
দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাসে কাটিয়ে জীবনের সঞ্চয় নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন হাফেজ মোস্তফা ফরাজী। স্বপ্ন ছিল, পরিবারের সঙ্গে সুখে-শান্তিতে বাকি জীবন কাটাবেন। সেই আশায় দুবাইয়ে কষ্ট করে উপার্জন করা প্রায় ৫১ লাখ টাকা পাঠিয়েছিলেন স্ত্রীর কাছে। কিন্তু সেই সঞ্চয় আর স্বপ্ন—দুটিই হারিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এখন জীবিকার তাগিদে ঢাকায় রিকশা চালাচ্ছেন এই প্রবাসফেরত।
মঙ্গলবার সকালে ঝালকাঠির রাজাপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নিজের জীবনের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন মোস্তফা। তিনি পাথরঘাটা জ্ঞানপাড়া এলাকার আব্দুল বারেক ফরাজীর ছেলে। বিয়ের পর রাজাপুরে বসবাস শুরু করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মোস্তফা অভিযোগ করেন, দুবাইয়ে অবস্থানকালে বিভিন্ন সময়ে স্ত্রী জোলেখার কাছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা পাঠিয়েছেন তিনি। এ ছাড়া স্বর্ণালংকারও স্ত্রীর কাছে ছিল। কিন্তু তার অভিযোগ, এসব অর্থ ও স্বর্ণালংকার নিয়ে স্ত্রী আংগারিয়া আলগি এলাকার মো. সাইফুলের সঙ্গে চলে গেছেন। এ বিষয়ে রাজাপুর পূবালী ব্যাংকের হিসাবের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্য যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মোস্তফার অভিযোগ, রাজাপুরে তাঁর ১৩ শতাংশ জমি ১২ লাখ টাকায় বিক্রির আলোচনা হয়। জমির দলিল নিবন্ধনের পর তাঁকে দেওয়া হয় ১০ লাখ টাকা। এ নিয়ে বিরোধের জেরে স্ত্রীসহ ১০ থেকে ১২ জন ব্যক্তি তাঁর ওপর হামলা ও মারধর করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা তাঁর উপার্জিত অর্থের হিসাব ও ব্যাংক লেনদেনের নিরপেক্ষ তদন্ত, জমির মালিকানা ও দলিল যাচাই এবং হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও আবেদন করেন তিনি।
তবে মোস্তফার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তাঁর স্ত্রী জোলেখা। তিনি বলেন, রাগ করে মোস্তফাকে তালাক দিয়েছেন তিনি। তাঁর দাবি, মোস্তফা আগে বিয়ে করেছিলেন, পরে তিনি বিয়ে করেছেন। তবে মোস্তফার কোনো টাকা-পয়সা তিনি নেননি।
দীর্ঘ প্রবাসজীবনে কষ্ট করে গড়ে তোলা সঞ্চয় হারানোর অভিযোগ তুলে এখন নিজের জীবিকা নির্বাহের জন্য ঢাকায় রিকশা চালাতে হচ্ছে মোস্তফাকে। তাঁর অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তিনি।

