সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা, হ্যান্ডমাইক হাতে প্রশিক্ষণ দেন সুমাইয়া জাফরিন

সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা, হ্যান্ডমাইক হাতে প্রশিক্ষণ দেন সুমাইয়া জাফরিন - the Bengali Times
ছবি সংগৃহীত

সম্প্রতি অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত করতে রাজধানীর একটি কনভেনশন সেন্টারে গেরিলা প্রশিক্ষণে অংশ নেন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। প্রশিক্ষণে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার নেতাকর্মীরা পরিচয় গোপন রেখে বিশেষ কোড ব্যবহার করে অংশ নেন। প্রশিক্ষণে পরিকল্পনা হয় শেখ হাসিনা নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সারা দেশ থেকে লোকজন ঢাকা শহরে সমবেত করবে এবং শাহবাগ মোড় দখল করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করবে।

এরপর জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এজন্য সভায় শপথ নেওয়া হয়। ওই সভায় উপস্থিত সবাইকে প্রশিক্ষণ দেন মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন। ভাটারা থানার মামলায় গ্রেফতার চালক লীগের সভাপতি মিলন শিকদার আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে এসব কথা বলেন। রোববার তাকে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় তিনি স্বেচ্ছায় জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মিনহাজুর রহমান তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

- Advertisement -

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, সোবহান গোলন্দাজ নামের একজন আওয়ামী লীগ সমর্থক তাকে সেখানে নিয়ে যান। ওই সভায় আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহলের ২০০ থেকে ৩০০ নেতাকর্মী সরাসরি এবং অনলাইনের মাধ্যমে অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন। প্রশিক্ষণে হ্যান্ড মাইক হাতে তিনিই (সুমাইয়া জাফরিন) সবাইকে পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত বলেন। পরে জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শনিবার উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকা থেকে মিলন শিকদারকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জেহাদ হোসেন বলেন, আটক মিলন সিকদার ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। এ ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।

এর আগে এ মামলায় বুধবার মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিনকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন আদালতে হাজির করে ৭ দিন রিমান্ড চাইলে ৫ দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেন আদালত। ওইদিন শুনানিতে আদালতকে সুমাইয়া বলেন, আমার নামে দোষ চাপানো হচ্ছে। কনভেনশন হলে আগে থেকে সবকিছু এরেঞ্জ করা ছিল। আমি আমার স্বামীর সঙ্গে ওখানে গিয়েছিলাম। ওখানে কি ধরনের কাজ হচ্ছিল সে সম্পর্কে আমার জানা ছিল না।

পুলিশের একটি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের ঘটনায় কার কী ধরনের ভূমিকা ছিল, আরও কারা জড়িত ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এছাড়াও সুমাইয়া ইউনিলিভার বাংলাদেশের টেরিটরি ম্যানেজার হিসাবে টঙ্গী গাজীপুর শাখায় কর্মরত বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। সুমাইয়া এবং তার স্বামী মেজর সাদেকুল হক পূর্বাচলে সি-সেল নামক রিসোর্টের কাটাবন রেস্টুরেন্টে এবং মিরপুর ডিওএইচএসে একাধিকবার রাষ্ট্রবিরোধী গোপন বৈঠকের আয়োজন করেন। এছাড়া উত্তরায় ১২ নম্বর সেক্টর আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের বিপরীতে প্রিয়াংকা সিটির দুই নম্বর গেটসংলগ্ন সুমাইয়ার একটি ফ্ল্যাটে একাধিকবার গোপন বৈঠক করেছেন।

সূত্র : যুগান্তর

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles