-13.8 C
Toronto
শনিবার, জানুয়ারী ২২, ২০২২

বিয়ের চাপ দেওয়ায় খুন করা হয় শারমিনকে

- Advertisement -
হত্যায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের রাউজানে উদ্ধার করা অজ্ঞাত সেই তরুণীর লাশের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে পুলিশ। গত ২০ নভেম্বর রাউজানের পূর্ব গুজরার মানিক সিকদারপাড়া থেকে ওই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

দীর্ঘ ৫১ দিন পর মঙ্গলবার সেটি শনাক্ত করার পাশাপাশি খুনের ঘটনায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

- Advertisement -

পুলিশ জানিয়েছে, রাউজানে উদ্ধার করা লাশটি কক্সবাজারের কুতুবদিয়াপাড়ার নূর হোসেনের মেয়ে আমেনা বেগম রাহি ওরফে শারমিনের (২২)। পরিবারের সদস্যরাও ছবি দেখে শনাক্ত করেছেন লাশটি শারমিনের। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে শারমিনের কথিত স্বামী নুরুল ইসলাম ওরফে বাদশাও রয়েছে। সোমবার তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে রাতে চট্টগ্রামে নিয়ে আসা হয়।

গ্রেপ্তারের পর শারমিনের কথিত স্বামী নুরুল ইসলাম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।

রাউজান থানা পুলিশ জানায়, শারমিনের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রেমের সম্পর্কের এক পর্যায়ে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে শারীরিক সম্পর্কও গড়ে তোলে নুরুল ইসলাম। এতে শারমিন গর্ভবতী হয়ে পড়েন এবং তাকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন। নুরুল ইসলাম তাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে গর্ভপাত ঘটায়। কিন্তু এর পরও বিয়ে না করায় শারমিন তার বিরুদ্ধে কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।

পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি তুলে নিতে নুরুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যরা চাপ দেয়। এ মামলায় নুরুল ইসলাম জেলে গেলেও শারমিনকে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে আসে। পরে বিয়ে না করে নিকটাত্মীয় আকতার হোসেনকে নিয়ে শারমিনকে হত্যার পরিকল্পনা করে সে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত বছরের ১১ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর লালদীঘির পাড়ের হোটেল গোল্ডেন সিটিতে এনে এক দিন রাখার পর ইপিজেড থানার ফ্রিপোর্ট এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় তোলা হয়।

পরে গত ১৯ নভেম্বর শারমিন ও আকতার হোসেনকে নিয়ে রাউজানেরই চালক মো. মেহেরাজ ওরফে মিরাজের সিএনজি অটোরিকশায় করে কাপ্তাই সড়ক হয়ে চট্টগ্রাম নগরীর দিকে রওনা হয় নুরুল ইসলাম। পথে অটোরিকশার মধ্যেই শারমিনকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও গলাটিপে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে তারা। এর পর তারা শারমিনের লাশ পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের আদার মানিক সিকদার ঘাটার দক্ষিণে রাউজান নোয়াপাড়া সড়কের পাশে ফেলে দিয়ে চলে যায়।

অভিযুক্ত নুরুল ইসলাম শারমিনের বাড়ি কুতুবদিয়াপাড়ারই আবদুল শুক্করের ছেলে। গ্রেপ্তার মো. আকতার হোসেনের বাড়ি (৩৫) ভোলা জেলার মনপুরা থানার দক্ষিণ সাকোচরিয়ায়। অটোরিকশাচালক মো. মেহেরাজ ওরফে মিরাজের (৩০) বাড়ি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার হাতিদিয়া বাজার এলাকার দক্ষিণ আদর্শ গ্রামে।

রাউজান থানার ওসি (তদন্ত) কায়সার হামিদ সমকালকে বলেন, অজ্ঞাতপরিচয় তরুণীর লাশ উদ্ধারের পর মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। ঢাকায় অভিযান চালিয়ে নুরুল ইসলাম বাদশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার তথ্যের ভিত্তিতে অপর দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাউজান থানায় হত্যা মামলা করা হয়েছে। আসামিদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles