কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৪র্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা ২০১৮
অ+ অ-প্রিন্ট
বাংলাদেশ হাইকমিশন, অটোয়া, কানাডা ৪ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬:৩০ থেকে রাত ৯:০০টা পর্যন্ত হাইকমিশনের সভাকক্ষে ৪র্র্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলার আয়োজন করে। উৎসবমূখর এ অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি, কূটনৈতিক মহলের প্রতিনিধি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক, বুদ্ধিজীবি, প্রবাসী বাংলাদেশীসহ সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন। মিশনের কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধুরীর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠানটি প্রমাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আলোচনা অনুষ্ঠান, পাওয়ার পয়েন্ট প্রজেকশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, নৈশভোজ ইত্যাদি আকর্ষণীয় পর্বে সাজানো ছিল। অনুষ্ঠানের সম্মানিত আলোচকদের ফুল দিয়ে বরণ করেন হাইকমিশনের প্রথম সচিব মিজ অপর্ণা রাণী পাল।কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৪র্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা ২০১৮

সভাপতির বক্তব্যে কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর হাই কমিশনার জনাব মিজানুর রহমান জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা নির্মানের লক্ষ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফলতা, বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন ও বাংলাদেশ-কাডানার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের বিভিন্ন দিক ছাড়াও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিশেষকরে রোহিঙ্গা সংকটে সরকার গৃহীত বিভিন্ন উদ্যেগের বিশদ বর্ণনা দেন। তিনি এ অনুষ্ঠানকে সর্বিকভাবে সফল করার জন্য সকলকে ধন্যবাদ জানান এবং বর্তমান সরকার গৃহীত ২০২১ ও ২০৪১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কানাডা সরকার ও কানাডায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৪র্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা ২০১৮

অন্টারিও প্রদেশের ন্যাপিয়ান থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য চন্দ্রা আরিয়া, তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রগতির বিষয় তুলে ধরে বর্তমান সরকারকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশের অগ্রগতিকে অন্যান্য দেশের জন্য অনুসরনীয় বলে উল্লেখ করেন। বিশেষত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (গউএ) বাস্তবায়নে বাংলাদেশের সফলতার কথা এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অগ্রগতিরও প্রসংশা করেন। তিনি রোহিঙ্গা সমস্যা নিরসনে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে এ ক্ষেত্রে কানাডা সরকারের সর্বাত্মক সহযোগীতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস প্রদান করেন। তিনি কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশীদের কর্মকান্ডের বর্ণনা করে বাংলাদেশের চলমান অগ্রগতির ধারা বেগবান করতে তাদের অবদানের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করেন। অটোয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট স্টাডিজের অধ্যাপক নিপা ব্যানার্জি, তাঁর উপস্থাপনায় বাংলাদেশের উন্নতি ও অগ্রযাত্রার বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৪র্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা ২০১৮

স্থানীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগের Executive Director Ms. Gillian Frost তাঁর বক্তব্যে বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ ও কানাডার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বিশেষকরে রোহিঙ্গা শরনার্থীদের সহযোগীতার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের ঐকান্তিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং এ ক্ষেত্রে কানাডা সরকারের সহযোগীতার কথা পূর্ণব্যক্ত করেন। বাংলাদেশের সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) অর্জনে এবং টেকসই উন্নয়নের বিভিন্ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অগ্রগতির জন্য অভিনন্দন জানান।

এছাড়াও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের উন্নয়ন কর্মসূচীর পরিচালক Ms Janet Durno   বাংলাদেশের সামাজিক সূচকের অগ্রগতির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন এবং এ ক্ষেত্রে কানাডা সরকারের সহযোগীতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস ব্যক্ত করেন।  

কানাডার সাক্সাচুয়ান প্রদেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের Honorary Consul Mr. Rob Norris বক্তব্য রাখেন। তিনি সাক্সাচুয়ান প্রদেশের সাথে বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের বিশদ বিবরণ দেন এবং এ প্রদেশে বসবাসরত বাংলাদেশী প্রবাসীদের প্রশংসা করেন।কানাডাস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ৪র্থ বাংলাদেশ উন্নয়ন মেলা ২০১৮

কানাডার Trade Facilitation Office এর Executive Director Mr. Steve Tiffman ক্ষুদ্র কুটির শিল্পের বিকাশ এবং এর মাধ্যমে নারীর ক্ষমাতায়নের সফলতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি এ সকল ক্ষেত্রে কানাডা সরকারের সহযোগীতার বিষয়ে আলোকপাত করেন।

হাইকমিশনের কাউন্সেলর (রাজনৈতিক) মিয়া মোঃ মাইনুল কবির একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রজেকসনের মাধ্যমে বাংলাদেশের নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই সহ¯্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (MDG) অর্জনের অনুকরণীয় সফলতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। এছাড়া টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনে বাংলাদেশের অগ্রগতির উপরে আলোকপাত করেন।

প্রথম সচিব (বাণিজ্যিক) মোঃ শাকিল মাহমুদ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অগ্রগতি এবং বাংলাদেশ-কানাডা দ্বি-পাক্ষিক বাণিজ্যের পরিসংখ্যানসহ বাংলাদেশে ব্যবসা, বিনিয়োগ ও উন্নয়নের উপর নির্মিত পাওয়ার পয়েন্ট প্রজেকশনের প্রাণবন্ত উপস্থাপন করেন।

আলোচনা পর্বের পরে বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আগত অতিথিদের নিকট উপস্থাপনের লক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে আগত অতিথিদের নিকট উপস্থাপনের লক্ষ্যে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সাংস্কৃতিক পর্বে হাইকমিশনের কাউন্সেলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মোঃ শাখাওয়াত হোসেন, কাউন্সেলর ও দূতালয় প্রধান ফারহানা আহমেদ চৌধুরী এবং কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশী শিল্পি ডালিয়া ইসলাম অংশগ্রহন করেন।


 


১০ অক্টোবর, ২০১৮ ১২:৫৬:১৪