাসেল বলেন, ‘জনির এধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকা ছাত্রলীগের জন্য বিব্রতকর। এটা নৈতিকতার চরম অবক্ষয়। এগুলো সত্য প্রমাণিত হলে তার শাস্তি হওয়া উচিত।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী বলেছেন, এই শিক্ষককে প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হলে ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের কাছে বিভিন্ন নিপীড়নের অভিযোগ করতে সাহস পাবেন। শিক্ষকতার মতো মহান পেশাককে তিনি প্রতিনিয়তই কুলষিত করছেন।

এদিকে আজ সোমবার মাহমুদুর রহমানের অনৈতিক সম্পর্ক ও শিক্ষক নিয়োগে অসদুপায় অবলম্বনের ঘটনা তদন্তপূর্বক তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টরের পদ থেকে অপসারণের দাবি জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম ও জাবি সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট।

এসব বিষয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘কল রেকর্ড, ফেসবুকে পোস্ট, পোস্টারিং এগুলো সব আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করতে প্রোপাগাণ্ডা চালানো হচ্ছে। সাংবাদিকদেরও উচিত সত্য উদঘাটন করে তারপর উপস্থাপন করা।’

এবিষয়ে জানতে অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হওয়া অভিযুক্ত ওই শিক্ষিকাকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

বিষয়টি নিয়ে মন্তব্য জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নূরুল আলমের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles