
কানাডার অন্টারিওর পিল অঞ্চলে সংঘবদ্ধ গাড়ি চুরির ঘটনায় ১০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পিল রিজিয়নাল পুলিশ। দীর্ঘ তদন্তে ১৪ লাখ কানাডীয় ডলার মূল্যের ১৫টি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া গুলি ও ম্যাগাজিনসহ চারটি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র জব্দ করেছেন তদন্তকারীরা। এই ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মোট ১২৮টি অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের সেন্ট্রাল রোবারি ইউনিট পরিচালিত ‘প্রজেক্ট হাই গার্ড’ নামের তদন্ত শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের জুনে। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তদন্ত শেষ হয়। পরে ৩ সেপ্টেম্বর একাধিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সোমবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিল রিজিয়নাল পুলিশের প্রধান নিশান দুরাইয়াপ্পাহ বলেন, গাড়ি চুরি প্রতিরোধে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রতিটি গাড়ি চুরির পেছনে শুধু একজন ভুক্তভোগীর ক্ষতি জড়িত নয়। এর প্রভাব পড়ে সংশ্লিষ্ট পরিবার, ব্যবসায়ী এবং পুরো কমিউনিটির ওপর।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পিল অঞ্চলে গাড়ি চুরি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। সে সময় অঞ্চলটিতে গড়ে প্রতি ঘণ্টায় একটি করে গাড়ি চুরির ঘটনা ঘটত। ওই বছর কানাডায় গাড়ি চুরির উচ্চ হারের জন্য অঞ্চলটি বিশেষভাবে আলোচনায় আসে। তবে এরপর পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় বর্তমানে পুরো অঞ্চলে গাড়ি চুরির ঘটনা ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে। ২০২৬ সালের এখন পর্যন্ত চুরির হার গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আরও ১০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। পুলিশের মতে, অপরাধ দমনে চলমান তদন্ত ও আইন প্রয়োগের পাশাপাশি কমিউনিটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও দেখায়। এতে গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার আগে চারজনকে দেখা যায়। তাদের মধ্যে তিনজন কালো রঙের পোশাক এবং একজন সাদা টি-শার্ট পরেছিলেন। গাড়ি চুরির সময় ধস্তাধস্তির ঘটনায় সাদা টি-শার্ট পরা ব্যক্তি শারীরিকভাবে আহত হন বলে জানানো হয়।
পুলিশ সার্ভিসেস বোর্ডের চেয়ারম্যান নান্দো ইয়ানিকা বলেন, গাড়ি চুরির ঘটনা ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ভয়াবহ এবং গভীরভাবে ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা হতে পারে। তাঁর মতে, এ ধরনের অপরাধ মানুষের মধ্যে নিজেদের বাড়ি, ড্রাইভওয়ে, পাড়া ও আশপাশের কমিউনিটি নিয়ে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করে। এর প্রভাব ব্যক্তিগত ক্ষতির গণ্ডি ছাড়িয়ে বৃহত্তর জননিরাপত্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার হওয়া ১০ জনের মধ্যে আটজনের পরিচয় প্রকাশ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন : ক্যালেডনের ২০ বছর বয়সী ইকামবীর রান্দাওয়া, ব্র্যাম্পটনের ২১ বছর বয়সী শান ধিন্দসা, ব্র্যাম্পটনের ২০ বছর বয়সী আরিয়ান দেওল, হল্টন হিলসের ১৯ বছর বয়সী টেভিয়েন কোলে, ব্র্যাম্পটনের ২৪ বছর বয়সী মানবজীত ঢালিওয়াল, ওকভিলের ২১ বছর বয়সী পার্থ শর্মা, ব্র্যাম্পটনের ৩৭ বছর বয়সী মধুমিত রান্ধাওয়া এবং মিসিসোগার ৩৭ বছর বয়সী গ্রেগরি সেনিভ।
এ ছাড়া পিল অঞ্চলের দুই ১৭ বছর বয়সী কিশোরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কানাডার ইয়ুথ ক্রিমিনাল জাস্টিস অ্যাক্টের বিধান অনুযায়ী তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তদন্তে উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও আগ্নেয়াস্ত্রের পাশাপাশি ১২৮টি অভিযোগের বিষয়টি এখন মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, গাড়ি চুরির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও তাদের অগ্রাধিকার।

