4.6 C
Toronto
সোমবার, ডিসেম্বর ৫, ২০২২

একজন হাসান মাহমুদ ও আলো দিয়ে যাই সম্মাননা : দুটি কথা

একজন হাসান মাহমুদ ও আলো দিয়ে যাই সম্মাননা : দুটি কথা
হাসান মাহমুদ

কেউ যদি এক বাক্যে হাসান মাহমুদ সম্পর্কে আমার উপলব্ধি জানতে চান- উত্তর হবে : একজন পূর্ণপ্রাণ শুদ্ধ সংস্কৃতিবান দেশপ্রেমিক মানুষ। পাঁচটি শব্দ আমি ব্যবহার করেছি অতি সতর্কতার সঙ্গে আমার বিবেচনায়।
দীর্ঘ বছর থেকে তাঁকে চিনি। জানি। একটা সময় ছিল আমাদের এক কথাসাহিত্যিক বন্ধুর বাসায় আড্ডা হতো। কবি শিল্পী সাহিত্যিক আবৃত্তিকার সেখানে উপস্থিত থাকতেন। মূলত এই আড্ডাটি ছিল আমাদের বন্ধুবলয়ের মধ্য সীমাবদ্ধ। অনেকেই তাঁদের নিজের লেখা পাঠ করতেন। পাঠ শেষ হলে চুল-ছেঁড়া বিশ্লেষণ করা হতো সেই লেখার।

কথার পিঠে অনেক বাড়তি কথাও চলে আসতো আলোচনায়। অনেকেই হয়তো প্রসঙ্গক্রমে একজনের কথার সমর্থনে অথবা দ্বিমত পোষণ করার ইচ্ছেয় আরেকজনের কথা কেড়ে নিয়ে তার নিজের দ্বিমত অথবা সমর্থনের কথাটি বলতেন বা বলতে চাইতেন। কোন আসরেই, কোন পরিসরেই, কোন বিষয়েই হাসান ভাইকে আমি এরকমটি করতে দেখিনি। নিজের ভিতরে এক অসামান্য স্থিতধীকে তিনি লালন করতে জানেন। পারেন। প্রগলভতা, বাকচতুরতাকে তিনি নিয়ন্ত্রণ করতে জানেন। অপ্রয়োজনীয় একটি বাক্য দূরে থাক, একটি শব্দও উচ্চারণ না করার কৌশল হাসান ভাইয়ের অধীনে। অথচ, কে না জানে আমাদের চেনা পরিসরের অনুষ্ঠানাদিতে, আসরে বা চেনা বলয়ের একান্ত বৈঠকে মূলের গভীরে গিয়ে প্রশ্নাতীতভাবে হাসান ভাইয়ের কথা বলার যোগ্যতা।

- Advertisement -

বলতে দ্বিধা নেই যে, আজ আমি এই উপসংহারে উপনীত হয়েছি হাসান মাহমুদ বিশ্বাস করেন কাজে। এবং শুধুমাত্র কাজে। আমার মাঝে মাঝে বিস্ময় লাগে কতটুকু নিখাঁদ দেশপ্রেমিক হলে একজন মানুষের মধ্যে দেশের সাফল্য-ব্যর্থতায় কত গভীর আনন্দ-বেদনায় উদ্বেলিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন! আরো বিস্ময় জাগে সঙ্গীত কিংবা কাব্যকলার শুদ্ধতার তাল মাত্রা রূপ ও ছন্দ, বর্ণ কিংবা শব্দের আটপৌরে অর্থ ছাড়িয়েও এর সৌরভ ও সৌন্দর্য সম্পর্কে হাসান ভাইয়ের গভীর অভিনিবেশ ও চর্চার অধিকার দেখে। এতো গেল একজন সংস্কৃতিবান হাসান মাহমুদের করোটিতে ধারণ করা আনন্দের গভীর ঢেউয়ের কোলাহল বা একান্ত নিমগ্নতার আনন্দ৷ এবার অন্য একটা বিষয় উল্লেখ করি৷

আমাদের মাতৃভূমি বাংলাদেশে নানান ধর্মের মানুষের বসবাস। হাজার বছর ধরে পরস্পরের প্রতি সম্মান শ্রদ্ধা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখেই এই মাটিতে মানুষ বসবাস করছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও এক কাতারে দাঁড়িয়ে, একই ক্ষেতের আল ধরে হেঁটে গিয়ে, একই খাল বিল নদী পাড়ি দিয়ে সকল ধর্মাবলম্বী মানুষ যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় ধর্ম যেমন তখন প্রাধান্য পায়নি, লঘু হওয়ায় কেউ অবহেলিতও হয়নি। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য হাজার বছর থেকে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের বসবাস করা আমাদের এই মাতৃভূমিকে একটি শ্রেণীগোষ্ঠী শারিয়া আইন প্রবর্তন করার রাজনৈতিক চতুর উদ্দেশ্যে মেতে উঠেছে।

বিজ্ঞানের এই চরম উৎকর্ষতার পেছনে নারী পুরুষ উভয়ের সমান ভূমিকা আছে৷ শিক্ষা, সংস্কৃতি, শাসন, রাষ্ট্র পরিচালনা ইত্যাদি এহেন কোন ক্ষেত্র নেই, যেখানে নারীর সমান ভূমিকা নেই৷ এমনকি ক্ষেত্রবিশেষে নারীর যোগ্যতা ও সাফল্য পুরুষের যোগ্যতা ও সাফল্যকেও ছাড়িয়ে গেছে। শারিয়া আইনে নারীর এই সমতা বা অধিকার কীভাবে বিবেচনা করে বা শারিয়া আইনে বিশেষ করে নারীর অধিকার কতটুকু বিস্তার বা সীমাবদ্ধ হাসান মাহমুদ দীর্ঘ বছর থেকে গভীর অভিনিবিষ্ট গবেষণার মাধ্যমে বিশ্লেষণ করেছেন, তুলে ধরেছেন। এমনকি এর প্রভাব কতটুকু বিস্তার লাভ করতে পারে, এর হাত কতটুকু লম্বা বা প্রসারণযোগ্য, সেই ইঙ্গিত দিয়ে আশংকা প্রকাশ করেছেন। এই কাজগুলো করতে গিয়ে হাসান ভাইয়ের জীবন বিপন্ন হয়েছে৷ এক অশুভ অদৃশ্য ঘাতক হাত তাঁকে অনুসরণ করছে৷ কিন্তু হাসান মাহমুদ দমে যাননি। শারিয়া আইনের গভীর বিশ্লেষক হিসেবে তিনি আজ সারাবিশ্বে পরিচিত। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পণ্ডিতদের নানা সংগঠনের সঙ্গে তিনি যুক্ত। মানুষের জীবনে সত্য ও সুন্দরের শুদ্ধ ও সত্যিকার আলোক-কণার দিকে তিনি ধাবমান। নিজে ধাবিত হয়ে আলোকপ্রাপ্তিকে তিনি পূর্ণতা ভাবেন না বলেই, অজ্ঞ আমাদেরকেও তিনি সঙ্গে নিতে চান। প্রতিনিয়ত কাজের মাধ্যমে তিনি দেখাতে চেয়েছেন ধেয়ে আসা অন্ধকার ও এর কুপোকাত থেকে আমাদের মুক্তির পথ ও কাঁধে দায়িত্বের খতিয়ান।

হাসান মাহমুদের মতো একজন আলোকিত মানুষকে সম্মানিত করতে উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন টরন্টোয় নবগঠিত সংগঠন – আলো দিয়ে যাই৷ তাদের এই প্রস্তাবনা ও সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। আলো দিয়ে যাই একজন আলোকপ্রাপ্ত মানুষকে সম্মানিত করে নিজেরাই সম্মানিত হবেন, এ আমার বিশ্বাস।

অভিনন্দন হাসান মাহমুদ, প্রিয় হাসান ভাই। শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন আলো দিয়ে যাই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত বন্ধুদের।

টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles