13.1 C
Toronto
বুধবার, মে ২৫, ২০২২

‘এ প্লাস না দিলে বোর্ড-মোড ভেঙে ফেলবানে’ : ছাত্রলীগ নেতা

- Advertisement -

‘এ প্লাস না দিলে বোর্ড-মোড ভেঙে ফেলবানে’ : ছাত্রলীগ নেতা - The Bengali Times

পরীক্ষার হলে ফেসবুক লাইভে এসে মালোচনার মধ্যে পড়েছেন ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন।

- Advertisement -

শুক্রবার (৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে ঝিনাইদহে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে কম্পিউটার অফিস এপ্লিকেশন বিষয়ে ৬ মাস মেয়াদী কোর্সের পরীক্ষা দেওয়ার সময় ৯ মিনিট ৩৮ সেকেন্ডের একটি লাইভ করেন তিনি।

লাইভে ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা চলছে। সবাই লিখছে আমি বসে আছি। সবাই লিখছে বাংলায়। আমিতো বাংলায় লিখি না, ইংলিশে লিখি। অনেক দিনের ইচ্ছা ছিল পরীক্ষার হলরুমে ফেসবুক লাইভ দেব। সেই ইচ্ছা আজ পূরণ হলো। ম্যাডামও দেখি আমার ভিডিও করছেন। আমরা ছাত্রলীগ, যেখানে যাবো সেখানেই বুলেট।’

মনির হোসেন সুমন বলেন, ‘আমার খাতা দেখবেন, ইংরেজিতে মাস্টার্স করা আমার। স্যাররা ঘুমাচ্ছেন। আমি ইংরেজিতে লিখেছি, সালামও লিখেছে। পাশের শিক্ষার্থীকে বলেন, দেখি তুই কী লিখেছিস। তখন ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি বলতে থাকেন- না লিখে আমরা এ+ পেতে চাই। ওই পাশে একটা খালা পরীক্ষা দিচ্ছেন।’

ছাত্রলীগ নেতা বলেন, ‘পরীক্ষার খাতায় বায়োডাটায় লিখে দিয়েছি ও গ্রুপের জায়গা লিখে দিয়েছি, এমপি আনার গ্রুপ করি। স্যাররা এ প্লাস না দিলে বোর্ড-মোড ভেঙে ফেলবানে। জয়ও তাই লিখেছে। আমার লাইভটি কালীগঞ্জ ভাইস চেয়ারম্যান দেখছেন। তিনি মন্তব্যে লিখেছেন, গল্প না করে তোরা খাতায় লেখ।’

লাইভে তিনি আরও বলেন, ‘কী সুন্দর হলে পরীক্ষা দিচ্ছি। তোরাতো জীবনে পরীক্ষা দিতে পারবিনে, রোজা থেকে পরীক্ষা দিচ্ছি। গোল্ডেন পাবো, এ দেখ সালামও আছে। পরীক্ষার হলে লাইভে আছি। আমার প্রাণের সংগঠন কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে সবাইকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এ প্লাসতো পাবোই। ম্যাডামরা সবই বলে দিচ্ছেন।’

এ বিষয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন সুমন মোবাইলে জানান, আমি তো পরীক্ষা চলাকালে লাইভ করিনি। পরীক্ষা শেষ হলে ছোট একটা লাইভ করেছি।

বিষয়টি নিয়ে কালীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল হাসান নাজিম বলেন, পরীক্ষার হলেতো লাইভ করা ঠিক না। তবে সাধারণ সম্পাদক লাইভে এসে কী বলেছেন সেটি এখনও আমি জানি না। বিষয়টি প্রমাণিত হলে তবে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিষয়টি নিয়ে ঝিনাইদহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের একাডেমিক ইনচার্জ মাহবুব উল ইসলাম জানান, পরীক্ষা তো পরীক্ষাই। সেখানে ছাত্রলীগ নেতা হোক আর সাধারণ শিক্ষার্থীই হোক কারো ফেসবুক লাইভের সুযোগ নেই। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এর আগে শুক্রবার সকাল ১০ টা থেকে দেশ ব্যাপী কম্পিউটার অফিস এপ্লিকেশন ও গ্রাফিক্স ডিজাইন বিষয়ে ৬ মাস ও ৩ মাস মেয়াদী কোর্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত লিখিত এবং সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সূত্র : জাগো নিউজ

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles