নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘হানিট্র্যাপ’-এ পুলিশ-রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ী

নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতার ‘হানিট্র্যাপ’-এ পুলিশ-রাজনীতিবিদ-ব্যবসায়ী - the Bengali Times
নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে ভুয়া নারী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে

চট্টগ্রামে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সাবেক এক নেতার বিরুদ্ধে ভুয়া নারী পরিচয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফাঁদ পেতে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও ব্যবসায়ীদের ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সংস্থার অনুসন্ধানে এ চক্রের কর্মকাণ্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের সাতকানিয়ার বাসিন্দা জোবাইরুল হক জিয়ান উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক শিক্ষা ও পাঠচক্রবিষয়ক সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে সুন্দরী নারীর ছবি ও পরিচয় ব্যবহার করে একাধিক ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের অভিযোগ রয়েছে। পরে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠ হওয়ার পর কথোপকথন হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো মাধ্যমে নিয়ে গিয়ে কৌশলে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করা হতো বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

- Advertisement -

অভিযোগ রয়েছে, এসব ভিডিও ও সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং ব্ল্যাকমেইল করা হতো। পরিচয় গোপন রাখতে কখনো পরিচিত তরুণী বা মডেল, আবার কখনো স্বামী পরিত্যক্তা নারীর পরিচয় ব্যবহার করা হতো বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে সাবেক সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজের নামও উঠে এসেছে। তদন্তে পাওয়া কয়েকটি ভিডিওর মধ্যে তিনটি নিজের বলে স্বীকার করলেও একটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি বলে দাবি করেছেন তিনি। ভুয়া পরিচয়ের ফাঁদে পড়ার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি জানান, পরিচয়টি ভুয়া বলে জানতে পারার পর যোগাযোগ বন্ধ করে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টটি ব্লক করে দেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গোপন ভিডিও ব্যবহার করে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানার ওসি পদায়ন ও বদলির মতো প্রশাসনিক বিষয়ে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও রয়েছে ওই চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তার নাম উঠে এলেও তারা অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন।

এ ছাড়া তদন্তে জিয়ানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মোট ৫৪টি নারী পরিচয়ের ফেসবুক অ্যাকাউন্টের সন্ধান পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। এসব ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে পুলিশ কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ গড়ে তোলা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত কয়েকজনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্তাধীন থাকায় বিষয়গুলো নিয়ে আইনগতভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সংঘবদ্ধ প্রতারণা ও ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles