
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, চাইলে এক রাতেই ইরান-কে ‘ধ্বংস করে দেওয়া’ সম্ভব এবং সেই পদক্ষেপ মঙ্গলবার রাতেই নেওয়া হতে পারে। তার এই বক্তব্যে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ এপ্রিল) হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই হুঁশিয়ারি দেন। ট্রাম্প বলেন, ইরানকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, অন্যথায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর বড় ধরনের হামলা চালানো হতে পারে।
তিনি বলেন, “পুরো দেশ এক রাতেই শেষ করে দেওয়া সম্ভব, আর সেই রাত আগামীকালও হতে পারে।”
একই ব্রিফিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে ইতোমধ্যেই বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে এবং তা আরও বাড়তে পারে।
এ সময় ট্রাম্প সম্প্রতি পরিচালিত একটি দুঃসাহসিক উদ্ধার অভিযানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, ইরানের ভেতরে ভূপাতিত একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের পাইলটকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। পাইলটটি পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে ছিলেন এবং ক্রমাগত অবস্থান পরিবর্তন করছিলেন।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ-এর পরিচালক জন রেটক্লিফ বলেন, পাইলটকে উদ্ধারে একটি ‘প্রতারণামূলক অভিযান’ পরিচালনা করা হয়, যার মাধ্যমে ইরানকে বিভ্রান্ত করে পাইলটের অবস্থান গোপন রাখা সম্ভব হয়।
তিনি জানান, শনিবার সকালে নিশ্চিত হওয়া যায় যে পাইলট জীবিত আছেন এবং পাহাড়ের একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছেন। পরে রবিবার সকালে তাকে সফলভাবে উদ্ধার করা হয়।
ট্রাম্পের ভাষায়, “অসাধারণ দক্ষতা ও নির্ভুলতার সঙ্গে মার্কিন বাহিনী অভিযান চালিয়ে পাইলটকে উদ্ধার করে এবং কোনো ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াই এলাকা ত্যাগ করে।”
প্রতিরক্ষামন্ত্রী আরও জানান, পাইলট একটি জরুরি ট্রান্সপন্ডারের মাধ্যমে নিজের অবস্থান জানাতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়ার পর তার প্রথম বার্তা ছিল—“ঈশ্বর মহান।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কঠোর বক্তব্য ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে এবং কূটনৈতিক সমাধানের পথকে জটিল করে দিতে পারে।

