
আদালতের কার্যক্রম শেষে প্রাপ্তবয়স্ক এক তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টার সময় হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়
বগুড়ার আদালত চত্বরে নিজের জিম্মায় মুক্তি পাওয়া ১৮ বছর বয়সী এক তরুণীকে জোর করে মাইক্রোবাসে তোলার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বাবা-মা ও তাঁদের সঙ্গে থাকা লোকজনের বিরুদ্ধে। এ সময় ধস্তাধস্তিতে তরুণীর পোশাক ছিঁড়ে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে। পরে পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
সোমবার বিকেলে বগুড়ার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। তাসনিম রানা তামান্না নামের ওই তরুণী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের একটি মামলায় রাজশাহী সেফ হোম থেকে আদালতে হাজির হয়েছিলেন।
আদালতে তামান্নার বাবা-মা তাঁকে নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার আবেদন করেন। তবে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি তাঁদের সঙ্গে যেতে অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। পরে তাঁর আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক আবু হেনা সিদ্দিকী তাঁকে নিজের জিম্মায় দেওয়ার আদেশ দেন।
আদালত থেকে বের হওয়ার সময় নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন তামান্না। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় আদালত ভবন থেকে বের হলেও ফটকের বাইরে তাঁকে মাইক্রোবাসে তোলার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ। তিনি চিৎকার করে যেতে অস্বীকৃতি জানালে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। পরে আদালতের কর্মকর্তা, থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা তাঁকে উদ্ধার করেন।
তামান্নার বাবা, সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ কনস্টেবল মো. রানা মাসুদ অভিযোগ করেন, তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে এবং মেয়েকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে, তামান্নার সৎমা সুরাইয়ার দাবি, মেয়ের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই তাঁরা তাঁকে নিজেদের জিম্মায় নিতে চেয়েছিলেন। দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে তামান্না নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর বাবা আদমদীঘি থানায় মামলা করেন। পরে তামান্না ও সাহেদ হোসেন নামের এক তরুণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের বিয়ের কথা জানান। এরপর সাহেদের বিরুদ্ধে অপহরণের দুটি মামলা করেন তামান্নার বাবা। সংশ্লিষ্ট মামলায় অভিযুক্ত সাহেদ বর্তমানে পলাতক বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে পুলিশ তামান্নাকে উদ্ধার করে প্রথমে তাঁর বাবার হেফাজতে দেয়। পরে আবারও বাড়ি থেকে চলে গেলে তাঁকে উদ্ধার করে আদালতের মাধ্যমে রাজশাহী সেফ হোমে রাখা হয়।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইব্রাহিম আলী জানান, আদালতের আদেশ বাস্তবায়ন, প্রাপ্তবয়স্ক তরুণীর নিরাপত্তা এবং আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

