
ছুটির দিন।
রান্না ঘরের দিকে এগোতেই দেখি বাড়ির বাইরের দরজার ঘোলা কাঁচের ওপাশে কেউ একজন উঁকিঝুঁকি দেয়ার চেষ্টা করছে। আমাকে দেখে হাত নাড়লো।
দরজা খুলে দেখি দখিনার বান্ধবী ফ্লোরিনা দাঁড়িয়ে।
হাউ আর ইউ ফ্লোরিনা!- জিজ্ঞেস করলাম।
– শু্শু্শু্… [বলে তার মুখে তর্জনী চেপে আমাকে চুপ থাকতে বলল]
তারপর নিঃশব্দে জুতো খুলে খুব সাবধানে পা টিপে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেলো।
ভাবলাম ওরা এক্ষুনি খুশিতে চিল্লাচিল্লি শুরু করবে আনন্দে। কিন্তু প্রায় দশ মিনিট হলো, তবুও নিরবতা। হঠাৎ “অ মাই গড!” বলে বিশ্ময়ে দখিনার চিৎকার।
শুরু হলো দুজনের কথা, উচ্ছ্বাস, আনন্দ, গল্প। দখিনা নিচে নেমে এসে ফ্লোরিনার মতো নিঃশব্দে সিড়ি বেয়ে উঠে দেখলো কিভাবে সে কাজটা করেছিল; তার বিশ্বাসই হচ্ছে না এভাবে কেউ জানান না দিয়ে তার পাশে মিনিটের পর মিনিট দাঁড়িয়ে থাকতে পারে? সে বসে বসে গেমস্ খেলছিল কম্পিউটারে।
শুরু হলো তাদের দ্বৈত কন্ঠে গান। এদের শত শত গান মুখস্ত। এরপর শুরু হলো নাচ; ধুপধাপ আওয়াজে মাথা ধরে গেল। এদের দ্বৈত টিকটক আছে অনেক।
করুক আনন্দ।
তাদের জন্য কেক আর কুকিজ পাঠিয়ে দিয়ে বাগানে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দু’জন একসাথে বাগানে এসে হাজির। বুঝলাম তাদের কোনো দুষ্টু মতলব আছে। আমার সামনে দুষ্টু দুষ্টু চেহারা বানিয়ে রোবোটের মতো স্থীর দাঁড়িয়ে একসাথে বলা শুরু করলো- বলো তো ডাইনোসর কেন হাততালি দিতে পারে না?
– পারে তো, টি-রেক্স পারে- বললাম।
– না হয়নি। পারবা না?
– না
– কারন ডাইনোসর অনেক আগেই বিলুপ্ত হয়ে দুনিয়া থেকে চলে গেছে- বলে দু’জন একে অপরের গায়ে এলিয়ে পড়ে হাসতো হাসতে চলে গেল।
লে ঠ্যালা!
আমি বোকার মতো দাঁড়িয়ে থাকি।
এরা এতো স্মার্ট!
.
তারা বাইরে খেলতে চলে গেলো। দু’জনের হাতেই ছোট রিচার্জেবল ফ্যান, মুখে বাতাস খাচ্ছে।
দুই বান্ধবীর দারুন মিল। মাঝে মধ্যেই ফ্লোরিনা তার বাসা থেকে এক কিলোমিটার দূর থেকে হেঁটে চলে আসে। স্কুলের বেশিরভাগ অনুষ্ঠানে দুজন একসাথে উপস্থাপনা করে, ভলান্টিয়ার করে।
গিন্নির সাথেও বেশ ভাব; তাকে মা বলে ডাকে। জড়িয়ে ধরে বিদায় জানায়।
তারা পার্কে বেড়ানো শেষ করে আধা ঘন্টা পর ফিরে দরজা নক করলো। দরজা খুলে তাদের সামনে দাঁড়িয়ে বললাম- এবার তোমরা বলো দেখি! পিঁপড়াদের কেন কোভিড হয় না?
হঠাৎ প্রশ্ন শুনে তারা মুখ চাওয়া চাওয়ি করে অনেক ভেবেও উত্তর দিতে পারলো না।
পারবা না?- বললাম।
– না [তারা একসাথে উত্তর দিতে থাকে]
– গিভ আপ?
– ইয়েস!
– কারনটা হলো, এন্ট’সদের ছোট্ট এন্টি বডি থাকে যে?
বলে উচ্চ শব্দে হা হা করে হাসার ভান করে আমি নিজের হাঁটুতে চাপড় মেরে গড়াগড়ির অভিনয় করতে থাকি..।
দু’জন বত্রিশ পাটি বের করে মুখ চাওয়া চাওয়ি করে একসাথে বলে উঠলো- ইউ আর ঠু স্মার্ট ড্যাড!
মনে মনে বললাম, ছাতার স্মার্ট।
তোরা আসার আগে গুগল করে কুইজ খুঁজে এটা মুখস্থ করে রেখেছিলাম।
অটোয়া, কানাডা

