19.8 C
Toronto
শনিবার, মে ২৮, ২০২২

যানজটের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আওয়ামী লীগ নেতা টিপুকে হত্যা

- Advertisement -

যানজটের সুযোগকে কাজে লাগিয়েই আওয়ামী লীগ নেতা টিপুকে হত্যা - The Bengali Times

রাজধানীর শাহজাহানপুরে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম টিপুকে গুলিতে হত্যা করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা কলেজছাত্রী সামিয়া আফরান প্রীতিও গুলিতে নিহত হন।

- Advertisement -

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, ওই এলাকায় তখন যানজট থাকায় হত্যাকারীরা সে সুযোগ কাজে লাগান।

বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ১০টার দিকে শাহজাহানপুরের আমতলা মসজিদ এলাকায় দুর্বৃত্তের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হন টিপু। তাকে বহনকারী মাইক্রোবাস চালক মুন্নাও গুলিবিদ্ধ হন। একই ঘটনায় নিহত হন যানজটে আটকা পড়ে রিকশায় বসে থাকা বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী সামিয়া আফনান প্রীতি (২২)।

জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ফারহানা ইসলাম ডলি এ ঘটনায় মামলা করেছেন।

শুক্রবার সকালে শাহজাহানপুর থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আমার স্বামী মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য ছিলেন। ১০ বছর ধরে বৃহত্তর মতিঝিল থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন দলীয় কোন্দল ছিল। চার-পাঁচ দিন আগে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারী আমার স্বামীকে মোবাইল ফোনে হত্যার হুমকি দেয়’।

তার ধারণা সেই ফোনকলের হুমকির সঙ্গে এ হত্যাকাণ্ডের যোগসূত্র আছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, টিপুর গলার ডান পাশে, বুকের বাম পাশে, বুকের বাম পাশের বগলের কাছাকাছি, পেটের মধ্যে নাভির নিচে, বাম কাঁধের ওপরে, পিঠের বাম পাশের মাঝামাঝি স্থানে, পিঠের বাম পাশের কোমর বরাবর, পিঠের ডান পাশের কোমরের ওপরসহ অন্তত ৯ জায়গায় গুলিবিদ্ধ হন।

নিহত টিপুর স্বজন মেরাজউদ্দিন মেরাজ বলেন, টিপু ভাইসহ আমরা চারজন একটি গাড়িতে শাহজাহানপুরের আমতলা এলাকায় পৌঁছামাত্র দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় গাড়ির ভেতরে থাকা চালকসহ দুজন গুলিবিদ্ধ হন। একজন রিকশারোহীও গুলিবিদ্ধ হন।

একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, রাত ১০টা ২২ মিনিটে টিপু একটি সাদা রঙের নোয়াহ মাইক্রোবাসে করে শাহজাহানপুর আমতলা মসজিদের সামনে থেকে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের দিকে যাচ্ছিলেন। গাড়িটি সাউথইস্ট ব্যাংকের সামনে জ্যামে আটকা পড়ে। বিপরীত দিকের রাস্তায় দুই যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন। টিপুর গাড়ি জ্যামে আটকা পড়ার সঙ্গে সঙ্গে হেলমেটধারী দুই যুবকের একজন এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে তার গাড়ির দিকে ছুটে আসেন। এরপর গাড়ি লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এতে গাড়ির ভেতরেই গুলিবিদ্ধ হন টিপু। এ সময় চালকের হাতে গুলি লাগলে তিনি গাড়ির গতি বাড়িয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

তারা বলেন, শুরুর দিকে ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে আহত হন গাড়ির পাশে রিকশায় থাকা কলেজছাত্রী প্রীতি। ঘটনার পরপরই আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকরা তাদের ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের এক নেতা জানান, গাড়িতে টিপুসহ মোট চারজন ছিলেন। গাড়িচালক মুন্নার পাশের সিটে বসা ছিলেন টিপু। আর পেছনের সিটে ছিলেন মিরাজ ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি। তবে তারা দুজন অক্ষত আছেন। স্থানীয়রা গুলিবিদ্ধদের উদ্ধার করে ঢামেকে আনলে চিকিৎসক রাত ১১টার দিকে টিপু ও প্রীতিকে মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলের আশাপাশে থাকা সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই মাস্ক ও হেলমেট পরিহিত হামলাকারী মোটরসাইকেল থেকে নেমে টিপুকে বহনকারী গাড়ির কাছাকাছি এসে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে। অন্তত ১২ রাউন্ড গুলি করে ঘটনাস্থল থেকে মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে শাজাহানপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঠাকুর দাশ বলেন, খুবই অল্প সময়ে অস্ত্রধারী গুলি করে পালিয়ে যায়।

শুক্রবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গের সামনে উপস্থিত একই মাইক্রোবাসে থাকা টিপুর সহযাত্রী মো. মিজানুর রহমান মিরাজ সাংবাদিকদের জানান, তিনি ঘটনার সময় টিপুর গাড়িতে ছিলেন। তার কাছে মনে হয়েছে ৮০ থেকে ৯০ সেকেন্ডের মধ্যেই হত্যাকারী এলোপাাতাড়ি গুলি করতে থাকে। তারপর দৌড়ে পালিয়ে যায়।

তিনি আরো বলেন, এজিবি কলোনী থেকে রওনা হয়ে শাহজাহানপুর আমতলীর ঘটনাস্থলে আসতে ৮-১০ মিনিটের মতো সময় লাগে। ওইসময় জাহিদুল ইসলাম টিপু চালকের পাশে সামনের সিটে বসে একটি সিগারেট ধরিয়েছিলেন। যানজটের কারণে গাড়ি থেমে গেলে হামলাকারী হেঁটে গাড়ির কাছে এসে গুলি করতে থাকে। গুলি লাগার পর টিপু কোনো কথা বলেননি। গুলি লাগার পর সঙ্গে সঙ্গেই তিনি গাড়ির সিটে লুটিয়ে পড়েন।

তিনি বলেন, টিপু ভাই চালকের পাশে বসা ছিলেন, আমরা পেছনে ছিলাম দুই জন। শুধু বৃষ্টির মতো গুলি আসছিল, আমরা কিছু বুঝতে পারেনি কাউকে চিনতেও পারেনি। গাড়ির দরজার গ্লাসের ওপর দিয়ে গুলি ছোড়া হয়, গুলি গ্লাস ভেদ করে জাহিদুলকে বিদ্ধ করে। এ সময় গাড়ির চালক মুন্নার হাতেও গুলি লাগে। তখন মুন্না এক হাতে গাড়ি চালিয়ে প্রথমে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে যায়, পরে সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আসি।

শাহজাহানপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) মো. জাফর বলেন, জাহিদুল ইসলাম টিপুর স্ত্রী ফারহানা ইসলাম ডলির হত্যা মামলার তদন্তে একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। হত্যার নেপথ্যে থাকা সম্ভাব্য সব কারণ সামনে রেখে খুনি শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

মতিঝিল বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) আবদুল আহাদ বলেন, প্রাথমিক তদন্তে একজন অস্ত্রধারীর তথ্য পাওয়া গেছে, যিনি মোটরসাইকেলে চড়ে হেলমেট পরিহিত অবস্থায় টিপুকে লক্ষ্য করে অন্তত ১২ রাউন্ড গুলি করেছে, যার ৯ রাউন্ড গুলিই টিপুর শরীরে বিদ্ধ হয়েছে। আশা করছি শিগগিরই খুনি শনাক্ত ও খুনের কারণ উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকের করা প্রশ্নের জবাবে র্যাব পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, টিপু খুনের ঘটনায় আমরা বেশ কিছু ফুটপ্রিন্ট সংগ্রহ করেছি। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছি। বেশ কিছু মোটিভও আমরা হাতে পেয়েছি। সেগুলো পর্যালোচনা করছি। ঘটনায় শুটারদের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণের মাধ্যমে সনাক্তের চেষ্টা করছি।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর মতিঝিল এজিবি কলোনি মাঠে জানাজা শেষে টিপুর মরদেহ ফেনীর ফতেপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। টিপুর দুই মেয়ে, এক ছেলে। বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে।

সূত্র : দেশ রূপান্তর

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles