
কিছু ক্যারিয়ার কলেজে সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও সরকারি আর্থিক সহায়তার অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তের মধ্যে অন্টারিও স্টুডেন্ট অ্যাসিস্ট্যান্স প্রোগ্রামের (ওসাপ) অর্থ ছাড় স্থগিত করেছে প্রাদেশিক সরকার। এতে বিপাকে পড়েছেন ক্যারিয়ার কলেজগুলোর শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো। যেসব শিক্ষার্থীর ঋণ ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁরা নিয়মিত সশরীরে ক্লাস করছেন, তাঁদের জন্য আর্থিক সহায়তা পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে ক্যারিয়ার কলেজগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ক্যারিয়ার কলেজেস অন্টারিও।
সংগঠনটির বক্তব্য, ওসাপের সম্ভাব্য অপব্যবহার তদন্ত এবং সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগকে তারা সমর্থন করে। তবে অনিয়মের অভিযোগে সব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ রাখলে বৈধ শিক্ষাক্রমে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। ক্যারিয়ার কলেজেস অন্টারিওর মুখপাত্র টেইলর বাক এক বিবৃতিতে বলেন, ওসাপের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে সরকারের তদন্তকে সংগঠনটি সমর্থন করছে। যেখানে অনিয়মের বিষয়ে উদ্বেগ রয়েছে, সেখানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পক্ষেও তারা। তবে শিক্ষার্থী সহায়তা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরল বিশ্বাসে ভর্তি হয়ে বৈধ শিক্ষাক্রমে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের সুরক্ষাও জরুরি।
অন্টারিওর কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়বিষয়ক মন্ত্রী নোলান কিন মঙ্গলবার জানান, সরকারি অর্থের সম্ভাব্য অপব্যবহার নিয়ে উদ্বেগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে প্রাদেশিক পুলিশকে অনুরোধ জানিয়েছে সরকার। সরকারি অর্থায়নসংক্রান্ত নিরীক্ষায় সম্ভাব্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ উঠে আসার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। অন্টারিও প্রাদেশিক পুলিশ (ওপিপি) বুধবার জানিয়েছে, তারা সরকারের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করছে। তবে তদন্তের এই পর্যায়ে সম্ভাব্য অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ কিংবা কোন কোন প্রতিষ্ঠান এর সঙ্গে জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে সব ক্যারিয়ার কলেজ বা তাদের শিক্ষার্থীদের দায়ী করার সুযোগ নেই।
সম্ভাব্য অনিয়মের প্রকৃতি ও ব্যাপ্তি নির্ধারণে সরকার গত আগস্টে আন্তর্জাতিক নিরীক্ষা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কেপিএমজিকে নিরীক্ষার দায়িত্ব দেয়। মন্ত্রী কিন জানিয়েছেন, নিরীক্ষা চলাকালে ক্যারিয়ার কলেজগুলোর জন্য ওসাপের অর্থ ছাড় করা হবে না। এই সিদ্ধান্তের ফলে যেসব শিক্ষার্থীর আর্থিক সহায়তা ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে, তাঁদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী টিউশন ফি, যাতায়াত, বইপত্র এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর জন্য সরকারি ঋণ ও অনুদানের ওপর নির্ভর করেন। অর্থ ছাড়ে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তাঁদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ক্যারিয়ার কলেজগুলোর ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। শিক্ষার্থীদের অর্থায়ন অনিশ্চিত হয়ে পড়লে টিউশন ফি পরিশোধ, ভর্তি কার্যক্রম এবং শিক্ষাক্রম পরিচালনায় চাপ তৈরি হতে পারে। তবে স্থগিতাদেশের ফলে কতজন শিক্ষার্থী বা কতটি প্রতিষ্ঠান সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ওসাপের আওতায় সম্ভাব্য সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্যারিয়ার কলেজেস অন্টারিও কয়েক বছর ধরে প্রাদেশিক সরকারকে সতর্ক করে আসছিল। নথিতে ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়ার তথ্য রয়েছে। এই বিষয়টি তদন্তের গুরুত্ব আরও বাড়িয়েছে। সরকারি অর্থায়ন ব্যবস্থায় অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তা শনাক্ত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িত নন, এমন শিক্ষার্থীদের যাতে অযথা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে না হয়, সেটিও সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচনা।
ক্যারিয়ার কলেজেস অন্টারিওর দাবি, সম্ভাব্য জালিয়াতি প্রতিরোধের ব্যবস্থা এবং বৈধ শিক্ষার্থীদের আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলাদাভাবে বিবেচনা করা উচিত। বিশেষ করে যাঁদের ঋণ ইতিমধ্যে অনুমোদিত হয়েছে এবং যাঁরা নিয়মিত ক্লাসে অংশ নিচ্ছেন, তাঁদের জন্য অর্থায়ন পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
সরকারের অবস্থান হলো, নিরীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য অনিয়মের বিষয়টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত সরকারি অর্থের ছাড় নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে। অন্যদিকে, কলেজগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনটি বলছে, তদন্তের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার না করেও প্রকৃত শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা করা সম্ভব হওয়া উচিত। এখন তদন্ত ও নিরীক্ষার ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে পরবর্তী পদক্ষেপ। সম্ভাব্য অনিয়মের প্রকৃতি, এর সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং অর্থায়ন ব্যবস্থায় কী ধরনের পরিবর্তন প্রয়োজন এসব বিষয় নির্ধারণের পর সরকার সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
তবে তদন্ত শেষ হওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের অনেকের কাছে ওসাপের অর্থ কেবল শিক্ষার খরচ মেটানোর সহায়তা নয়, বরং নির্ধারিত শিক্ষাক্রম সম্পন্ন করার অন্যতম প্রধান আর্থিক অবলম্বন। তাই সরকারি অর্থের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা কীভাবে করা হবে, সেটিই এখন অন্টারিওর ক্যারিয়ার কলেজ খাতের অন্যতম বড় প্রশ্ন।
সোহেলি আহমেদ সুইটি : লোকাল জার্নালিজম ইনিশিয়েটিভ রিপোর্টার

