5.6 C
Toronto
মঙ্গলবার, ডিসেম্বর ৬, ২০২২

প্রেমিক না আসার অভিমানে বিষপান করলেন তিন বান্ধবী

প্রেমিক না আসার অভিমানে বিষপান করলেন তিন বান্ধবী

ফোন ধরছিল না প্রেমিক। প্রথমে অভিমান হলেও, বছর ষোলোর কিশোরী পরে জেদ ধরে বসে- এর শেষ দেখেই ছাড়বে। কিন্তু প্রেমিকের বাড়ি যে ১০০ কিলোমিটার দূরে ইন্দোরে! প্রিয় দুই বান্ধবীকে নিয়ে স্কুল পালানোর ছক কষে মধ্যপ্রদেশের সেহোর জেলার আস্তা শহরের ওই কিশোরী। শুক্রবার সাতসকালে প্ল্যানমাফিক তিন বন্ধু মিলে চলেও আসে ইন্দোরে।

- Advertisement -

ছেলেটি কোথায় থাকে, এলাকাটা মোটামুটি জানা ছিল। সেখানকার একটি পার্কে বসে পড়ে তিন কিশোরী। কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষাই সার! ফোনও ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে প্রেমিকের। চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করে সঙ্গে আনা বিষের বোতল খুলে সরাসরি গলায় ঢালে কিশোরী প্রেমিকা! অন্তরঙ্গ বন্ধুর দেখাদেখি একই কাণ্ড ঘটায় বাকি দুই কিশোরীও। পার্কের বেঞ্চে তিন কিশোরীকে কাতরাতে দেখে স্থানীয়রাই পুলিশে খবর দেন। পুলিশ তিন কিশোরীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও দু’জনকে বাঁচানো যায়নি। তৃতীয় জন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।

শুধুই কি প্রেমে প্রত্যাখ্যান, আর বন্ধুর জন্য শোক? নাকি ওই তিন কিশোরীর একসঙ্গে বিষ খাওয়ার পিছনে অন্য কোনও কারণ রয়েছে, সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তিন কিশোরীর পরিবারকেই ইন্দোরে ডেকে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তৃতীয় কিশোরীর সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জানতে পেরেছে- প্রেমিক ছেলেটি কেন ফোনের উত্তর দিচ্ছে না, তার সঙ্গে সরাসরি দেখা করেই তা জানতে চেয়েছিল তাদের বান্ধবী।

বন্ধুর পাশে দাঁড়াতে স্কুল পালানোর সিদ্ধান্তও নেয় তারা। এমনকী, ছেলেটি যদি দেখা করতে না-আসে, তা হলে তিন জন একসঙ্গে বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্তও নেয় তারা। সেই মতো বাড়িতে কাউকে কিছু না-বলে বিষ কিনেই ইন্দোরে আসে তারা।

ইন্দোর পুলিশের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার প্রশান্ত চৌবে সংবাদমাধ্যমকে জানান, মনে করে হচ্ছে প্রেমে প্রত্যাখানের জেরেই আত্মহত্যা করেছে এক কিশোরী। তার সঙ্গে আসা আর এক কিশোরীর বাড়িতে সম্ভবত কোনও একটা কারণে তীব্র অশান্তি চলছিল। তার উপর প্রাণের বন্ধুকে অপমানিত হতে দেখা- সে-ও বিষ খায়।

দুই বান্ধবীকে একই কাণ্ড ঘটাতে দেখে কার্যত দিশেহারা হয়ে বিষের বোতল খুলে গলায় ঢালে তৃতীয় জনও। এখনও যদিও বেঁচে রয়েছে সে। কারও কাছ থেকেই কোনও সুইসাইড নোট মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয়দের দাবি, তিন কিশোরীকে পার্কের বেঞ্চে কাতরাতে দেখে রীতিমতো হইচই পড়ে যায় এলাকায়। একটা সময় পরে বেঁহুশও হয়ে পড়ে তারা। পুলিশ তাদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে এম ওয়াই হাসপাতালে তিন জনকেই স্থানান্তরিত করা হয়। চিকিৎসা চলাকালীন মৃত্যু হয় দুই কিশোরীর।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles