বাবার বিরুদ্ধে বহুবিবাহ ও নির্যাতনের অভিযোগ তাশরীফের, মুখ খুললেন মা

বাবার বিরুদ্ধে বহুবিবাহ ও নির্যাতনের অভিযোগ তাশরীফের, মুখ খুললেন মা - the Bengali Times
অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এবার বাবার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ

অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর এবার বাবার বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তুলেছেন ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফ। তাঁর দাবি, ছোটবেলা থেকেই বাবা তাঁদের ওপর নির্যাতন চালিয়েছেন এবং মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। একই সঙ্গে বাবার ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগও অস্বীকার করেছেন তাশরীফের মা। তাঁর দাবি, তাশরীফ প্রতি মাসে বাবাকে ২০ থেকে ৩০ হাজার টাকা দিতেন।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে তাশরীফের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত দুটি ভিডিও ও দুটি স্ট্যাটাসের মাধ্যমে এসব অভিযোগ সামনে আসে। একটি ভিডিওতে তাঁর মা বাবার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ করেন। অন্যদিকে, প্রায় ৪২ মিনিটের একটি ভিডিওতে নিজের শৈশব, পারিবারিক দ্বন্দ্ব ও বাবার সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির কারণ তুলে ধরেন তাশরীফ।

- Advertisement -

তাশরীফের মায়ের অভিযোগ, তাঁর স্বামী মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ একাধিক বিয়ে করেছেন। তাঁর দাবি, স্বামী ১৭ থেকে ১৮টি বিয়ে করেছেন। এ ছাড়া সংসারজীবনে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তাশরীফের মা বলেন, ছেলের বিরুদ্ধে বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া ও খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তাঁর দাবি, সম্প্রতি কোনো কারণে টাকা দেওয়া বন্ধ হলেও এর আগে তাশরীফ নিয়মিত বাবাকে অর্থসহায়তা করতেন। তাঁর ভাষ্য, বাবা চান না ছেলে তাঁর চেয়ে বেশি পরিচিতি লাভ করুক।

ফেসবুকের আরেকটি স্ট্যাটাসে তাশরীফ লেখেন, ‘এমন জালিম বাবা যেন পৃথিবীর কারো ভাগ্যে না জোটে।’ মন্তব্যে তিনি নিজের জীবনে নির্যাতন ও কষ্ট সহ্য করার কথাও উল্লেখ করেন।

শৈশবের কষ্টের কথা জানালেন তাশরীফ

দীর্ঘ ভিডিওতে তাশরীফ অভিযোগ করেন, ছোটবেলায় তাঁর বাবা মায়ের ওপর প্রায়ই নির্যাতন চালাতেন। কখনো খাবারে লবণ বেশি হওয়ার মতো তুচ্ছ বিষয় নিয়েও মারধর করা হতো বলে দাবি করেন তিনি। বাবার একাধিক বিয়ে নিয়ে প্রশ্ন তুললেও মাকে নির্যাতনের শিকার হতে হতো বলে জানান তাশরীফ।

তাঁর ভাষ্য, বাবার সঙ্গে বিরোধের কারণে মা একাধিকবার বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হন। পরে তাঁদের সংসার ভেঙে যায়। তাশরীফের বয়স যখন চার-পাঁচ বছর, তখন তাঁকে এতিমখানায় ভর্তি করা হয়। এরপর দাদি তাঁকে লালন-পালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন বলে জানান তিনি।

তাশরীফ বলেন, শৈশবে বাবার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ায় তাঁকে বিভিন্ন মাদ্রাসায় পড়াশোনার সময় অন্যের বাড়িতে থেকে খাওয়া-দাওয়া করতে হয়েছে। কখনো মানুষের বাড়িতে কাজ করে, কখনো অন্যের সহায়তা নিয়ে পড়াশোনা চালিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

কোরআন তিলাওয়াত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার পেলেও সেই অর্থের বড় অংশ বাবা নিয়ে নিতেন এবং তাঁকে প্রয়োজনীয় টাকা দিতেন না বলে অভিযোগ করেন তাশরীফ। তাঁর দাবি, নিজের চেষ্টা ও অন্যের সহযোগিতায় তিনি ধীরে ধীরে পরিচিতি অর্জন করেছেন।

বাবার বিরুদ্ধে পরিচিতি পাওয়ার চাপ দেওয়ার অভিযোগ

তাশরীফের অভিযোগ, বর্তমানে বাবা তাঁর পরিচিতিকে কাজে লাগিয়ে নিজেও জনপ্রিয় হতে চান। বিভিন্ন মাহফিলে তাঁকে সঙ্গে নেওয়া এবং বাবাকে পরিচিত করে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।

তাশরীফ বলেন, বাবা হিসেবে তিনি তাঁর খেদমত করতে চান। তবে বাবার সঙ্গে একই অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া বা তাঁকে নিয়মিত বিভিন্ন মাহফিলে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সব সময় তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।

ভিডিওতে তাশরীফ আরও বলেন, পরিবারের এসব ঘটনা নতুন নয়; কয়েক বছর আগেও তিনি, তাঁর মা, দাদি ও এলাকার লোকজন এ বিষয়ে কথা বলেছেন। পুরোনো ঘটনা নতুন করে প্রচার করে তাঁকে হেনস্তা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

তবে তাশরীফ ও তাঁর মায়ের তোলা অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles