
উৎপাদন খাতের স্পষ্ট নিস্তেজতার কারণে গত অক্টোবরে কানাডার অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশি শ্লথ হয়ে পড়েছে। অর্থনীতিবিদদের আশঙ্কা, ধীরগতির এই প্রবণতা স্বল্পমেয়াদে কাটিয়ে উঠলেও ২০২৬ সাল জুড়েই অর্থনীতির ওপর চাপ বজায় থাকতে পারে। ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধার শুরু হওয়ার আগে আগামী এক বা দুই প্রান্তিকেও সার্বিক প্রবৃদ্ধি নরম অবস্থায় থাকবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
মঙ্গলবার প্রকাশিত স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অক্টোবরে কানাডার প্রকৃত দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। বিশেষ করে পণ্য উৎপাদন শিল্পে বড় ধরনের পতন অর্থনীতিকে নিচের দিকে টেনে ধরেছে। এই খাতে সামগ্রিক উৎপাদন কমেছে দশমিক ৭ শতাংশ, যার প্রধান কারণ ছিল উৎপাদন খাতের সংকোচন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অক্টোবরে উৎপাদন খাত একাই ১ দশমিক ৫ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। এর মধ্যে ডিউরেবল-গুডস ম্যানুফ্যাকচারিং শিল্পের অবস্থা ছিল সবচেয়ে নাজুক। সেপ্টেম্বরে যেখানে এই খাতে ২ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল, সেখানে অক্টোবরে তা উল্টো ২ দশমিক ৩ শতাংশ সংকুচিত হয়। বিশেষ করে যন্ত্রপাতি উৎপাদন খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা অক্টোবরে ৬ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার উপাত্ত অনুযায়ী, কাঠপণ্যের উৎপাদনও অক্টোবরে বড় ধাক্কা খেয়েছে। এই খাতে উৎপাদন কমেছে ৭ দশমিক ৩ শতাংশ, যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর প্রথমবারের মতো কাঠপণ্যের উৎপাদনে পতনের ঘটনা। আবাসন খাতের স্থবিরতা ও বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হওয়ার প্রভাব এখানে স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিডি ব্যাংকের অর্থনীতিবিদ মার্ক এরকালাও বলেন, “অক্টোবরের সার্বিক সংকোচন অনেকটাই প্রত্যাশিত ছিল।” তাঁর মতে, শুল্ক ও বৈদেশিক বাণিজ্যসংক্রান্ত চাপ যেসব খাতে প্রভাব ফেলেছে, সেগুলো অক্টোবরে আবারও কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ে। যদিও আগের কয়েক মাসে এসব খাত ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষণ দেখা গিয়েছিল।
তবে স্বস্তির খবর হলো, নভেম্বর মাসে অর্থনীতিতে সামান্য পুনরুদ্ধারের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার প্রাথমিক অনুমান অনুযায়ী, নভেম্বরে জিডিপি দশমিক ১ শতাংশ বাড়তে পারে। শিক্ষা, নির্মাণ ও পরিবহন খাতে কার্যক্রম বাড়ার ফলেই এই সীমিত প্রবৃদ্ধি সম্ভব হবে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
এরকালাও আরও বলেন, “মধ্যমেয়াদে অর্থনীতি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশা করছি। তবে তার আগে পরবর্তী এক বা দুই প্রান্তিকে সার্বিক প্রবৃদ্ধি বেশ নমনীয় বা দুর্বল অবস্থায় থাকতে পারে।”
অন্যদিকে, প্রাকৃতিক সম্পদভিত্তিক খাতগুলোও অক্টোবরে চাপের মুখে পড়ে। খনি, তেল ও গ্যাস উত্তোলন খাত অক্টোবরে দশমিক ৬ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে, যা সেপ্টেম্বরে এই খাতে যে সম্প্রসারণ দেখা গিয়েছিল তার চেয়েও বেশি মাত্রার পতন। একই সঙ্গে গত ছয় মাসের মধ্যে প্রথমবারের মতো নির্মাণ খাতের প্রবৃদ্ধিও কমে গেছে। এই হ্রাসের পেছনে প্রকৌশল ও বড় অবকাঠামো নির্মাণ কার্যক্রমে মন্দা প্রধান ভূমিকা রেখেছে।
সব মিলিয়ে, অক্টোবরে প্রকাশিত তথ্য কানাডার অর্থনীতির জন্য সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। উৎপাদন ও পণ্যভিত্তিক খাতের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। ফলে ধাপে ধাপে পুনরুদ্ধারের আশা থাকলেও ২০২৬ সাল পর্যন্ত অর্থনৈতিক এই অবদমন পুরোপুরি কাটবে না এমনটাই এখন বিশ্লেষকদের সামগ্রিক মূল্যায়ন।

