
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রিলস তৈরিতে ব্যস্ত বাবা-মা। এদিকে সমুদ্রের ঢেউয়ের তোড়ে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকিতে তাদের শিশুসন্তান। এমনই একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর অভিভাবকদের দায়িত্ববোধ ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। শেষ পর্যন্ত এক প্রত্যক্ষদর্শীর তৎপরতায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পায় শিশুটি।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, সমুদ্রসৈকতে এক দম্পতি মুঠোফোন বা সেলফি স্টিক ব্যবহার করে নিজেদের ভিডিও ধারণে ব্যস্ত। এ সময় তাদের শিশুসন্তানটি সমুদ্রের পানির কাছাকাছি বিপজ্জনক অবস্থানে ছিল। হঠাৎ শক্তিশালী ঢেউ শিশুটির দিকে ধেয়ে এলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
বিপদের বিষয়টি বুঝতে পেরে কাছাকাছি থাকা এক ব্যক্তি দ্রুত পানির দিকে ছুটে যান। পরে শিশুটিকে নিরাপদে উদ্ধার করেন তিনি। সময়মতো ওই ব্যক্তি এগিয়ে না এলে শিশুটির বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারত।
ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাবা-মায়ের এমন অসতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। তাঁদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরির চেয়ে সন্তানের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। বিশেষ করে সমুদ্রসৈকতের মতো ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে শিশুদের এক মুহূর্তের জন্যও নজরদারির বাইরে রাখা উচিত নয়।
তবে শিশুটি উদ্ধারের পর তার শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে ভিডিওটির সুনির্দিষ্ট স্থান ও ঘটনার সময়ও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘটনাটি আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, একটি আকর্ষণীয় ভিডিও তৈরির চেয়ে সন্তানের জীবন ও নিরাপত্তা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সমুদ্রের ঢেউ কখন বিপজ্জনক হয়ে উঠবে, তা সব সময় অনুমান করা যায় না। তাই শিশুদের নিয়ে সৈকতে গেলে অভিভাবকদের সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকা জরুরি।

