
মধ্যপ্রাচ্য সফর শেষ করেই কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি শনিবার রাতে যোগ দিলেন দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ক্যালগেরি স্ট্যামপিডে। সরকারি ব্যস্ততা থেকে কিছুটা সময় বের করে তিনি উৎসবের পরিবেশে অংশ নেন, স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, মিনি ডোনাটের স্বাদ নেন এবং বিখ্যাত চাকওয়াগন প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। তবে উৎসবের এই সফর শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না; এখানেও উঠে আসে কানাডার জ্বালানি অবকাঠামো ও নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের প্রসঙ্গ। সাদা কাউবয় হ্যাট ও ঐতিহ্যবাহী বেল্ট বাকল পরে স্ট্যামপিড গ্রাউন্ডে হাঁটতে দেখা যায় প্রধানমন্ত্রীকে। উপস্থিত দর্শনার্থীরা তাকে ঘিরে শুভেচ্ছা জানান এবং অনেকেই করমর্দন করে সরকারের সাম্প্রতিক জ্বালানি নীতির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন। কার্নিও হাসিমুখে সবার সঙ্গে কথা বলেন এবং জানান, ক্যালগেরিতে ফিরে আসতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।
স্ট্যামপিডে অংশ নেওয়ার আগে গত সপ্তাহেই আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েলে স্মিথের সঙ্গে ক্যালগেরিতে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী কার্নি। বৈঠকের অন্যতম প্রধান বিষয় ছিল পশ্চিম উপকূল পর্যন্ত একটি নতুন জ্বালানি তেল পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা। প্রস্তাবিত প্রকল্পটি ট্রান্স মাউন্টেন পাইপলাইনের রুট ও অবকাঠামোগত অভিজ্ঞতাকে অনুসরণ করে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। ইতোমধ্যে আলবার্টা সরকার এই প্রকল্পের প্রস্তাব ফেডারেল সরকারের মেজর প্রোজেক্টস অফিসে জমা দিয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, পাইপলাইনটি আলবার্টার এডমন্টনের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত ব্রডেরহেইম থেকে শুরু হয়ে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার ডেলটা শহরে, ভ্যানকুভারের দক্ষিণে একটি টার্মিনাল পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এই অবকাঠামোর বেশিরভাগ মালিকানা থাকবে আলবার্টা সরকার এবং ফেডারেল ক্রাউন কর্পোরেশন ট্রান্স মাউন্টেন কর্পোরেশনের হাতে।
একই দিনে প্রধানমন্ত্রী কার্নি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার প্রিমিয়ার ডেভিড এবির সঙ্গেও একটি সমঝোতার ঘোষণা দেন। এই চুক্তির লক্ষ্য হলো প্রকল্পটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে দুই প্রদেশ এবং ফেডারেল সরকারের মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা। জ্বালানি অবকাঠামো নিয়ে অতীতে বিভিন্ন প্রদেশের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা গেলেও এবার সমন্বিত উদ্যোগ প্রকল্পটির বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও বাড়িয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্ট্যামপিডে উপস্থিত অনেকেই সরাসরি প্রধানমন্ত্রীকে নতুন পাইপলাইন প্রকল্পের প্রতি তাদের সমর্থনের কথা জানান। একজন দর্শনার্থী কার্নিকে বলেন, “এ উদ্যোগ নেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এটি বাস্তবায়নের জন্য আপনার মতো নেতৃত্বই আমাদের প্রয়োজন।” আরেকজন বলেন, “এই পাইপলাইন আমাদের দরকার। এটি শুধু আলবার্টার জন্য নয়, পুরো কানাডার অর্থনীতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।” জনতার এমন প্রতিক্রিয়ার জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন প্রকল্পটি শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও দেখা গেছে, দেশের অধিকাংশ মানুষ নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পক্ষে মত দিয়েছেন। ফলে প্রকল্পটি নিয়ে তিনি এখন আগের তুলনায় আরও আশাবাদী।
নতুন এই পাইপলাইন নির্মিত হলে কানাডার পশ্চিমাঞ্চল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেল রপ্তানি আরও সহজ হবে। একই সঙ্গে এটি দেশের জ্বালানি অবকাঠামো শক্তিশালী করার পাশাপাশি বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অবশ্য পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে সম্ভাব্য পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও সামনে আসতে পারে। ফলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পথে পরিবেশগত মূল্যায়ন, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মতামত এবং আন্তঃপ্রাদেশিক সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির রোববার সকালে আবারও ক্যালগেরি স্ট্যামপিডে ফেরার কথা ছিল। উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি তার এই সফর নতুন পাইপলাইন প্রকল্প নিয়ে সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং জনসমর্থনের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সরকারের আশা, প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রকল্পটি কানাডার জ্বালানি খাতে দীর্ঘমেয়াদি একটি মাইলফলক হয়ে উঠবে।

