‘মানুষ হত্যা করাই যেন লাইলীর নেশা’, ফের হত্যাকাণ্ডে জড়ালেন নারী ভাড়াটিয়া

‘মানুষ হত্যা করাই যেন লাইলীর নেশা’, ফের হত্যাকাণ্ডে জড়ালেন নারী ভাড়াটিয়া - the Bengali Times
ঘাতক লাইলী আক্তার

কুমিল্লার দেবিদ্বারে ফরিদা ইয়াসমিন (৫০) নামে এক বাড়ির মালিককে কুপিয়ে হত্যার পর লাশ খণ্ডিত করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় লাইলী আক্তার নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে ২০২১ সালে পাঁচ বছরের শিশু ফাহিমা হত্যার মামলায়ও লাইলীর নাম এসেছিল। প্রায় সাড়ে চার বছর কারাভোগের পর কয়েক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান তিনি।

রোববার দুপুর পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে খণ্ডিত লাশের বিভিন্ন অংশের ১১টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। তবে এখনো মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

- Advertisement -

নিহত ফরিদা ইয়াসমিন দেবিদ্বার পৌরসভার ফতেহাবাদ গ্রামের মো. মফিজুল ইসলামের স্ত্রী। তাঁর স্বামী চট্টগ্রামে জাহাজে চাকরি করেন। প্রায় ৩০ বছর ধরে ফরিদা ছোট আলমপুর পূর্বাশা আবাসিক এলাকার ভুঁইয়া হাউজে সন্তানদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। তাঁর একমাত্র ছেলে ইব্রাহীম খলিল ১০ বছর আগে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান। ছোট মেয়ে মরিয়ম আক্তার স্বামীর বাড়িতে থাকায় ঘটনার দিন ফরিদা বাসায় একাই ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনার মাত্র ১২ দিন আগে ফরিদার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন লাইলী আক্তার। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি ফরিদার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। একপর্যায়ে ফরিদার ঘরে কোথায় টাকা ও স্বর্ণালংকার রাখা হয়, সে বিষয়ে খোঁজখবর নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

শুক্রবার রাতে লাইলী তাঁর স্বামী আবুল কালাম এবং সহযোগী হিসেবে রবিউল ও সোহেলকে নিয়ে ফরিদাকে হত্যা করেন বলে অভিযোগ। পরে মরদেহ খণ্ডিত করে পলিথিনে মুড়িয়ে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়।

ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষুব্ধ জনতা লাইলীকে আটক করে একটি খুঁটির সঙ্গে হাত-পা বেঁধে গণপিটুনি দেয়। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত অন্য অভিযুক্তরা পলাতক রয়েছেন।

নিহতের মেয়ে মরিয়ম আক্তারের দাবি, তাঁর মাকে হত্যার পর ঘাতকেরা প্রায় সাত লাখ টাকা ও ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে।

শনিবার রাতে নিহতের স্বামী মফিজুল ইসলাম চারজনকে আসামি করে দেবিদ্বার থানায় মামলা করেন। এদিকে আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে রোববার দেবিদ্বারে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয়রা।

দেবিদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. শাহীন বলেন, লাইলী আক্তার ২০২১ সালে শিশু ফাহিমা হত্যার ঘটনায় জড়িত ছিলেন। কারাগার থেকে জামিনে মুক্তির পর মাত্র ১২ দিন আগে তিনি ফরিদার বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে ওঠেন। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্বর্ণালংকারের লোভে ফরিদাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles