
একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতীমকে হারিয়ে দিশাহারা তার পরিবার। শুক্রবার বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর আর বাড়ি ফেরেনি সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। দীর্ঘ উৎকণ্ঠার পর শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
অপ্রতীমের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আবদুল হাকিম বলেন, বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তানের এমন মৃত্যু তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না। এ ঘটনায় পুরো বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার শোকাহত।
মরদেহ উদ্ধারের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান খান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ক্ষোভ ও শোক প্রকাশ করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘শুধুমাত্র একটি আইফোনের জন্য ছেলেটাকে মেরে ফেললি। এ রকম ১০টা ফোন মুক্তিপণ হিসেবে চাইতি—আমরা দিতাম।’ একই সঙ্গে তিনি অপ্রতীমের বাবা-মায়ের জন্য ধৈর্য কামনা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতীমের মাথায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে পাঠানো হবে।
কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ রকিবুল ইসলাম বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই পুলিশ গুরুত্বের সঙ্গে কাজ করছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে পরে বিস্তারিত জানানো হবে।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার বেলা আড়াইটার দিকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে যাওয়ার কথা বলে মায়ের আইফোন নিয়ে বাসা থেকে বের হয় অপ্রতীম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও সন্ধান না পেয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে পরিবার।
অপ্রতীম কুমিল্লার কোটবাড়ি এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। কুমিল্লা সদর দক্ষিণ থানার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকায় মা-বাবার সঙ্গে বসবাস করত সে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে এখন শোকে কাতর পরিবারটি।

