
কুইবেক প্রাদেশিক সরকার সম্প্রতি ২০২৪–২৫ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেছে, যেখানে কর ছাড় ও কর ক্রেডিট সংস্কারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাজেটের মূল লক্ষ্য হিসেবে মধ্যবিত্ত পরিবারকে আর্থিক স্বস্তি দেওয়া, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাকে উৎসাহিত করা এবং প্রদেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানো উল্লেখ করা হয়েছে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুইবেকের মোট বাজেটের আকার দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো খাতে সবচেয়ে বেশি বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তবে বাজেটের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হচ্ছে কর নীতি এবং কর প্রণোদনার সংস্কার।
বাজেটে সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে কর ক্রেডিটের হালনাগাদ। সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, পরিবারের শিশু যত্ন ব্যয়ের জন্য কর ক্রেডিট ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর অর্থ, একটি গড় পরিবার এখন বছরে প্রায় ২,৫০০ ডলার পর্যন্ত কর ছাড় সুবিধা পাবে।
এছাড়া সবুজ প্রযুক্তি ব্যবহারকারী পরিবারদের জন্য নতুন কর ক্রেডিট চালু করা হয়েছে। সৌরশক্তি প্যানেল, বৈদ্যুতিক গাড়ি চার্জার এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তি সংক্রান্ত খরচে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে। সরকার আশা করছে, এর ফলে পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে এবং পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় কমানো সম্ভব হবে।
ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাকে উৎসাহিত করতে বাজেটে বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ক্ষুদ্র ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্পে সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কর ক্রেডিট পাবে।
তাছাড়া নতুন উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ হারে কর ছাড় ঘোষণা করা হয়েছে, যারা প্রযুক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি এবং পরিবেশবান্ধব শিল্পে বিনিয়োগ করবেন। সরকারের হিসাব অনুযায়ী, এর ফলে আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ১০,০০০ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে।
বাজেট সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ বিনিয়োগ এবং সাংস্কৃতিক খাতকেও প্রাধান্য দিয়েছে। স্থানীয় সাংস্কৃতিক প্রকল্প বা অলাভজনক সংস্থায় বিনিয়োগকারীদের জন্য কর ছাড় সুবিধা সহজ করা হয়েছে। সরকারের মতে, এই পদক্ষেপ স্থানীয় সংস্কৃতি ও সামাজিক খাতকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করবে।
বাজেটে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ব্যক্তিগত ও কর্পোরেট আয়কর হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে কুইবেকের ব্যক্তিগত আয়কর হার সর্বোচ্চ ২৫.৭৫ শতাংশ, যা কানাডার মধ্যে অন্যতম উচ্চ। কর্পোরেট আয়কর হার ১১.৫ শতাংশ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
এই অবস্থান নিয়ে সমালোচকরা বলছেন, উচ্চ করের কারণে অনেক ব্যবসা ও ধনী নাগরিক প্রদেশ ত্যাগ করছেন। তাদের মতে, আয়কর হার না কমানো হলে কুইবেকের প্রতিযোগিতা ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে সরকার যুক্তি দিয়েছে, আয়কর হ্রাস করলে রাজস্ব ঘাটতি আরও বেড়ে যাবে। বর্তমানে প্রদেশের বাজেট ঘাটতি প্রায় ৭.২ বিলিয়ন ডলার।
অর্থনীতিবিদদের একটি অংশ মনে করছে, বাজেট বাস্তবায়িত হলে মধ্যবিত্ত ও ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য এটি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তবে দীর্ঘমেয়াদে কুইবেকের অর্থনীতিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করতে হলে আয়কর কাঠামোয় সংস্কার অপরিহার্য।
কুইবেকের এই বাজেট মূলত কর ছাড় এবং কর ক্রেডিটের মাধ্যমে নাগরিক ও ব্যবসাকে স্বস্তি দেওয়ার ওপর কেন্দ্রিত। উচ্চ কর হার অপরিবর্তিত থাকায় তা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। একদিকে এটি অর্থনৈতিকভাবে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, অন্যদিকে কেউ মনে করছেন এটি প্রদেশের দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতা ক্ষমতা কমিয়ে দেবে।
সরকার বাজেট বাস্তবায়নের মাধ্যমে আশা করছে, কর প্রণোদনা ও সহজীকরণের মাধ্যমে মধ্যবিত্ত পরিবার, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা এবং সামাজিক খাতকে সমর্থন দেওয়া সম্ভব হবে। তবে এর প্রকৃত প্রভাব আগামী বছরগুলোতে স্পষ্ট হয়ে উঠবে।

