
সিলেটের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বারবার আলোচনায় আসা এই ‘সুন্দরী’ তরুণীর নাম সুমাইয়া আক্তার মৌ। কিছুদিন পর পরই আলোচনায় আসে সে। সিলেটি আঞ্চলিক নাটকের অভিনেত্রী সুমাইয়া আক্তার মৌ এবার সন্দেহভাজন হিসেবে সেনাবাহিনী আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছে। গত শনিবার (১৯ জুলাই) রাতে সিলেট বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাঁকে আটক করেছিল বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি দল। পরে তাকে এয়ারপোর্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়। মৌ’র কাছে ঘুমের ওষুধ ও মাদক-সদৃশ্য দ্রব্য পাওয়া গেছে। রোববার দুপুরের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি জামিনে বেরিয়ে যান।
নাটকপাড়ার লোকজন জানান, উচ্ছৃঙ্খল জীবন-যাপনের কারণে মৌয়ের সঙ্গে এখন অনেকেরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। বেপরোয়া আচরণের জন্য অনেকেই এখন তার ধারে-কাছে যান না। তবে বারবারই বন্ধু পাল্টান তিনি। এবার তিনি দুই বন্ধুসহ আটক হয়েছিলেন। সিলেট শহরতলীর বাইশটিলা। একটি পর্যটনস্পট। ডেটিংয়ের তীর্থস্থান বলা হয় ওই টিলাকে। আবার মাদকের আখড়াও। সেই বাইশটিলায় পর্যটকদের যাতায়াত থাকলেও রাতের আঁধারে কেউ থাকেন না। তখন ভিন্ন জগতে রূপ নেয় বাইশটিলা। সেই স্থান থেকে গভীর রাতে বন্ধুদের নিয়ে আসছিলেন মৌ। আসার পথে তিনি আটক হন।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি সৈয়দ আনিসুর রহমান জানিয়েছেন, মৌকে শনিবার গভীর রাতে সেনাবাহিনীর একটি টিম বাইশটিলা এলাকার চেকপোস্টে ধরেন। ওই নারী একটি গাড়িতে করে সিগারেট খেতে খেতে আরও কয়েকজন সঙ্গীর সঙ্গে আসছিলেন। এ সময় সেনাবাহিনী তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা সদুত্তর দিতে পারেনি। বিশেষ করে ওই নারী অসংলগ্ন কথা বলছিলেন।
এ ছাড়া, তার কাছে ঘুমের ওষুধ ও মাদক-সদৃশ্য দ্রব্য পাওয়া গেছে এবং তিনি উগ্র আচরণ করছিলেন। পরে সেনাবাহিনী সে ও তার দুই পুরুষ সঙ্গীসহ তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। মৌসহ আটক তিনজনকে দুপুরের পর আদালতে হস্তান্তর করা হয়। সুমাইয়া আক্তার মৌ সিলেটের দক্ষিণ সুরমার স্বর্ণশিখা আবাসিক এলাকার ৫ নম্বর বাসার শাহেদ মিয়ার মেয়ে। তিনি অভিনেত্রী ও মডেল হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সাল থেকে তিনি আলোচনায়। ওই সময় তিনি তার দুই প্রেমিকসহ বন্দরবাজার থেকে গ্রেপ্তার হন।
২০১৪ সালের জুন মাসে সুমাইয়া আক্তার মৌ সিলেটের হাসান মার্কেটের ব্যবসায়ী সবুজ ও সাজুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলেন। ওই সময় বেশ কয়েক মাস ওই দুই যুবকের সঙ্গে একযোগে প্রেম চালিয়ে যান। ওই সময় তার স্বামী নগরের কুমারপাড়ার বাসিন্দা কামরুল ইসলামের অজান্তে সবুজ ও সাজুকে নিয়ে মৌ অনেক স্থানে নির্জনে সময় কাটান। একপর্যায়ে সবুজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাগ বসানোর চেষ্টা করেন মৌ। এই বিষয় এবং মৌয়ের সঙ্গে সবুজ ও সাজুর ত্রিভুজ প্রেম নিয়ে ত্রিমুখী বিরোধ বাধে। এই বিরোধ প্রকাশ্যে আসে ২০১৪ সালের ১২ই জুন। সুমাইয়া আক্তার নেশার টাকা জোগাড় করতে তরুণ ও যুবকদের টার্গেট করেন। টাকা না পেলে মামলা- বিশেষ করে ধর্ষণ মামলা দেয়ার ভয় দেখান বলেও অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে শাহনেওয়াজ শাহিন নামের এক যুবকের বিরুদ্ধেও তিনি নারী নির্যাতনের মামলা দিয়েছেন। যার কারণে শাহনেওয়াজ শাহিন বর্তমানে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

