
টরন্টো পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে এয়ার কানাডার কার্গো ফ্যাসিলিটি থেকে প্রায় ২ কোটি ডলার মূল্যের স্বর্ণ ও নগদ অর্থ চুরির ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সীমিত আর্থিক দায় নিতে হচ্ছে এয়ার কানাডাকে। ঘটনার প্রায় তিন বছর পর ব্রিংক’সের সঙ্গে আইনি বিরোধের নিষ্পত্তিতে এয়ারলাইনটির ১৮ হাজার ডলারের কিছু বেশি অর্থ পরিশোধের বিষয়টি সামনে এসেছে।
কানাডার সবচেয়ে বড় এয়ারলাইন এয়ার কানাডা ফেডারেল আদালতে ব্রিংক’সের সঙ্গে চলা আইনি বিরোধের অবসান ঘটানোর সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেছে। এয়ার কানাডার গণমাধ্যম সম্পর্ক বিষয়ক পরিচালক শন ডেভিডসন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, তারা আর এই মামলায় আপিল করবে না। বিরোধের নিষ্পত্তি হওয়ায় তারা সন্তুষ্ট বলেও জানান তিনি।
তবে মীমাংসার আওতায় ঠিক কত টাকা পরিশোধ করা হচ্ছে, সে বিষয়ে এয়ার কানাডা বা ব্রিংক’স কোনও পক্ষই নির্দিষ্ট অঙ্ক প্রকাশ করেনি। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এয়ার কানাডার দায় অবশ্য ১৮ হাজার ডলারের কিছু বেশি বলেই জানা গেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে সুইজারল্যান্ড থেকে একটি চালানে প্রায় ৪০০ কেজি স্বর্ণ এবং ৫৩ কিলোগ্রাম ব্যাংক নোট টরন্টোতে আনা হয়েছিল। চালানটি বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর এয়ার কানাডার কার্গো ফ্যাসিলিটি থেকে তা চুরি হয়ে যায়। ঘটনার পর তদন্তে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি হয়। এত বিপুল পরিমাণ মূল্যবান সম্পদ কীভাবে বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে বাইরে চলে গেল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি গড়ায় আদালত পর্যন্ত। ব্রিংক’স আদালতে দাবি করে, চুরির ঘটনায় তাদের সুইজারল্যান্ডের কয়েকজন গ্রাহককে বড় অঙ্কের অর্থ পরিশোধ করতে হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের মধ্যে ছিল রিটেইল ব্যাংক রাইফেইসেন সুইজ এবং মূল্যবান ধাতু পরিশোধনকারী প্রতিষ্ঠান ভালকাম্বি এসএ। ব্রিংক’সের অভিযোগ ছিল, এয়ার কানাডার কার্গো ফ্যাসিলিটির নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যথেষ্ট দুর্বলতা ছিল। সেই কারণেই এত বড় মূল্যের চালান চুরি করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করে তারা।
মামলায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসে চালানটির মূল্য ঘোষণা করা হয়েছিল কি না, সেই প্রশ্নে। ফেডারেল আদালতের বিচারক সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, চুরি যাওয়া পণ্যের মোট মূল্যের মাত্র এক হাজার ভাগের এক ভাগ পর্যন্ত এয়ার কানাডার দায় নির্ধারণ করা যেতে পারে। কারণ, ব্রিংক’স ওই চালানের মূল্য আগে থেকে ঘোষণা করেনি। আন্তর্জাতিক পরিবহন সংক্রান্ত চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী, এ ধরনের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনটির দায় পণ্যের প্রকৃত মূল্যের ভিত্তিতে নির্ধারিত হয় না। বরং প্রতি কিলোগ্রামে নির্দিষ্ট অঙ্কের ক্ষতিপূরণের সীমা প্রযোজ্য হয়। আদালতের নথি অনুযায়ী, এখানে সেই সীমা ছিল প্রতি কিলোগ্রামে ৪০ ডলার। অর্থাৎ, প্রায় ৪৫৩ কেজি ওজনের স্বর্ণ ও ব্যাংক নোটের চালানের ক্ষেত্রে এয়ার কানাডার আর্থিক দায় দাঁড়ায় ১৮ হাজার ডলারের কিছু বেশি যদিও চুরি যাওয়া সম্পদের মোট মূল্য ছিল প্রায় ২ কোটি ডলার।
এয়ার কানাডা ও ব্রিংক’সের মধ্যকার দেওয়ানি বিরোধের নিষ্পত্তির মধ্য দিয়ে চুরির ঘটনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি অধ্যায়ের সমাপ্তি হলো। তবে পুরো ঘটনার আইনি প্রক্রিয়া এখানেই শেষ হচ্ছে না। অন্টারিওর ব্র্যাম্পটন আদালতে এই চুরির ঘটনায় বেশ কয়েকটি ফৌজদারি মামলা এখনও চলমান। অভিযুক্তদের মধ্যে এয়ার কানাডার সাবেক দুই কর্মীও রয়েছেন। ফলে বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ ও নগদ অর্থ চুরির এই ঘটনা নিয়ে ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত দেওয়ানি বিরোধের নিষ্পত্তি হলেও, কারা কীভাবে এই চুরির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং ঘটনার পেছনে নিরাপত্তা ব্যবস্থার কী ধরনের দুর্বলতা কাজ করেছিল তা নিয়ে ফৌজদারি বিচারপ্রক্রিয়া এখনও বাকি।

