রামিসা ধর্ষণ-হত্যার পর কেন আলোচনায় ১২ মিনিটের এই শর্টফিল্ম

রামিসা ধর্ষণ-হত্যার পর কেন আলোচনায় ১২ মিনিটের এই শর্টফিল্ম - the Bengali Times
নৃশংস এই ঘটনার পর আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া দ্য ডিসাপিয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম নামের একটি শর্টফিল্ম

রাজধানীর পল্লবীতে ৮ বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যা নাড়া দিয়েছে পুরো বাংলাদেশকে। নৃশংস এই ঘটনার পর আলোচনায় উঠে এসেছে ২০১৫ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দ্য ডিসাপিয়ারেন্স অব উইলি বিংহাম’ নামের একটি শর্টফিল্ম।

ম্যাথিউ রিচার্ডসের পরিচালনায় স্বল্পদৈর্ঘ্যের এ চলচ্চিত্রে এক ধর্ষককে ভয়াবহ শাস্তি দেওয়ার গল্প উঠে এসেছে। যেখানে এই ধরণের অপরাধে শাস্তি নিশ্চিতে প্রচলিত বিচারব্যবস্থার অক্ষমতা, ভুক্তভোগীর পরিবারের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা, প্রতিশোধ ও মানবিক দিক তুলে ধরা হয়।

- Advertisement -

স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটিতে, নিষ্পাপ এক বাচ্চা মেয়েকে ধর্ষণ ও নির্মমভাবে খুন করে উইলি বিংহাম নামের এক ভয়ংকর অপরাধী। তবে ওই দেশ থেকে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি উঠে যাওয়ায় ‘প্রগ্রেসিভ অ্যামপুটেশন’ নামের এক নতুন ধরণের শাস্তির মুখোমুখি করা হয় তাকে।

নতুন এই শাস্তিতে ধাপে ধাপে ধর্ষকের শরীরের অঙ্গ কেটে নেওয়া হয়। প্রতিবার একটা সার্জারির পর দোষী সাব্যস্ত আসামি সুস্থ হলে তাকে আবার অপারেশন টেবিলে ছুড়ি-কাঁচির নিচে আনা হয়। সচ্ছ কাঁচের জানালা দিয়ে তা দেখতে পান ভুক্তভোগীর বাবা। যতক্ষণ না অপরাধীর প্রতি ভুক্তভোগীর পরিবারের মায়া জন্মায় ততদিন পর্যন্ত ধাপে ধাপে হাত-পা-নাক-কানসহ শরীরের বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ অঙ্গও কেটে নেওয়া হতে থাকে।

আর প্রতিটি অপারেশনে অপরাধীর অঙ্গ কেটে নেওয়া গ্লাসের অপর পাশ থেকে দেখতে থাকে ভুক্তভোগীর পুরো পরিবার।

এরপর অন্যদের সাবধান করতেই হুইলচেয়ারে করেই অবাধ্য ও বখাটে কিশোরদের সামনে তাকে উদাহরণ হিসেবে দেখানো হয়। এ ছাড়া উইলিকে দিয়ে দেওয়ানো হয় বক্তৃতা, যাতে তার এই পরিণতি দেখে অন্য কেউ এমন অপরাধ করার সাহস না পায়।

শেষ পর্যন্ত শাস্তি শুরুর পাঁচ মাস পর পঞ্চম বারের অস্ত্রোপচারে ভুক্তভোগীর বাবার অনুমতিতে কেটে ফেলা হয় উইলির যৌনাঙ্গ। পুরুষত্ব হারিয়ে উইলি আর কোনো দিন কথা বলেননি।

এমনকি সার্জারির আগে তিনি যে কান্নাকাটি আকুতি করতেন তাও বন্ধ হয়ে যায় চিরতরে।
এরপরের সার্জারিতে কেটে নেওয়া হয় তার দুই কান, নাক এবং জিহ্বার অগ্রভাগ। লেজার দিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয় শরীরের চামড়া। এমন সময় উইলি ছিলেন শুধুই মৃত্যুর কামনায়।

অবশেষে আসে কাঙ্ক্ষিত সেই দিন। অপারেশন থিয়েটারের টেবিলে পড়ে থাকা উইলি নামের ‘মাংসপিণ্ডটা’র দিকে তাকিয়ে ভুক্তভোগীর বাবার চোখে দেখা যায় তৃপ্তির চাহনি। এই ধাপে উইলির হার্ট বা ব্রেন সার্জারি করা হবে। সে ঢলে পড়বে মৃত্যুর কোলে। তবে সবাইকে অবাক করে এই সার্জারিতে অনুমতি দিলেন না ভুক্তভোগীর বাবা। তিনি কর্তৃপক্ষের বাড়িয়ে দেওয়া ফাইলে স্বাক্ষর করে এই অবস্থায় রেখে দেন উইলিকে।

স্বল্পদৈর্ঘ্য সিনেমাটিতে ন্যায়বিচার, মানুষের প্রতিশোধ পরায়ণতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে, যা দর্শকদের দীর্ঘ সময় ভাবিয়ে রাখে।

চলচ্চিত্রটিতে উইলি বিংহামের চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছেন কেভিন ডি। ভুক্তভোগীর বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন টিম ফেরিস। এ ছাড়া বিচার নিশ্চিত করার দায়িত্বে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে থাকা জর্জি মর্টনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন গ্রেগরি জে. ফ্রায়ার। তার কণ্ঠেই সামনের দিকে এগিয়েছে স্বল্পদৈর্ঘ্যের চলচ্চিত্রটি।

এদিকে ৮ বছরের শিশু রামিসার ধর্ষণ ও হত্যাকারীর দ্রুত বিচার ও শাস্তি এখন সময়ের দাবি। দেশের আইনে তার সর্বোচ্চ শাস্তি দ্রুততম সময়ে কার্যকর হোক এমন দাবি এখন জনমনে। এমন নৃশংসতার জন্য অপরাধীর জন্য সর্টফিল্মটিতে দেখানো শাস্তি প্রাসঙ্গিক মনে করছেন অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles