15.6 C
Toronto
শনিবার, মে ২৮, ২০২২

‌’এ প্লাস না দিলে বোর্ড-মোর্ড ভেঙে ফেলবানে’

- Advertisement -
‌’এ প্লাস না দিলে বোর্ড-মোর্ড ভেঙে ফেলবানে’ - The Bengali Times
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন

পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভে এসে সমালোচনার মধ্যে পড়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন। শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন বিষয়ে ছয় মাস মেয়াদি কোর্সের পরীক্ষা দেওয়ার সময় ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি লাইভ করেন তিনি। লাইভে ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা চলছে। সবাই লিখছে। আমি বসে আছি। সবাই লিখছে বাংলায়। আমি তো বাংলায় লিখি না, ইংলিশে লিখি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পরীক্ষার হলরুমে ফেসবুক লাইভ দেব। সেই ইচ্ছা আজ পূরণ হলো। ম্যাডামও দেখি আমার ভিডিও করছেন। আমরা ছাত্রলীগ, যেখানে যাব সেখানেই বুলেট।’

লাইভে তিনি বলেন, ‘আমার খাতা দেখবেন ইংরেজিতে মাস্টার্স করা কেউ। স্যাররা ঘুমাচ্ছেন। আমি ইংরেজিতে লিখেছি, সালামও লিখেছে।’ এরপর পাশের শিক্ষার্থীকে তিনি বলেন, ‘দেখি তুই কী লিখেছিস।’ তখন ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলতে থাকেন- ‘না লিখে আমরা এ প্লাস পেতে চাই। ওই পাশে একটা খালা পরীক্ষা দিচ্ছেন।’ ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘পরীক্ষার খাতায় বায়োডাটায় লিখে দিয়েছি ও গ্রুপের জায়গা লিখে দিয়েছি, ‘এমপি আনার গ্রুপ’ করি। স্যাররা এ প্লাস না দিলে বোর্ড-মোর্ড ভেঙে ফেলবানে। জয়ও তা-ই লিখেছে। আমার লাইভটি কালীগঞ্জ ভাইস চেয়ারম্যান দেখছেন। তিনি মন্তব্যে লিখেছেন- ‘গল্প না করে তোরা খাতায় লেখ।’ লাইভে তিনি আরও বলেন, ‘কী সুন্দর হলে পরীক্ষা দিচ্ছি। তোরা তো জীবনে পরীক্ষা দিতে পারবি না। রোজা থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি। গোল্ডেন পাবো, এই দেখ সালামও আছে। পরীক্ষার হলে লাইভে আছি। আমার প্রাণের সংগঠন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এ প্লাস তো পাবই। ম্যাডামরা সবই বলে দিচ্ছেন।’

- Advertisement -

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন মুঠোফোনে জানান, ‘আমি তো পরীক্ষা চলাকালে লাইভ করিনি। পরীক্ষা শেষ হলে ছোট একটা লাইভ করেছি।’

বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান নাজিম বলেন, ‘পরীক্ষার হলে তো লাইভ করা ঠিক না। তবে সাধারণ সম্পাদক লাইভে এসে কী বলেছেন সেটি এখনো আমি জানি না। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ইনচার্জ মাহবুব উল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষা তো পরীক্ষাই। সেখানে ছাত্রলীগ নেতা হোক আর সাধারণ শিক্ষার্থীই হোক কারও ফেসবুক লাইভের সুযোগ নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দেশব্যাপী কম্পিউটার অফিস অ্যাপ্লিকেশন ও গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ে ছয় মাস ও তিন মাস মেয়াদি কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত লিখিত ও সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা হয়।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles