
চট্টগ্রামে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক ও তার ফ্ল্যাট থেকে টাকা-স্বর্ণ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগে মোহাম্মদ নুরুন্নবী মুন্না (৩৮) নামে পুলিশের এক সহকারী উপপরিদর্শককে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। একই মামলায় ওই নারীও কারাগারে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) প্রবাসীর ভাইয়ের দায়ের করা মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এর আগে বুধবার নগরের আকবরশাহ থানার বিশ্ব কলোনি এলাকার একটি ফ্ল্যাট থেকে স্থানীয়রা ওই নারী ও এএসআই নুরুন্নবীকে আটক করেন। খবর পেয়ে আকবরশাহ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই নারীর স্বামী ২০১৮ সালে সৌদি আরবে যান। এরপর স্ত্রী ও সন্তানদের দেখাশোনার দায়িত্ব নেন তার ছোট ভাই। এ সময় আকবরশাহ থানায় কর্মরত থাকা নুরুন্নবী পূর্বপরিচয়ের সূত্র ধরে ২০২১ সাল থেকে ওই নারীর বাসায় যাতায়াত শুরু করেন। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে অভিযোগ করা হয়।
এজাহারে আরও বলা হয়েছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় নুরুন্নবী ওই নারীর স্বামীর মালিকানাধীন ফ্ল্যাটে যান। সেখানে রাতযাপন ও শারীরিক সম্পর্কে জড়ানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া আসামিরা পরস্পরের যোগসাজশে ওই ফ্ল্যাট থেকে প্রবাসীর পাঠানো ১৩ ভরি স্বর্ণালংকার ও ১৫ লাখ টাকা সরিয়ে নিয়েছেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। স্বর্ণালংকারের আনুমানিক মূল্য ২৬ লাখ টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় আকবরশাহ থানায় ব্যভিচার, মারধর, চুরি ও হুমকির অভিযোগে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে।
আকবরশাহ থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান জানান, স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে এএসআই নুরুন্নবীকে উদ্ধার করে। পরে প্রবাসীর ভাইয়ের মামলায় দুজনকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।

