
অন্টারিওর স্কুলগুলোতে শিক্ষার্থীদের সেলফোন ব্যবহার সীমিত করার নীতি চালুর দুই বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন শিক্ষকদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, নিয়মগুলো সব স্কুলে সমানভাবে কার্যকর হচ্ছে না। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের ফোন ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সহায়তারও ঘাটতি রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বর্তমান নীতি পর্যালোচনা করে আরও কার্যকর করার দাবি উঠেছে।
অন্টারিও সেকেন্ডারি স্কুল টিচার্স’ ফেডারেশনের লন্ডন-এরিয়া ডিস্ট্রিক্টের প্রেসিডেন্ট জন বার্নান্স বলেন, যেসব শিক্ষকের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে, তাঁরা সেলফোন ব্যবহারের নিয়ম বাস্তবায়নে অসামঞ্জস্যের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তাঁর মতে, স্কুলের নিয়ম কার্যকর করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত সহায়তা না পাওয়া একটি গুরুতর ও দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বার্নান্সের বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন কোনো নীতি ঘোষণা করা তুলনামূলক সহজ হলেও বাস্তবে তা কার্যকর করা অনেক বেশি কঠিন। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকলে প্রত্যেকের সেলফোন ব্যবহার পর্যবেক্ষণ করা শিক্ষকদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ হয়ে ওঠে।
২০২৪ সালে অন্টারিও সরকার স্কুলের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সেলফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। তবে গ্রেড ৭ থেকে গ্রেড ১২ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের দুই ক্লাসের মধ্যবর্তী বিরতি এবং মধ্যাহ্নভোজের সময়ে ফোন ব্যবহারের অনুমতি রাখা হয়। কিন্তু এই বিধিনিষেধ আরও কঠোর করার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে প্রাদেশিক সরকার। গত জুনে শিক্ষামন্ত্রী পল ক্যালান্দ্রা জানিয়েছিলেন, প্রগ্রেসিভ কনজারভেটিভ সরকার পুরো স্কুল সময়জুড়ে সেলফোন ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়টি ভাবছে।
এর আগে গত মে মাসে প্রদেশটি বিদ্যমান সেলফোন নীতি পর্যালোচনার উদ্যোগ নেয়। ক্যালান্দ্রা জানান, এ বিষয়ে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কর্মকর্তারা কুইবেকের স্কুলগুলো পরিদর্শনের পরিকল্পনা করছেন। কুইবেকে ২০২৫ সালের শরৎকাল থেকে স্কুল শুরু হওয়ার সময় থেকে ছুটি পর্যন্ত সেলফোন ব্যবহারে পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়। সেখানে ক্লাসের বিরতির সময়ও শিক্ষার্থীরা সাধারণভাবে ফোন ব্যবহার করতে পারে না। অন্টারিওতে একই ধরনের ব্যবস্থা চালু হলে শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান নিয়মের তুলনায় আরও কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর হবে।
শিক্ষানীতি বিশেষজ্ঞ মারিয়ানে লারসেন বলেন, সেলফোন ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপের পক্ষে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ গবেষণা রয়েছে। দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা শারীরিক স্বাস্থ্য, আচরণ ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাঁর মতে, স্কুলে সেলফোন ও অন্যান্য মোবাইল ডিভাইস ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো শ্রেণিকক্ষে মনোযোগের বিঘ্ন কমানো। এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ধরে রাখা, শিক্ষাগত সাফল্য বাড়ানো এবং মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়তা করাও এ ধরনের নীতির লক্ষ্য।
তবে নীতির উদ্দেশ্য ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ব্যবধান থাকলে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন কঠিন হতে পারে। শিক্ষকদের উত্থাপিত উদ্বেগ থেকে স্পষ্ট, শুধু নিষেধাজ্ঞা আরোপ করাই যথেষ্ট নয়; নিয়ম কার্যকর করতে শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় সহায়তা ও বাস্তবসম্মত ব্যবস্থা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
এদিকে, অন্টারিওর সেলফোন নীতি পর্যালোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিবেদন তৈরির সময় তাঁদের কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। বর্তমান নীতি আরও কঠোর হবে, নাকি বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো সমাধানে বিদ্যমান ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে শিক্ষকদের উদ্বেগ এবং নীতির কার্যকারিতা নিয়ে চলমান আলোচনা অন্টারিওর শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তি ব্যবহারের নিয়ম নতুন করে বিবেচনার প্রয়োজনীয়তাকে সামনে এনেছে।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

