বরিশালের গৃহবধূ বন্যার লাশ সাড়ে চার মাস পর কবর থেকে উত্তোলন
আঞ্চলিক প্রতিনিধি, বরিশাল
অ+ অ-প্রিন্ট
যৌতুকের দাবিতে অমানুষিক নির্যাতনের পর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হতভাগ্য গৃহবধূ বন্যা আক্তারের (২৬) লাশ আদালতের নির্দেশে চার মাস ১৮দিন পর কবর থেকে উত্তোলন করা হয়েছে। ঘটনাটি জেলার উজিরপুর উপজেলার খোলনা গ্রামের।

উজিরপুর মডেল থানার এসআই জাফর ইকবাল জানান, আদালতের নির্দেশে গৃহবধূ বন্যার লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে রবিবার সন্ধ্যায় ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। লাশ উত্তোলনের সময় নির্বাহী হাকিম ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুম্পা সিকদার উপস্থিত ছিলেন। তিনি আরও জানান, এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ মার্চ খোলনা গ্রামের মোশারফ হাওলাদারের বাড়ি থেকে অগ্নিদগ্ধে মৃত গৃহবধূর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে নিহতের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে ওইসময় ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ দাফন করা হয়। কিন্তু গত ১৮ এপ্রিল নিহত গৃহবধূর ছোট বোন সৌদি প্রবাসী লিপি বেগম তার বোনকে যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতনের পর গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করার অভিযোগে ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রেক্ষিতে বরিশাল চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের বিচারক অনুতোষ চন্দ্র বালা গত ২৫ মে ময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে ওই গৃহবধূর লাশ উত্তোলনের আদেশ দেন।

নিহতের ছোট বোন ও মামলার বাদী প্রবাসী লিপি বেগম জানান, ২০০৭ সালে উজিরপুর উপজেলার বামরাইল ইউনিয়নের খোলনা গ্রামের মোশারফ হোসেনের পুত্র নজরুল ইসলাম হাওলাদারের সাথে সামাজিকভাবে তার বোন বন্যা আক্তারের বিয়ে হয়। ২০১৫ সালে নজরুল ইসলাম ব্যবসার কথা বলে দুই বছরের মধ্যে ফেরত দেয়ার কথা বলে ধার বাবদ তার কাছ থেকে পাঁচ লাখ টাকা নেয়। দুইবছর অতিবাহিত হওয়ার পর টাকার জন্য চাঁপ প্রয়োগ করা হলে নজরুল টাকা দিতে অপরাগতা প্রকাশ করে। উল্টো আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। এনিয়ে মোবাইল ফোনে নজরুলের সাথে তার (প্রবাসী লিপি) একাধিকবার বাগ্বিতন্ডা হলে বোন লিপির পক্ষ নেন বন্যা। এরজের ধরে গত ২১ মার্চ বাগ্বিতন্ডার একপর্যায়ে বন্যার স্বামী নজরুল, দেবর রফিক হাওলাদার, রবিউল হাওলাদার, শ্বশুর মোশারফ হোসেন পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে অমানুষিক নির্যাতন করে। এতে বন্যা জ্ঞানশূণ্য হয়ে পরলে মারা গেছে ভেবে ঘটনা ধামাচাঁপা দিতে বন্যার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়।

লিপি বেগম আরও জানান, ওইসময় বন্যার ডাকচিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে ২২ মার্চ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করার পর ২৫ মার্চ বন্যা মৃত্যুর কোলে ঢলে পরেন। ২৬ মার্চ উজিরপুর মডেল থানায় মামলা দায়ের করতে গেলে পুলিশ মামলা নিতে তালবাহানা শুরু করে। বোনের নির্মম মৃত্যুর খবর পেয়ে লিপি বেগম দেশে ফিরে গত ১৮ এপ্রিল ছয়জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেন।

 

১৪ আগস্ট, ২০১৮ ১২:০৪:১১