পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কৌশল প্রকাশের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর

পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য নিয়ে কৌশল প্রকাশের পরিকল্পনা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর - the Bengali Times
স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারজোরি মিশেল জানিয়েছেন প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বারবার পুরুষ ও বালকদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কৌশলের প্রয়োজনীয়তার কথা শুনেছেন

নতুন বছরে পুরুষ ও বালকদের স্বাস্থ্য নিয়ে একটি জাতীয় কৌশল প্রকাশের পরিকল্পনা করছে কানাডার ফেডারেল সরকার। দীর্ঘদিন ধরে পুরুষদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন অ্যাডভোকেসি গ্রুপ ও গবেষকরা। সরকারের এই উদ্যোগকে সেই দাবিরই প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী মারজোরি মিশেল জানিয়েছেন, প্রাদেশিক ও আঞ্চলিক স্বাস্থ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনার সময় তিনি বারবার পুরুষ ও বালকদের জন্য আলাদা স্বাস্থ্য কৌশলের প্রয়োজনীয়তার কথা শুনেছেন। শুধু বৈঠক নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সফরের সময়ও সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে একই উদ্বেগ উঠে এসেছে বলে জানান তিনি।

- Advertisement -

দি কানাডিয়ান প্রেসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মারজোরি মিশেল বলেন, “বিশেষ করে আমাকে যেটা বলা হয়েছে, তা হলো স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে পুরুষ ও বালকদের যে নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়, সেগুলো দীর্ঘদিন ধরেই উপেক্ষিত থেকে গেছে।”

এর আগে গত গ্রীষ্মে অ্যাডভোকেসি গ্রুপ মুভেম্বার ইনস্টিটিউট অব মেন’স হেলথ এবং ইউনিভার্সিটি অব ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার গবেষকরা যৌথভাবে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। ওই প্রতিবেদনে পুরুষদের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় স্বাস্থ্য কৌশল প্রণয়নের জন্য ফেডারেল সরকারের প্রতি স্পষ্ট আহ্বান জানানো হয়।

প্রতিবেদনটি তুলে ধরে যে, শুধু ২০২৩ সালেই প্রায় ৭৫ হাজার কানাডিয়ান পুরুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। গবেষকদের মতে, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশের কারণ ছিল এমন রোগ, যেগুলো সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতার মাধ্যমে প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।

মানসিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানাডায় পুরুষদের মধ্যে আত্মহত্যায় মৃত্যুর হার নারীদের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভেতরে পুরুষদের জন্য উল্লেখযোগ্য কাঠামোগত ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে।

মুভেম্বারের সমীক্ষায় অংশ নেওয়া পুরুষদের অভিজ্ঞতাও এই চিত্রকে আরও স্পষ্ট করে। সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের অর্ধেকের বেশি জানিয়েছেন, কোনো রোগের উপসর্গ দেখা দেওয়ার পর তারা ছয় দিনেরও বেশি সময় অপেক্ষা করে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন। প্রতি দশজনের মধ্যে একজন পুরুষ বলেন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পেতে তাদের দুই বছরেরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।

এছাড়া প্রায় অর্ধেক পুরুষের অভিযোগ, সাহায্য চাইতে গেলে অনেক সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীরা তাদের কথা গুরুত্ব দিয়ে শোনেন না বা যথাযথভাবে মনে রাখেন না। এর ফলে অনেক পুরুষ প্রয়োজনের তুলনায় দেরিতে বা একেবারেই চিকিৎসার বাইরে থেকে যান।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পুরুষ ও বালকদের জন্য আলাদা করে পরিকল্পিত স্বাস্থ্য কৌশল গ্রহণ করা হলে শারীরিক ও মানসিক উভয় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে। ফেডারেল সরকারের আসন্ন কৌশল ঘোষণাকে তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্যখাত সংশ্লিষ্টরা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles