
নতুন বছর শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই অন্টারিওতে বিয়ার, ওয়াইন ও অন্যান্য অ্যালকোহলজাত পণ্যের দাম বাড়তে পারে এমন আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। প্রাদেশিক সরকার অ্যালকোহল বাজারে যে কাঠামোগত পরিবর্তন এনেছে, তারই প্রত্যক্ষ প্রভাব হিসেবে মূল্যবৃদ্ধির এই সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
প্রিমিয়ার ডগ ফোর্ডের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রদেশে অ্যালকোহল বিক্রয় ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে এখন কনভিনিয়েন্স স্টোরগুলোতেও বিয়ার, ওয়াইন ও কুলার বিক্রির অনুমতি দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত ভোক্তাদের জন্য পণ্য কেনা সহজ করলেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ঐতিহ্যবাহী বিয়ার স্টোরগুলোর ওপর। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, কনভিনিয়েন্স স্টোরে বিক্রি শুরু হওয়ার পর থেকে বিয়ার স্টোরের বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে।
এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেওয়ার সময় সরকার জানিয়েছিল, ২০২৬ সালে নতুন পাইকারি মূল্য কাঠামো কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত সব খুচরা বিক্রেতা এলসিবিও-এর কাছ থেকে ১০ শতাংশ ছাড় পাবে। পরে চলতি বছরের বসন্তে সরকার বার, রেস্তোরাঁ এবং কনভিনিয়েন্স স্টোরগুলোর জন্য এই ছাড় বাড়িয়ে ১৫ শতাংশে উন্নীত করে। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যগত চাপ থেকে ব্যবসাগুলোকে সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেই ছাড়ের হার বাড়ানো হয়েছিল।
তবে এই বাড়তি ছাড়ের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ৩১ ডিসেম্বর। ফলে ১ জানুয়ারি থেকে আবার আগের কাঠামোয় ফিরে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ বলছে, ছাড়ের পরিমাণ কমে গেলে বাড়তি ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত গ্রাহকদের ওপরই পড়বে।
রেস্টুরেন্টস কানাডার প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) কেলি হিগিনসন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “এই মুহূর্তে ৪১ শতাংশ রেস্তোরাঁ কোনো ধরনের মুনাফা ছাড়াই টিকে আছে। ছাড় কমে গেলে আমাদের অ্যালকোহল কেনার খরচ বাড়বে, আর সেটার প্রভাব গ্রাহকদের ওপর পড়বে এটা খুবই অনুমেয়।”
তিনি আরও বলেন, “খাদ্যপণ্য, বিমা এবং বাণিজ্যিক ভবনের ভাড়ায় আমরা ইতোমধ্যেই দুই অঙ্কের মূল্যস্ফীতি দেখছি। এখন সেই তালিকায় অ্যালকোহলও যুক্ত হতে যাচ্ছে। উপাদানের দাম যেভাবে বাড়ছে, সেই হারে আমরা খাবারের দাম বাড়াতে পারিনি। কিন্তু অ্যালকোহলের ক্ষেত্রে আর কোনো বিকল্প নেই আমাদের দাম বাড়াতেই হবে। খাবারের দাম অনবরত বাড়িয়ে যাওয়া আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়।”
বিশ্লেষকদের মতে, সরকার অ্যালকোহল বিক্রিতে সহজলভ্যতা বাড়িয়ে ভোক্তাদের সুবিধা দিলেও মূল্যছাড়ের মেয়াদ শেষ হলে বাজারে একটি ভারসাম্যহীন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে রেস্তোরাঁ ও বারগুলো, যারা ইতোমধ্যেই উচ্চ ব্যয় ও কম মুনাফার চাপের মধ্যে রয়েছে, তারা অ্যালকোহলের দাম বাড়িয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে।
সব মিলিয়ে, নতুন বছরে অন্টারিওর ভোক্তাদের জন্য অ্যালকোহল সস্তা হওয়ার পরিবর্তে আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠতে পারে এমন বাস্তবতার দিকেই ইঙ্গিত দিচ্ছে বর্তমান পরিস্থিতি।

