অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে, একজন নিখোঁজ

অভিযুক্ত ১৫ সেনা কর্মকর্তা হেফাজতে, একজন নিখোঁজ - the Bengali Times
সংগৃহীত ছবি

গুম-খুনে জড়িত সেনাবাহিনীর ১৫ জন কর্মকর্তাকে সেনা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বা সংযুক্ত করা হয়েছে। আজ শনিবার সেনা সদরে সার্বিক বিষয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর অ্যাডজুট্যান্ট জেনারেল মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান।

তিনি বলেন, যাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। ৮ ও ৯ অক্টোবর তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়।

- Advertisement -

মেজর জেনারেল কবিরকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানান তিনি। এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। যারা গুম হয়েছেন তাদের প্রতি সহানুভূতি জানিয়েছেন মেজর জেনারেল হাসানুজ্জামান।

গুম কমিশন ও প্রসিকিউশনকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করা হচ্ছে জানিয়ে ব্রিফিংয়ে তিনি আরও বলেন, অফিসিয়ালভাবে আমরা কোনও কাগজ পাইনি। তথ্যের ভিত্তিতে তাদের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। যাতে কেউ বলতে না পারে সেনাবাহিনী কারো পক্ষে কাজ করছে। আমরা চাচ্ছি যারা অপরাধ করেছে তাদের বিচার হোক। আমরা বিচারের পক্ষে।

সেনাবাহিনী নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা নির্বাচনী প্রস্তুতি নিচ্ছি। অন‍্যান‍্য নির্বাচনের চেয়ে আগামী নির্বাচনে সেনাবাহিনী আরও বেশি সহায়তা করবে। অনেক ভূমিকা পালন করবে। সেনাবাহিনী দেশের জন‍্য কাজ করছে। জীবন দিয়ে হলেও দেশের নিরাপত্তার জন‍্য কাজ করবে।

যারা অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন তাদের ইচ্ছা করলে পুলিশও গ্রেপ্তার করতে পারে। আবার তারা চাইলে আমাদের হেফাজতে আসতে পারেন বলেও জানান তিনি।

যারা হেফাজতে আছেন

গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরতরা হলেন মেজর জেনারেল শেখ মো. সরওয়ার হোসেন, মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, কর্নেল কে এম আজাদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারওয়ার বিন কাশেম, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মশিউর রহমান জুয়েল এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন।

মো. হাকিমুজ্জামান বলেন, যেসব কর্মকর্তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়েছে, তাদের মধ্যে ১৫ জন বর্তমানে সেনা হেফাজতে রয়েছেন। আমরা মোট ১৬ জনকে সেনা হেফাজতে আসার জন্য বলেছিলাম, তাদের মধ্যে ১৫ জন এসে হেফাজতে রয়েছেন।

তিনি জানান, ৩টি মামলায় ২৫ জন সেনা কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে অবসরে আছেন ৯ জন, এলপিআরএ একজন, আর বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৫ জন।

মো. হাকিমুজ্জামান জানান, ৮ তারিখ চার্জশিট দাখিলের পর এলপিআর ও সার্ভিসে থাকা ১৬ জনকে সেনাসদরে সংযুক্ত করা হয়। তাদের ৯ অক্টোবরের মধ্যে সেনাসদরে আসার নির্দেশনা দেওয়া হয়। মেজর জেনারেল কবীর আহাম্মদ ছাড়া বাকি ১৫ জন রেসপন্স করেছেন। তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছে। তারা ফ্যামিলি থেকে ডিটাচ আছেন।

তিনি বলেন, মেজর জেনারেল কবির আত্মগোপনে গেছেন। তিনি যাতে বিদেশে চলে যেতে না পারেন, সেজন্য তৎপরতা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বুধবার মানবতাবিরোধী অপরাধের দুটি মামলায় ৩০ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। প্রথম মামলায় র‌্যাবের টাস্কফোর্স ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে আটক ব্যক্তিদের নির্যাতনের অভিযোগে ১৭ জন এবং দ্বিতীয় মামলায় জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) নির্যাতনের ঘটনায় ১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

উভয় মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে, যিনি জুলাইয়ের সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হন। মামলায় আরও রয়েছেন তার প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা বিষয়ক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকী এবং ডিজিএফআই-এর সাবেক পাঁচ মহাপরিচালক।

গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া ৩০ জনের মধ্যে ২২ জনই কর্নেল থেকে লেফটেন্যান্ট জেনারেল পর্যায়ের সাবেক ও বর্তমান সেনা কর্মকর্তা।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles