
আগামী ৩রা নভেম্বর আমেরিকার মিডটার্ম নির্বাচন। আমেরিকার গনতন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী দিক এই মিডটার্ম নির্বাচন। মাত্র দু বছর আগে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্প বিজয়ী হয়ে যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে তখন একই সাথে উচ্চকক্ষ সিনেট ও নিম্নকক্ষ হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে মুলত নিরংকুশ ক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প তার কার্যক্রম শুরু করে। প্রেসিডেন্টের মেয়াদ চার বছর, সিনেট ও হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভ সদস্যদের মেয়াদও চার বছর হলেও যেহেতু প্রতি দু বছর পর পর আমেরিকার সিনেট ও হাউজের প্রায় অর্ধেক সংখ্যক সদস্যদের নির্বাচন হয় (এবার সিনেটে ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে), কাজেই মাত্র দু বছরের মধ্যেই আমেরিকার জনগণের কাছে সরকারের গ্রহণযোগ্যতার পারদ কতটুকু উঠানামা করছে তার প্রমাণ দিতে হয়।
যাহোক প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মাত্র দুবছরের কার্যক্রমে মানুষ হাফিয়ে উঠলেও কিছু অন্ধ ভক্ত বাংলাদেশের মতই ট্রাম্পকে তাদের নবীর মত মনে করে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ তাকে আর পছন্দ করছে বলে মনে হয় না যা তাদের নির্বাচনী জরীপে উঠে এসেছে। আমেরিকার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেইটে সিনেটে রিপাবলিকানরা ক্রমেই পিছিয়ে পড়ছে যা দেখলে মনে হচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা এবার সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। স্টেইটগুলো হলো জর্জিয়া, নর্থ ক্যারোলিনা, টেক্সাস, ওহাইয়ো, মিশিগান, আলাস্কা, কানসাস এবং মেইন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মিশিগান থেকে এবার প্রথমবারের মত একজন মুসলিম ধর্মাবলম্বীর সিনেটে নির্বাচিত হবার প্রবল সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে, তার নাম আব্দুল এল-সাইয়েদ। আর এই লোককে পরাজিত করতে এবং নিজ দলের পরাজয় ঠেকাতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এখন ধর্মীয় কার্ড খেলতে শুরু করেছে অনেকটা ভারতের মোদি ও বাংলাদেশের কিছু আত্মঘাতী ননসেন্সদের মত। তিনি ইতিমধ্যেই আব্দুল এল-সাইয়েদের সাথে টেরোরিষ্ট গ্রুপের সম্পর্ক আছে বলে প্রচার চালাচ্ছেন। এছাড়া সম্প্রতি ফ্রান্সের প্যারিস শহরে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ ও সহিংসতার জন্য মুসলিম বা অভিবাসীদের এককভাবে দায়ী করে দাবি করেছেন যে প্যারিস একটি মুসলিম শহরে পরিণত হচ্ছে। কিন্তু ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ এবং দেশটির কর্তৃপক্ষ এই সহিংসতায় ইসলামপন্থী বা অভিবাসীদের বড় মাত্রায় জড়িত থাকার দাবিকে মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিয়েছেন এবং একে ভিত্তিহীন বলেছেন। শুধু তাই নয়, আমেরিকার জনগণের দৃষ্টি ভিন্নখাতে সরিয়ে দিতে কানাডার আলাবার্টা প্রদেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের উস্কানি দিয়েছেন কিন্তু জনগণ সাড়া দেয় নি। বিপুল ভোটে আলবার্টার জনগণ বিচ্ছিন্ন হবার গণভোট প্রত্যাখ্যান করেছেন।
অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে আবারও সেই ইতর রাজনৈতিক নেতাদের মত ধর্মীয় কার্ড খেলার চেষ্টা করছেন। অথচ একটিবার নিজের পশ্চাৎদেশ পরিস্কার করার কথা ভাবছেন না। নিজের কৃতকর্মের কারণে যেভাবে তেল গ্যাসের দাম বৃদ্ধি পেয়ে সারা বিশ্বে বেকারত্ব ক্ষুধা ও দারিদ্র্যতায় মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে এবং মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে তা তিনি হীণ স্বার্থে এড়িয়ে যাচ্ছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যত কথাই বলুক, পাঠক খেয়াল রাখুন মিশিগানের সিনেট নির্বাচনের দিকে। সেই নির্বাচন উপলক্ষ্যে পক্ষ ও প্রতিপক্ষের বক্তব্য পাল্টা বক্তব্য শুনুন। মজা পাবেন।

