
আন্তর্জাতিক পর্নোগ্রাফি সাইটে কন্টেন্ট প্রকাশ করে বাংলাদেশকে বিতর্কের মুখে ফেলে দেওয়া দম্পতি মো. আজিম ও তার স্ত্রী বৃষ্টি গ্রেপ্তার ঠেকাতে বান্দরবানে বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। শহরের উপকণ্ঠে রোয়াংছড়ি বাস স্টেশন সংলগ্ন ঠিকাদার সেন্টু মিন্টুর একটি ফ্ল্যাটে উঠেন তারা। গত এক সপ্তাহ ধরে তারা সেখানেই অবস্থান করছিলেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া এই দম্পতি খুব একটা ঘর থেকে বের হতেন না। তাদেরকে বাড়ির মালিক ও এলাকার কেউই চিনতেনও না। বাসা ভাড়া দেওয়ার সময় বাড়ির মালিক তাদের কাছ থেকে কোন কাগজপত্রও নেননি।
রবিবার (১৯ অক্টোবর) গভীর রাতে ওই ফ্ল্যাটে হানা দেয় ঢাকার সিআইডির সদস্যরা। আজ সোমবার সকালে গণমাধ্যমে এ খবর প্রচারের পর সবার টনক নড়ে।
এর আগে, তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বসেই আন্তর্জাতিক প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকার অভিযোগ ওঠে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের ‘মডেল’ বলে পরিচয় দিতেন। তারা বিশ্বের অন্যতম বড় ওয়েবসাইটে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করে আলোচনায় আসেন।
গবেষণামূলক অনুসন্ধানভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম দ্য ডিসেন্ট-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, এই যুগল ২০২৪ সালের মে মাস থেকে অনলাইনে সক্রিয় হন। এক বছরের মধ্যে তারা শতাধিক ভিডিও প্রকাশ করে বিপুল দর্শক ও অনুসারী অর্জন করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যুগলটি শুধু একটি ওয়েবসাইটেই নয়, কয়েকটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মেও কনটেন্ট প্রকাশ করছেন। সেইসঙ্গে টেলিগ্রাম, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামেও নিজেদের কার্যক্রম প্রচার করছেন। ২০২৪ সালের মে মাসে তাদের নামে একটি টেলিগ্রাম চ্যানেল খোলা হয়, যেখানে কয়েক হাজার সদস্য রয়েছেন। সেখানে নতুন ভিডিওর লিংক ও তাদের আয়ের স্ক্রিনশট শেয়ার করা হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, তরুণদের এই ইন্ডাস্ট্রিতে যুক্ত হওয়ার প্রলোভন দেখানো হতো। কিছু অনলাইন পোস্টে দেখা গেছে, ‘নতুন ক্রিয়েটর যুক্ত করুন, অর্থ উপার্জনের সুযোগ পান’— এমন বার্তা দেয়া হচ্ছে।

