
মাটির স্বাস্থ্য ও জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে ধারণা পেতে অভিনব এক গবেষণা করেছেন সুইজারল্যান্ডের বিজ্ঞানীরা। দেশটির বিভিন্ন বাগান, কৃষিজমি, তৃণভূমি ও ঘাসের মাঠে দুই হাজারের বেশি জোড়া তুলার অন্তর্বাস পুঁতে রাখা হয়। পাশাপাশি মাটির নিচে পুঁতে দেওয়া হয় প্রায় ১২ হাজার চায়ের ব্যাগ। দুই মাস পর সেগুলো তুলে পরীক্ষা করে মাটির জৈবিক কার্যক্রম সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছেন গবেষকেরা।
গবেষণায় দেখা যায়, কিছু জায়গায় মাটির নিচে থাকা অন্তর্বাস প্রায় পুরোপুরি পচে গেছে। কোথাও আবার সামান্য ক্ষয় হয়ে এক-দুটি ছিদ্র তৈরি হয়েছে। গবেষকদের মতে, অন্তর্বাস কতটা পচেছে, তা মাটিতে থাকা কেঁচো, ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য ক্ষুদ্র জীবের সক্রিয়তার একটি সহজ সূচক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
এই গবেষণার ভিত্তিতে বিজ্ঞানীরা ‘অন্তর্বাস সূচক’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁদের ধারণা, অন্তর্বাস দ্রুত পচে গেলে সেখানে মাটির জীববৈজ্ঞানিক কার্যক্রম বেশি থাকার সম্ভাবনা থাকে। অন্যদিকে দীর্ঘ সময়েও অন্তর্বাস প্রায় অক্ষত থাকলে মাটিতে জৈবিক কার্যক্রম তুলনামূলক কম হতে পারে।
গবেষণায় জমির ব্যবহারের সঙ্গে মাটির স্বাস্থ্যের বড় পার্থক্যও পাওয়া গেছে। ব্যক্তিগত বাগানের মাটিতে অন্তর্বাস পচনের হার ছিল সবচেয়ে বেশি—প্রায় ৫৮ শতাংশ। বিপরীতে ঘাসের মাঠে এই হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। ব্যক্তিগত বাগানের মাটিতে কেঁচো, ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ার কার্যক্রমও বেশি পাওয়া গেছে।
গবেষকেরা বলছেন, নিয়মিত পরিচর্যা, গাছ লাগানো, সার প্রয়োগ ও মাটি আলগা করার কারণে ব্যক্তিগত বাগানে জীববৈচিত্র্য বেশি সক্রিয় হতে পারে। তবে বেশি পুষ্টি থাকা মানেই মাটি বেশি স্বাস্থ্যকর—এমনটি নয়। অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে ফসফরাস, নাইট্রোজেন ও পটাশিয়ামের মাত্রা বেড়ে গেলে পরিবেশ ও জলজ জীববৈচিত্র্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষণার অংশ হিসেবে পুঁতে রাখা ১২ হাজার চায়ের ব্যাগেও প্রায় একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। অন্তর্বাস ও চায়ের ব্যাগ—দুটিই ব্যক্তিগত বাগানে তুলনামূলক দ্রুত পচেছে।
গবেষকদের মতে, মাটির ওপরের স্তর খাদ্য উৎপাদন, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ নানা কারণে বিশ্বজুড়ে মাটির অবক্ষয় বাড়ছে। তাই সহজ ও আকর্ষণীয় এই গবেষণার মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে মাটির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করাই ছিল তাঁদের অন্যতম উদ্দেশ্য।
তবে শুধু অন্তর্বাস কতটা পচেছে, তা দিয়ে কোনো মাটি কতটা স্বাস্থ্যকর, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। মাটির গুণমান নির্ধারণে আরও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা প্রয়োজন। তারপরও গবেষকদের মতে, সাধারণ মানুষকে মাটির জীবজগৎ সম্পর্কে আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে এই অদ্ভুত পদ্ধতি বেশ কার্যকর হতে পারে।

