কে এই তাহসিফ সাউরি, তাকে নিয়ে কেন এত আলোচনা?

কে এই তাহসিফ সাউরি, তাকে নিয়ে কেন এত আলোচনা? - the Bengali Times
বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি

বন্ধুস্থানীয় এক ছোট ভাইয়ের ডাকে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকার উত্তরার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি। এরপর আর বাসায় ফেরেননি তিনি। এক দিন পর বুধবার সন্ধ্যায় তুরাগ নদ থেকে উদ্ধার হয় তাঁর মরদেহ। এ ঘটনায় পরিবার হত্যার অভিযোগ তুলেছে। তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তাহসিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে শুরু হয়েছে আলোচনা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের সময় ধারণ করা একটি ভিডিও নিয়ে বিতর্ক এবং বিমানবাহিনী থেকে তাঁর চাকরিচ্যুত হওয়ার ঘটনা নতুন করে সামনে এসেছে।

- Advertisement -

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বুধবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে গাজীপুরের টঙ্গীর রাজাবাড়ি ঘাট এলাকায় তুরাগ নদ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এ সময় মরদেহটি কচুরিপানার মধ্যে ভাসছিল। তাঁর পরনে ছিল কালো জামা ও সাদা ট্রাউজার।

নিহতের বাবা এ এম এনায়েতুল করিমের ভাষ্য, মঙ্গলবার সারাদিন পরিবারের সঙ্গেই সময় কাটিয়েছিলেন তাহসিফ। সন্ধ্যার দিকে পরিচিত এক ছোট ভাইয়ের ডাকে বাসা থেকে বের হন। রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাঁর মায়ের ফোনে ‘আম্মু, আমি আসছি’ লিখে একটি বার্তা পাঠান। এরপর থেকে তাঁর সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

পরিবারের সদস্যরা বিভিন্নভাবে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান না পেয়ে বুধবার দুপুরে থানায় যোগাযোগ করেন। পরে সন্ধ্যায় পুলিশ তাঁদের মরদেহ উদ্ধারের খবর জানায়। নিহতের বাবা দাবি করেছেন, তাঁর ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তবে কারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দিতে পারেননি তিনি।

যে কারণে আলোচনায় এসেছিলেন তাহসিফ

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছাড়েন। ওই সময় তাঁর দেশত্যাগের মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি ধারণ ও প্রচারের সঙ্গে বিমানবাহিনীর দুই কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তাঁদের একজন হিসেবে তাহসিফ সাউরির নামও আলোচনায় আসে।

এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তবে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক প্রতিবাদলিপিতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করে। এতে জানানো হয়, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সাউরি ও ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট রিফাত আশরাফীকে ভিন্ন প্রেক্ষাপটে বিমানবাহিনীর প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী যথাযথ প্রক্রিয়ায় অবসর দেওয়া হয়েছে।

তিন মাস আগে একটি ইউটিউব চ্যানেলের সাক্ষাৎকারেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছিলেন তাহসিফ। ভিডিও ধারণ বা প্রচারের অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। তবে এ অভিযোগকে তিনি প্রমাণিত সত্য হিসেবে স্বীকার করেননি।

কেন চাকরি হারিয়েছিলেন?

পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে শৃঙ্খলাজনিত কারণে বিমানবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয় তাহসিফকে। তাঁর বাবা জানান, বাহিনীর পক্ষ থেকে তাঁদের এ কারণের কথা জানানো হয়েছিল।

চাকরি হারানোর পর বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, নেত্র নিউজসহ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছিলেন তিনি। তবে বিমানবাহিনীতে পাইলট হিসেবে কর্মজীবন ছিল তাঁর স্বপ্ন। প্রায় ২০০ ঘণ্টা উড়োজাহাজ চালানোর অভিজ্ঞতাও ছিল তাঁর।

তাহসিফের এক বন্ধু বিবিসি বাংলাকে জানান, চাকরি হারানোর পর থেকেই মানসিক চাপে ছিলেন তিনি। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের কারণে সামাজিকভাবেও হেনস্তার শিকার হয়েছিলেন বলে দাবি করেন তাঁর পরিচিতজনেরা।

নিহতের বাবা জানিয়েছেন, ছেলে মাঝেমধ্যে নিজেকে কিছুটা শঙ্কিত মনে করার কথা বলতেন। তবে তাঁকে কেউ সরাসরি হুমকি দিয়েছিল কি না, সে বিষয়ে পরিবার নিশ্চিত নয়।

মৃত্যুর কারণ নিয়ে প্রশ্ন

তুরাগ নদ থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর তাহসিফের মৃত্যুর কারণ নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। সুরতহাল প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে দৃশ্যমান আঘাতের চিহ্ন না থাকলেও নাক দিয়ে রক্ত বের হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা নিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিস্তারিত তথ্য জানায়নি। পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও সেটি এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।

তাহসিফের মৃত্যুর রহস্য উদ্‌ঘাটনে তদন্তের ফলাফল এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles