মনি-মুক্তা এখন মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীক

মনি-মুক্তা এখন মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীক - the Bengali Times
জমজ দুই বোন মনি ও মুক্তা

দিনাজপুর জেলার বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া গ্রামে জয় প্রকাশ পালের বাড়ি। জয় প্রকাশ পালের স্ত্রী কৃষ্ণা রাণী পালের গর্ভে ২০০৯ সালের ২২ আগস্ট পার্বতীপুর ল্যাম্ব হাসপাতালে সিজারিয়ান সেকশনে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মনি এবং মুক্তা জোড়া লাগা অবস্থায় জন্ম নেয়। পরে রংপুরের চিকিৎসকরা ঢাকা শিশু হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে যমজ বোনকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পৃথক করার পরামর্শ দেন। তাদের পরামর্শ ক্রমে ২০১০ সালের ৩০ জানুয়ারি ঢাকা শিশু হাসপাতালে মনি-মুক্তাকে ভর্তি করা হয়। এরপর ৮ ফেব্রুয়ারি শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. এ আর খানের সফল অপারেশনের মাধ্যমে মনি-মুক্তা আলাদা হয়। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবায় সৃষ্টি হয় এক নতুন ইতিহাস। নানা প্রতিকুলতা পেরিয়ে দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামে বেড়ে উঠা মনি মুক্তা ১৭ বছরে পা দিয়েছে। জন্মের পর নানা অপবাদ আর কুসংস্কারের ছায়া পড়েছিল মনি-মুক্তার ওপর। মনি মুক্তার জোড়া লাগানো অবস্থায় জন্মগ্রহণকে মানুষ সৃষ্টি কর্তার অভিশাপ হিসেবে অপবাদ দিলেও বর্তমানে পড়াশুনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে মনি মুক্তার প্রতিভা পাল্টে দিয়েছে সকল মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি। মনি-মুক্তা হয়ে উঠেছে এখন এলাকার মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীক। গতকাল নিজবাড়ীতে আনুষ্ঠানিকভাবে পালন করা হয় তাদের জন্মবার্ষিকী।
দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার শতগ্রাম ইউনিয়নের পালপাড়া নামে একটি ছায়া ঘেরা তাদের বেড়ে উঠা। দুজনেই স্থানীয় ঝাড়বাড়ী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রী। প্রতিদিন তারা ৩ কিলোমিটার পথ বাইসাইকেলে করে স্কুলে যায়। শুধু পড়াশোনা নয়, নাচ, গান, ছবি আঁকা ও কাপড়ে পেইন্টিং তারা সমান দক্ষ। স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে বেশ সফলতার স্বাক্ষর রেখেছেন বলে জানিয়েছেন মনি মুক্তার বাবা জয় প্রকাশ পাল।
জয় প্রকাশ পাল বলেন, মনি-মুক্তা পড়াশোনায় মনোযোগী, পাশাপাশি নাচ, গান ও আঁকাআঁকিতে তাদের প্রতিভা গ্রামের মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টে দিয়েছে। আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই তারা যেন মানুষের মতো মানুষ হয়ে দেশের সেবা করতে পারে। মা কৃষ্ণা রাণী পাল বলেন, জন্মের পর সমাজের নানা কুসংস্কার আমাদের একঘরে করে দিয়েছিল। কিন্তু ভগবান ও চিকিৎসকদের আশীর্বাদে আজ তারা স্বাভাবিকভাবে বেঁচে আছে। আমরা চাই, তারা বড় হয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াক। যাদের একসময় সমাজ ‘অভিশপ্ত বলেছিল, আজ তারা গ্রামের মানুষের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
মনি-মুক্তা প্রমাণ করেছেন শিক্ষা, পারিবারিক সাহস আর সামাজিক সহযোগিতা থাকলে অসম্ভব কিছু নেই। তাদের স্বপ্ন চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবা প্রতিদিন তাদের এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। মনি-মুক্তার জীবন গল্প শুধুই ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয় এটি সাহস, অধ্যবসায় ও মানবিকতার এক জীবন্ত দৃষ্টান্ত। ১৭ বছরে এরা দেখিয়েছে, প্রতিবন্ধকতা যতই বড় হোক, স্বপ্ন আর পরিশ্রম থাকলে এগিয়ে যাওয়ার পথ সবসময় খোলা।

।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles