-14.8 C
Toronto
শুক্রবার, জানুয়ারী ২৮, ২০২২

প্রখ্যাত সাহিত্যিক ইয়ান মার্টেলের অর্ডার অব কানাডার সর্বোচ্চ ‘কম্পেনিয়ন’ লাভ

- Advertisement -
‘অর্ডার অব কানাডা’র সর্বোচ্চ ধাপ ‘কম্পেনিয়ন’ যে দুজনকে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন লেখক ইয়ান মার্টেল

কানাডার সাহিত্যক্ষেত্রে গভর্নর জেনারেল সাহিত্য পুরস্কার একটি বহু আকাঙ্ক্ষিত বিষয়। প্রতি বছর ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় মোট চৌদ্দটি ক্ষেত্রে দেওয়া এই সাহিত্য পুরস্কারটি ছাড়াও গভর্নর জেনারেলের অফিস থেকে কৃতী কানাডীয়দেরকে জন্যে আরও অনেক পুরস্কার ও পদবী দেওয়ার রেওয়াজ রয়েছে। যেমন রয়েছে সাহসিকতার জন্যে রাস্ট্রের সর্বোচ্চ সম্মান, তেমনি বিজ্ঞান ও মানববিদ্যায় অবদানের জন্যেও বিভিন্ন সম্মাননা রয়েছে। সেগুলোর বাইরে রয়েছে তিনটি ধাপে ‘অর্ডার অব কানাডা’ পদবী। বিশেষ মর্যাদার এই পদবী প্রতি বছর সাধারণত দুই কিস্তিতে দেওয়া হয়ে থাকে। বছর শেষ হবার আগে গত ২৯ ডিসেম্বর নতুন করে ১৩৫ জন বিশিষ্ট কানাডীয়র নামে অর্ডার অব কানাডার জন্যে ঘোষণা করেছেন গভর্নর জেনারেল মেরি সাইমন। ‘অর্ডার অব কানাডা’র সর্বোচ্চ ধাপ ‘কম্পেনিয়ন’ যে দুজনকে দেওয়া হয়েছে তাঁদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার আন্তর্জাতিকভাবে খ্যাতিসম্পন্ন লেখক ইয়ান মার্টেল।

একথা সকলের জানা যে, কানাডায় যে কজন সাহিত্যিক আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেছেন ইয়ান মার্টেল (জন্ম ১৯৬৩) তাঁদের অগ্রগণ্য। ১৯৯৩ সালে তাঁর দুটি গল্পগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। ১৯৯৬ সালে প্রকাশিত হয় প্রথম উপন্যাস ‘সেল্ফ’। ২০০১ সালে প্রকাশিত হয় তাঁর বিশ্ববিখ্যাত উপন্যাস ‘লাইফ অব পাই’। জানা যায়, অসাধারণ সে-উপন্যাস কানাডা থেকে প্রকাশিত হবার আগে ব্রিটেনের অন্তত পাঁচজন প্রকাশক কর্তৃক প্রত্যাখাত হয়েছিল। ২০০২ সালে সেটি ম্যান বুকার পুরস্কার পায় এবং ২০০৩ সালে ‘সিবিসি কানাডা রিডস’-এ অন্তর্ভুক্ত হয়। ধারণা করা হয়, উপন্যাসটি এ পর্যন্ত এক কোটিরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে। গত পনেরো বছরে ইয়ান আরও চারটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।

- Advertisement -

উল্লেখ করা যেতে পারে যে, ১৯৬৭ সালে, কানাডা কনফেডারেশনের শতবর্ষপূর্তিতে রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ কানাডার নাগরিকদের জন্যে অর্ডার অব কানাডা পদবী দেবার ঘোষণা করেন। গত ৫৪ বছরে সংখ্যাটি সাত হাজার ছাড়িয়ে গেছেে। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কানাডীয় নাগরিকদের উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্যে এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়। কেন্দ্রিয় বা প্রাদেশিক রাজনীতিক বা বিচারক বাদে এই স্বীকৃতি সকল কানাডীয়র জন্যেই উন্মুক্ত। ‘অর্ডার অব কানাডা’র ধাপ তিনটি হলো ‘কম্পেনিয়ন’, ‘অফিসার’ ও ‘মেম্বার’। যাঁরা এই স্বীকৃতি পেয়ে থাকেন তাঁদের নামের পাশে সংক্ষেপে যথাক্রমে সিসি, ওসি, এবং সিএম উল্লেখ করা করা। ‘কম্পেনিয়ন’ তাঁদেরকেই দেওয়া হয় যে—কানাডীয়রা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবদান রাখতে সক্ষম হয়েছেন। ‘অফিসার’ স্বীকৃতি জাতীয় পর্যায়ে এবং ‘মেম্বার’ স্বীকৃতি কমিউনিটি পর্যায়ে অবদানের জন্যে দেওয়া হয়। সাহিত্যক্ষেত্রে অবদানের জন্যে ‘অর্ডার অব কানাডা’ পদবীধারী কবি—সাহিত্যিকদের সংখ্যা একেবারে কম নয় – ৩৩৫ জনের মতো।

সাহিত্যক্ষেত্রে রাস্ট্রিয়ভাবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত যে ত্রিশজন অতীতের বছরগুলোতে কম্পেনিয়ন অব দ্য অর্ডার অব কানাডা পেয়েছেন তাঁদের মধ্যে আছেন বহুল পরিচিত এফ আর স্কট, ক্যারল শিল্ডস, পি কে পেইজ, মার্গারেট অ্যাটউড, মাইকেল ওনডাডজী, মেরি ক্লেয়ার ব্লেইজ, রবার্টসন ডেভিস, লিওনার্দো কোহেন, মার্গারেট লরেন্স, মরডেকাই রিচলার এবং গ্যাব্রিয়েল রয়ের মতো লেখকেরা। অর্ডার অব কানাডা প্রবর্তনের পর প্রথম যে লেখক এই পদবী পান তিনি হলেন গ্যাব্রিয়েল রয়। সালটি ১৯৬৭। ফরাসিভাষী এই লেখিকা অনুবাদের মাধ্যমে সারা কানাডায় বিপুলভাবে পরিচিত। আরেক ফরাসিভাষী লিওনার্দো পেয়েছিলেন ২০০২ সালে। যদিও ওই বছরে কম্পেনিয়ন হওয়ার আগেই ১৯৯১ সালে তিনি অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি পান। মার্গারেট লরেন্স পান ১৯৭১ সালে। ১৯৮১ সালে মার্গারেট অ্যাটউড এই স্বীকৃতি পাবার আগে ১৯৭৩ সালে অফিসার হিসেবে নিয়োগ পান। ১৯৮৮ সালে অফিসার হিসেবে নিয়োগ পাওয়া মাইকেল ওনডাডজী কম্পেনিয়ন হন ২০১৬ সালে।

অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া লেখকদের মধ্যে রয়েছেন কানাডার প্রাক্তন পোয়েট লরিয়েট জর্জ এলিয়ট ক্লার্ক। তিনি পান ২০০৮ সালে। ১৯৭১ সালে টরন্টো শহরের প্রথম পোয়েট লরিয়েট হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত ডেনিস লী অফিসার হিসেবে স্বীকৃতি পান ১৯৯৩ সালে। অন্য বহুল পরিচিত অফিসার লেখকেরা হলেন টিমোথি ফিন্ডলে (১৯৮৫), আল পার্ডি (১৯৮২), ফিলিস ওয়েব (১৯৯২), জর্জ বাওয়ারিং (২০০২), অ্যালিসটর ম্যাকলয়েড (২০০৭), লরনা ক্রোজিয়ার (২০১১), রোজমেরি সালিভান (২০১২), ডগলাস কুপার (২০১৩), প্যাট্রিক লেইন (২০১৪), ডিয়োন ব্রান্ড (২০১৭) প্রমুখ।

মেম্বার হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্তদের তালিকাতে আছেন বিশিষ্ট যে সকল কবি—লেখক তাঁদের মধ্যে রয়েছেন পিয়ের বার্টন, রয় মিকি, যোশেফ বয়ডন, লরেন্স হিল, টমাস কিং, জয় কগোয়া, ডেভিড অ্যাডামস রিচার্ডস, এম জি ভাসানজী, রহিনতন মিস্ত্রী, শার্লট গ্রে, এরিখ ওয়ালটারস প্রমুখ।

প্রথামত পূর্বঘোষিত ব্যক্তিরা নির্ধারিত তারিখে গভর্নর জেনারেলের বাসভবনে উপস্থিত থেকে পদক গ্রহণ করেন। কিন্তু সে—প্রথার ব্যত্যয়ও দেখেছে কানাডাবাসী। ২০১৩—তে ঘোষণা হয়েছিল ১৯৬২ সালে গভর্নর জেনারেল পুরস্কারপ্রাপ্ত টরন্টোর লেখক কিলডেয়ার ডবস ‘মেম্বার’ পদে অভিষিক্ত হবেন। কিন্তু নব্বই বছর বয়সী কিলডেয়ার তখন এমনভাবে শয্যাশায়ী যে তিনি যেতে পারেননি। শেষে ফেব্রুয়ারির এক বিকেলে অটোয়া থেকে লেখকের বাড়িতে এসে উপস্থিত হন তৎকালীন গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টন নিজে। নিজে হাতে পদক পরিয়ে দিয়েছিলেন উনিশ শ ষাট ও সত্তরের দশকের গুরুত্বপূর্ণ এই লেখককে। সে—ঘটনার দুই মাসের মধ্যে প্রবীণ এই লেখক প্রয়াত হন।

তবে জানিয়ে রাখা যেতে পারে যে, পদক দেওয়ার পরে, সেটি কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও কিন্তু কানাডায় কম নেই। এ পর্যন্ত এমন উদাহরণ অন্তত সাতটি। বিভিন্ন অন্যায়ের সাথে জড়িত থাকার অপরাধে সেই সাত পদকপ্রাপ্তকে এই বঞ্চনা মেনে নিতে হয়েছে। পদক কেড়ে নেওয়া সাতজন হলেন অ্যালান এগালসান, ডেভিড অ্যাহেনাকু, শের সিং, স্টিভ ফনিও, গার্থ ড্রাবিনস্কি, কনরাড ব্লাক এবং রনজিত চন্দ্র। পদকপ্রাপ্তের পক্ষ থেকে পদক ফেরত দেবার মতো উদাহরণও কিন্তু রয়েছে। একজনকে পদক দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আরেকজনের পদক প্রত্যাবর্তনের উদাহরণও রয়েছে।

অর্ডার অব কানাডা পদক প্রদানের মোটো হিসাবে বলা হয়েছে: “They desire a better country”। উল্লেখ করা যেতে পারে যে, এই শিরোনামে ২০১৭ সালে কানাডা কনফেডারেশনের বছরে একটি বইও প্রকাশ করা হয়েছে। গভর্নর জেনারেলের অফিসের সহযোগিতায় প্রকাশিত লরেন্স স্ক্যালনাল রচিত এ গ্রন্থে বিভিন্ন সময়ের কানাডার বিভিন্ন প্রান্তের মোট পঞ্চাশ জন পদকপ্রাপ্তর গল্প রয়েছে।

ইস্টইয়র্ক, টরন্টো, কানাডা

- Advertisement -

Related Articles

- Advertisement -

Latest Articles