
ফরিদপুর জিলা স্কুলের বিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক, আমার প্রিয় ফজল স্যারের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে গভীরভাবে মর্মাহত হলাম। শুনেছি, ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেছেন—
ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর।
আগামী ৫ জানুয়ারি ২০২৬ (সোমবার) বাদ জোহর (দুপুর ১.৩০) ফরিদপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে স্যারের নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত নামাজে জানাজায় সকলকে উপস্থিত থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।
স্যারের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে বহু স্মৃতি মনে পড়ে গেলো। গোয়ালন্দে আমাদের বাসার ডান পাশের সরকারি বাসা—স্যানিটারি ইন্সপেক্টরের বাসায়—পাকিস্তান আমলের শেষ দিকে আমরা প্রতিবেশী ছিলাম। তখন আমি ক্লাস ওয়ান বা টু-তে পড়ি। সেই বাড়ির অফিসারের তিন ছেলে—রেন্টু, রিজভী, রন্জু—এবং দুই মেয়ে ছিল। ছোট মেয়ের নাম ছিল রাশিদা, বড় মেয়ের নাম এখন মনে নেই। সবচেয়ে ছোট রন্জু আমার সাথে প্রাইমারি স্কুলে পড়তো এবং আমরা একসাথে খেলতাম। আমার আব্বা আমাকে একটি তিন চাকার সাইকেল কিনে দিয়েছিলেন—রন্জু আর আমি সেই সাইকেল নিয়ে দিনভর সামনের রাস্তায় খেলতাম। সময়টা ১৯৬৮/৬৯ সালের।
পরে জানতে পারলাম সেই রাশিদা আপার সাথেই ফজল স্যারের বিয়ে হয়েছিল। আর ১৯৭৫ সালে আমি জিলা স্কুলে ভর্তি হওয়ার পর স্যারকে পেলাম শিক্ষক হিসেবে। নবম-দশম শ্রেণীতে তিনি পদার্থ বিজ্ঞান পড়াতেন। শিক্ষক হলেও আত্মীয়ের মতোই সম্পর্ক—রন্জুর দুলাভাই, আমারও দুলাভাই। তাই স্বাভাবিকভাবেই কাছের মানুষ ছিলেন।
১৯৭৮ সালে এসএসসি পরীক্ষার কয়েক মাস আগে হোষ্টেলে একটি ঝামেলা হওয়ায় আমাকে হোষ্টেল ত্যাগ করতে হয়। সেই কঠিন সময়ে ফজল স্যারের বাড়িতে থেকে আমি পরীক্ষা দিই। রাশিদা আপার পরম যত্ন, স্নেহ ও দায়িত্বশীলতা না পেলে হয়তো আমাকে গোয়ালন্দে চলে আসতে হতো। সে কৃতজ্ঞতা ভাষায় প্রকাশের নয়।
জানতাম না স্যার ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। কয়েকদিন আগেই যদি জানতে পারতাম, হয়তো শেষবার দেখা করতে যেতাম।
ফরিদপুর জিলা স্কুলের অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনে তিনি ছিলেন অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত—জ্ঞান, শৃঙ্খলা, মানবিকতা ও নৈতিকতার ধারক। সত্যিকার অর্থেই তিনি ছিলেন একজন আদর্শ শিক্ষক।
আল্লাহ তায়ালা যেন তাঁর সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন, তাঁকে জান্নাতুল ফেরদৌসে সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন—আমিন।
এবং এই শোকের সময়ে তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজনকে ধৈর্য ও শক্তি দান করুন—আমিন।
স্কারবোরো, কানাডা

