এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে: তারেক রহমান

এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে: তারেক রহমান - the Bengali Times
ফাইল ছবি

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, গতকাল আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে যাঁদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে; তাদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। আজ বৃহস্পতিবার ভোরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া স্ট্যাটাসে তিনি একথা লিখেছেন।

তিনি বলেন, দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় অবিরত দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা। আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।

- Advertisement -

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএনসহ নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল নারী ও পুরুষ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান লিখেছেন, আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে।

যাঁদের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও আমি সমানভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের কারণে দিনটি নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি আরো লিখেছেন, মাননীয় জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের মাননীয় উপদেষ্টাগণ, ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আপনাদের সমন্বয় এবং উপস্থিতির মাধ্যমে, আমরা শান্তিতে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ। তাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এটা প্রমাণ করে, দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মা’র প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল।

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, কয়েক বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে এই অনুষ্ঠান কভার করা সাংবাদিকদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের মিডিয়াকর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জানাজার নামাজ ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন।

তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ।
উপদেষ্টা পরিষদের সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান লিখেছেন, আমি মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সকল সদস্যদেরও অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তাঁরা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে অনুভূত হয়েছে।

শেষ তিনি লিখেছেন, আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই; প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে। গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে। আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মা’র স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।

 

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles