19.2 C
Toronto
সোমবার, আগস্ট ১৫, ২০২২

টাইগারদের ভয়াবহ সমুদ্রযাত্রা, অসুস্থ হয়ে পড়েন অনেকেই

- Advertisement -
শুরুর হাস্যোজ্জ্বল ছবি পরে মিলিয়ে গেছে -ছবি সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শনিবার (২ জুলাই) ডমিনিকার উইন্ডসর পার্কে টি–টোয়েন্টি সিরিজে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে সেন্ট লুসিয়া থেকে ডমিনিকার উদ্দেশে সমুদ্রযাত্রায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সাক্ষী হলো টাইগার ক্রিকেটাররা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সেন্ট লুসিয়া থেকে ক্রিকেটারদের গন্তব্য ছিল মার্টিনেক হয়ে ডমিনিকা। সেন্ট লুসিয়ার ক্যাস্ট্রিস ফেরি টার্মিনাল থেকে পার্লে এক্সপ্রেসের ফেরি যখন মাঝ সমুদ্রে নামে তখনই শুরু হয় ঢেউ। ফেরি বেশি বড় ছিল না, আর তাই ৬–৭ ফুট উচ্চতার ঢেউয়েই ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

একে মাঝসমুদ্রে উথালপাথাল ঢেউয়ে পড়ার ভয়, সঙ্গে ‘মোশন সিকনেসে’ আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা। বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মুখোমুখি হতে হয়েছে দুই পরিস্থিতির সঙ্গেই। সমুদ্রযাত্রা নিয়ে ভয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের আগে থেকেই ছিল। কারোরই অভিজ্ঞতা ছিল না দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা সমুদ্র পাড়ি দেয়ার! তার ওপর সম্প্রতি আঘাত হানা সাইক্লোনের কারণে সমুদ্রও স্বাভাবিকের চেয়ে উত্তাল ছিল। সব মিলিয়ে বিভীষিকাময় এক অভিজ্ঞতাই হয়েছে ক্রিকেটারদের।

যদিও সমুদ্রযাত্রার শুরুটা খুব হৈ-চৈ করেই কাটিয়েছেন ক্রিকেটাররা। নীল সমুদ্রের বুকে দাঁড়িয়ে সেলফি কিংবা মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ বলতে গেলে সবই করা হয়েছে। কিন্তু ঢেউয়ের তোড়ে ফেরির বড় বড় দুলুনিতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন ক্রিকেটাররা। সবচেয়ে বেশি খারাপ অবস্থা হয়েছে পেসার শরীফুল ইসলাম, উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান নুরুল হাসান এবং ম্যানেজার নাফিস ইকবালের। তাদের অবস্থা দেখে অন্যরা আরও আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।

সেন্ট লুসিয়া থেকে দেড় যণ্টার সমুদ্র পথ মার্টিনেকে ৪০ মিনিটের বিরতিতে নাফিস ও নুরুল কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে উঠলেও শরীফুল মার্টিনেক থেকে ডমিনিকা আসার পথে আবার অসুস্থ হয়ে পড়েন। পলিথিনে মুখ ঢুকিয়ে একাধিকবার বমি করতেও দেখা গেছে তাকে। অস্থিরতা কমাতে এক পর্যায়ে তো গায়ের টি–শার্টটাই খুলে ফেলেন তিনি। এ ছাড়া ভুগেছেন দলের আরও অনেকেই। ভয় ও আতঙ্ক তো ছিলই।

ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার কথা ভেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আগেই সুযোগ ছিল স্বাগতিক বোর্ডের ফেরিযাত্রার প্রস্তাবে রাজি না হয়ে বিমানে ডমিনিকা যাওয়ার প্রস্তাব দেয়ার। সেটি না করে কেন তারা ফেরিতেই ডমিনিকা যাত্রার প্রস্তাবে রাজি হলো, এই প্রশ্ন তুলে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন ক্রিকেটারদের অনেকেই। এ ছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজে এলে অন্য বিদেশি দলগুলো এভাবে সমুদ্রপথে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে যায় না। এমনকি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলও এই প্রথম ফেরিতে এক দ্বীপ থেকে আরেক দ্বীপে গেল।

এক ক্রিকেটার এমনও বলেছেন, এখানে অসুস্থ হয়ে মরলে তো আমরা মরব, কারো তো কিছু হবে না। দলের একজন সিনিয়র ক্রিকেটার বলছিলেন, এত দেশ সফর করলাম, জীবনে এ অভিজ্ঞতা প্রথম। আমরা কেউই এতে অভ্যস্ত নই। এখন যদি ফেরিতেই কেউ মারাত্মক অসুস্থ হয়ে যায় তাহলে কী হবে, খেলা তো পরের কথা। আমার জীবনের সবচেয়ে বাজে সফর।

সমুদ্রযাত্রার বিরতিতে ক্রিকেটাররা ম্যানেজার নাফিস ইকবালকে বলতে থাকেন, তারা সবাই মার্টিনেকে নেমে যাবেন। বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে যেন তাদের বিমানে ডমিনিকা যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। যদিও এত স্বল্প তেমন কিছু করা সম্ভব ছিল না।

তবে এত কিছুর পরেও কেউ কেউ এই ভ্রমণ উপভোগ করেছেন। সাকিব আল হাসানকে বলতে পারেন সেই দলের মধ্যমণি। এনামুল হক, ইবাদত হোসেন আর মোসাদ্দেক হোসেনও মোটামুটি উপভোগই করেছে যাত্রাটা।

 

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles