কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি?

কে এই ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি? - the Bengali Times
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি

ছাত্রদলের রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু। এরপর কাউন্সিলর, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবং শেষ পর্যন্ত সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য। রাজনৈতিক জীবনে একাধিক ধাপ পেরিয়ে আলোচনায় আসা ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এখন আবার আলোচনায়—তবে এবার সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের কারণে।

বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে পড়ার সময় ছাত্রদলের রাজনীতিতে যুক্ত হন মিষ্টি। পরে কলেজ ছাত্র সংসদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তার পারিবারিক জীবনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত। তিনি প্রয়াত বিএনপি নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ পিন্টুর বোন। তার স্বামী সাইদুর রহমান নিউটনও বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার ছিলেন।

- Advertisement -

২০০২ সালে স্বামী সাইদুর রহমান নিউটন নিহত হওয়ার পর মিষ্টি ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্ব পালন করেন। মিরপুরকেন্দ্রিক রাজনীতিতেও তার সক্রিয়তা ছিল।

২০২৬ সালের এপ্রিলে বিএনপি তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য মনোনয়ন দেয়। পরে সংরক্ষিত মহিলা আসন-২৩-এর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান তিনি। ৩ মে শপথ নেওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের দুটি কমিটির সদস্যও হন।

কিন্তু সংসদ সদস্য হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই তার রাজনৈতিক জীবনে নতুন করে সংকট তৈরি হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর রাতে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠে। তবে তিনি ওই হামলা ও ভাঙচুরে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তদন্তে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

ঘটনাটির পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে একাধিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ১ অক্টোবর তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। একই দিনে সংসদ সচিবালয় সংরক্ষিত নারী আসন-২৩ শূন্য ঘোষণা করে।

মিষ্টির পদত্যাগপত্রে তিনি লিখেছেন, সম্পূর্ণ সচেতনভাবে ও স্বেচ্ছায় সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পদত্যাগপত্রে এর বাইরে কোনো কারণ উল্লেখ করেননি।

এভাবেই ছাত্ররাজনীতি থেকে স্থানীয় সরকার, দলীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হয়ে জাতীয় সংসদে পৌঁছানো ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্বের অধ্যায় মাত্র কয়েক মাসেই শেষ হলো। তবে রাড্ডা সেন্টারকেন্দ্রিক অভিযোগের তদন্ত ও তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

- Advertisement -

Related Articles

Latest Articles