8.2 C
Toronto
বুধবার, মে ১৮, ২০২২

হত্যাকাণ্ডের আগে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর সাথে যা ঘটেছিল!

- Advertisement -

হত্যাকাণ্ডের আগে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীর সাথে যা ঘটেছিল! - The Bengali Times

দীর্ঘ ২৪ বছর আগে চাঞ্চল্যকর ও বহুল আলোচিত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা মামলার পলাতক ও চার্জশিটভুক্ত আসামি আশিষ রায় চৌধুরী ওরফে বোতল চৌধুরীকে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

- Advertisement -

১৯৯৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর রাত ৩টায় বনানীর ট্রাম্পস ক্লাবের নিচে চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরীকে গুলি করে হত্যা করা হয়। সেই ঘটনায় তার বড় ভাই তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরী বাদী হয়ে গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে বোতল চৌধুরীকে।

র‍্যাব সুত্রে জানা যায়, ১৯৯৬ সালে বনানীর আবেদীন টাওয়ারে গ্রেপ্তারকৃত আশিষ রায় চৌধুরী এবং আসাদুল ইসলাম ওরফে বান্টি ইসলামের যৌথ মালিকানায় ট্রাম্পস ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিকভাবে ৫০ লাখ (দুজন ২৫ লাখ করে) টাকার পুঁজির নিয়ে ক্লাবটি শুরু হয়েছিল।

প্রতিষ্ঠার পর থেকে এই ক্লাবে বিভিন্ন বয়সী মানুষ সন্ধ্যা থেকে শুরু করে ভোররাত পর্যন্ত নানাবিধ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকতো।

পর্যায়ক্রমে এই ট্রাম্পস ক্লাব আন্ডারওয়ার্ল্ড ডন এবং গ্যাং লিডারদের বিশেষ আখড়ায় পরিণত হয়। এখানে সবচেয়ে বেশি যাতায়াত ছিল আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের। তিনি ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ড চক্রগুলোর সাথে বিভিন্ন ধরনের মিটিং বা তাদের পরিচালনার ক্লাবটিতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। সেই সূত্রে বান্টি ইসলাম এবং আশিষ রায় চৌধুরীর সাথে সখ্যতা তৈরি হয় আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের।

আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের ভাতিজিকে বিয়ে করেছেন বান্টি ইসলাম। সেই সূত্রে তাদের মধ্যে ছিল আত্মীয়তার সম্পর্ক। অন্যদিকে বান্টি ইসলাম ও আশিষ রায় যুবক বয়স থেকেই একে অপরের ঘনিষ্ঠ। এক পর্যায়ে আজিজ মোহাম্মদ ভাই, বান্টি ইসলাম ও আশিষ রায় চৌধুরী একসাথে ঢাকার অপরাধ জগৎ পরিচালনা করতো।

সুত্র জানায়, বনানীর আবেদীন টাওয়ারের অষ্টম তলায় অবস্থিত ট্রাম্পস ক্লাবের ঠিক পাশেই ছিল বনানী জামে মসজিদ। যেহেতু ক্লাবটিতে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সারারাত বিভিন্ন ধরণের অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হত, সেহেতু এ নিয়ে আপত্তি তোলে মসজিদ কমিটি ও মুসল্লিরা।

নিহত চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী মসজিদের কমিটি নিয়ে বারবার এ ধরণের অশ্লীলতা বন্ধের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। সোহেল চৌধুরীর এই চেষ্টা ট্রাম্পস ক্লাবের মালিক বান্টি ইসলাম এবং আশিষ রায় চৌধুরীর ব্যবসায়িক স্বার্থে মারাত্মকভাবে আঘাত হানে। আঘাত লাগে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের স্বার্থেও।

১৯৯৮ সালের ২৪ জুলাই আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের সাথে সোহেল চৌধুরীর সরাসরি তর্ক এবং এক পর্যায়ে সাথে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে আজিজ মোহাম্মদ ভাই সোহেল চৌধুরীর ওপর অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন এবং প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য বান্টি ইসলাম ও আশিষ রায় চৌধুরীকে অনুরোধ জানান।

ট্রাম্পস ক্লাবে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তৎকালীন শীর্ষ সন্ত্রাসী সানজিদুল ইসলাম ইমনের। এক পর্যায়ে সোহেল চৌধুরীকে হত্যার প্রস্তাব দেওয়া হয় তার কাছে। পরবর্তীতে চুক্তি অনুযায়ী ইমন হত্যাকাণ্ডটি সম্পন্ন করে।

র‍্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উয়িংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, গত ২৮ মার্চ আশিষ রায় চৌধুরীর নামে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হয়। সে আগামী ৭ এপ্রিল বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে কানাডায় চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করে আশিষ। তবে তার আগেই রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাকে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles