18.7 C
Toronto
রবিবার, জুন ২৬, ২০২২

নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা

- Advertisement -
নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে অর্থ হাতিয়ে নিতেন তারা
ছবি সংগৃহীত

রাজশাহী মহানগরীতে নারী দিয়ে ফাঁদ পেতে ব্যবসায়ীকে অপহরণ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গতকাল শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টায় রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা এলাকার একটি বাসা থেকে তাদের আটক করা হয়।

আটককৃতরা হলেন রাজশাহী মহানগরীর রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা এলাকার মনিপ (২৭), কবির হোসেন খিচ্চু (৩৩), মুন্না ও তার স্ত্রী হানিফা খাতুন (৩১) এবং কর্ণহার থানার ডাংগের হাট এলাকার বাসিন্দা ফরিদা বেগম (৪০)। তাদের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা ও ৫টি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।

আজ শনিবার বিকেলে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মো. রফিকুল আলম এক সংবাদ সমম্মেলনে এই তথ্য জানিয়েছেন। তিনি জানান, সোহাগ (ছদ্মনাম) সে একজন ভাঙাড়ি ব্যবসায়ী। গত ২৬ মে সন্ধ্যায় অপরিচিত এক নারী তাকে ফোন করে বলেন তার নাম হানিফা খাতুন। তার স্বামী একটি ওষুধ কোম্পানিতে চাকরি করেন। তিনি পরিবারসহ রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা ব্যাংক কলোনী এলাকায় ভাড়া থাকেন। তার ভাড়া বাসায় দুই-তিনটি নষ্ট ফ্যান, একটি পুরোনো সোফাসেট এবং অপ্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র রয়েছে বলে জানান।

পুরাতন জিনিসপত্রগুলো সোহাগের কাছে বিক্রি করতে চান হানিফা খাতুন। সোহাগকে ওই রাতে তার বাড়িতে আসতে বলেন তিনি। তবে সোহাগ রাতে না গিয়ে পরের দিন সকালে যাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু হানিফা তার স্বামীর সঙ্গে পরদিন সকালেই বগুড়ায় বদলি সূত্রে চলে যাবে, এই বলে রাতেই তার বাসার মালামালগুলো দেখে যেতে বলেন।

সোহাগ কথামতো ঠিকানায় পৌঁছালে তাকে বাড়ির নিচতলার একটি কক্ষে নিয়ে যায় হানিফা। রুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই সোহাগকে জড়িয়ে ধরেন ওই নারী। এ সময় ওই রুমে আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলেন প্রতারক চক্রের চার সদস্য। তারা তখন ওই কক্ষে ঢোকেন। এ সময় তারা ওই নারীর সঙ্গে সোহাগের আপত্তিকর অবস্থায় ছবি তোলেন। এরপর সোহাগকে চড়থাপ্পড়, হুমকি ও আপত্তিকর অবস্থায় তোলা ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।

পরবর্তী সময়ে সোহাগের কাছ থেকে ৪ হাজার টাকা আদায় করেন এবং রাতের মধ্যে আরও ৪০ হাজার টাকা দিতে বলেন তারা। পরে বাসায় গিয়ে কোনো উপায় না পেয়ে ধার-দেনা করে প্রতারকচক্রকে ৩০ হাজার টাকা দেন সোহাগ।

এ ঘটনাটি ভুক্তভোগী সোহাগ ডিবি পুলিশকে মৌখিকভাবে জানান। এ অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নামে পুলিশ। এ সময় অভিযুক্তরা সোহাগকে ফোন করেন বাকি টাকার জন্য। পরে টাকা কোথায় নিয়ে আসবে তা জানতে চান সোহাগ। তখন প্রতারক চক্রটি হানিফার ভাড়া বাসায় আসতে বলেন সোহাগকে। এরপর ডিবি পুলিশ সোহাগকে সঙ্গে নিয়ে হানিফার বাসায় গিয়ে আসামিদের হাতেনাতে আটক করে। আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles