
তার বডি ল্যাংগুয়েজ দেখে মনে হচ্ছে আমেরিকা থেকে নেতা আসছে। এসেই দলীয় সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখছে। একজন সাংবাদিক যখন নেতার আচরণ করে, তখন যা হবার তাই হবে; দলীয় ট্যাগ লেগে যাবে।
খালেদ মহীউদ্দিনকে অতীতে কিছুদিন ভালোই লাগতো। তারপর অপছন্দ করা শুরু করি তার আওয়ামী পীরিতির জন্য নয়। খারাপ লাগা শুরু হয় তার ব্যাক্তিত্বের জন্য। হঠাৎ হঠাৎ উত্তেজিত হয়ে খেপে ওঠা, ‘ও আচ্ছা’ বলে অপমানজনক উপমা দিয়ে গেস্টদের অসম্মান করা তার নৈমিত্তিক ব্যাপার। নিজেই অমূলক মন্তব্য করে নিজেকে খুশি করায়। একজন সাংবাদিকের কাজ হলো প্রশ্ন করে উত্তর নিয়ে সেটা দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করা। সে করে ঠিক উল্টো। কথা সে-ই বেশি বলে আর অতিথিরা দাঁড়িয়ে আংগুল চোষে; অল্প কিছু বলবার সুযোগ পায়। দেশ-বিদেশের অনেক বিখ্যাত সাংবাদিকের অনুষ্ঠান দেখি, কিন্তু তার মতো অ-প্রফেশনাল, অ-সাংবাদিক আচরণ খুব কম দেখি। তাই দেখা বাদ দিয়েছি অনেক আগে।
তার সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হলো অনুষ্ঠানে নিজের সাথে গেস্টদের ব্যাক্তিত্বের সংঘাত বাঁধিয়ে দেয়া। এসব দেখে মনে হয়, ব্যাটা একজন ভালো সাংঘাতিক! আরে বাবা, হাসিনা কী বলবে তা সবার জানা। আমাদের খায়ে দায়ে কাজ নাই হাসিনার সাথে আপনার জি আপা জি আপা শোনা..। হাসিনা কি আপনাকে অনুরোধ করেছে ইন্টারভিউ দেবার, নাকি আপনি?
গতকাল তার ২৪’ নিয়ে কটাক্ষ করাটা খুব চোখে লেগেছে। একজন ক্লাস টু এর বাচ্চাও সেটা ধরতে পারবে। এ নতুন নয়, দেখেছি অতীতেও। এবার করলো আরও নির্লজ্জ ন্যাংটাভাবে। তার বডি ল্যাংগুয়েজ অগ্রহণযোগ্য। তাকে নিয়ে আওয়ামীদের কোনো বিপক্ষে কোনো মন্তব্য করতে দেখেছেন? কেন না, সেটা সহজেই অনুমেয়। আওয়ামীরা তার মধ্যে আশ্রয় খোঁজে।
লাইক, সাবস্ক্রাইব হার্পিক মজুমদার যেমন পায়, আবার শামীম ওসমানও পায়। এই ভদ্রলোক “আমি কি হনু রে” নিয়ে বাংলাদেশ এসেছে নেতার বেশে। তার মাঝে সাংবাদিকতার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনে দাঁড়ালে খুব মানাবে।
আর খুব বিশ্রী লাগলো হাসনাত-সার্জীসদের কিছু কান্ড দেখে। তোমরা কেন নাচতে নাচতে যাও তার সাথে দেখা করতে? পার্সোনালিটির কি এতোটাই দুর্ভিক্ষ চলছে?
যাই হোক, লোকটাকে গুরুত্ব দিয়ে এই পনেরো মিনিট নষ্ট করাতে নিজের ওপর রাগ লাগছে। তারচেয়ে গল্প এডিট করা অনেক ভালো ছিল।
অটোয়া, কানাডা

