
পাহাড় আর প্রকৃতির দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি করতে ভীষণ ভালোবাসত কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম। সুযোগ পেলেই বন্ধুদের নিয়ে ছুটে যেত কোটবাড়ী ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকায়। বিদ্যালয়ের ছুটির ফাঁকেও পাহাড়ে ঘুরে বেড়ানো ছিল তার অন্যতম প্রিয় কাজ। অথচ সেই পাহাড়ঘেরা এলাকা থেকেই উদ্ধার হলো সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থীর নিথর দেহ।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে দুপুরের খাবার খেয়ে ছবি তুলতে বের হয়েছিল অপ্রতীম। বের হওয়ার আগে বাবার কাছে জানতে চেয়েছিল, ছবি তুলতে গেলে পরনের পোশাক বদলাবে কি না। বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার তাকে পাঞ্জাবি-পায়জামা পরেই যেতে বলেন। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।
বিকাল পেরিয়ে সন্ধ্যা হলেও অপ্রতীম না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা তার সঙ্গে থাকা মায়ের আইফোনে ফোন করেন। কিন্তু ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে সাধারণ ডায়েরি করে পরিবার।
শনিবার দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ গেটসংলগ্ন লালমাই পাহাড়ঘেঁষা সানন্দা গ্রামের পাহাড়ি ঢাল থেকে অপ্রতীমের লাশ উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশ কাটতে গিয়ে লাশটি দেখতে পান।
ছেলের মৃত্যুর খবর ও স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা ফিরোজ শাহরিয়ার। শনিবার অপ্রতীমদের বাড়িতে যান কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী। এ সময় বাবার কাছ থেকে ছেলের ছবি তোলার প্রতি আগ্রহের কথা জানতে পারেন তিনি। শোকাহত বাবাকে সান্ত্বনা দেওয়ার সময় সংসদ সদস্যকেও আবেগাপ্লুত হতে দেখা যায়।
ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, অপ্রতীম প্রায়ই ছবি তুলতে বের হতো। অনেকের সঙ্গেই ছবি তুলত। তার ভাষ্য, ছেলের কোনো খারাপ অভ্যাস বা মেয়েলি কোনো বিষয় ছিল না। একটি ফোনের জন্য কেন তাকে এভাবে হত্যা করা হলো—এ প্রশ্নে বারবার কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি।
অপ্রতীম কুমিল্লার কোটবাড়ী এলাকার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন ও আনাছ নামে দুই কিশোর গ্যাং সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আরও তিনজনকে আটক করার খবরও পাওয়া গেছে।
প্রিয় পাহাড় আর প্রকৃতির ছবি তুলতে বেরিয়ে অপ্রতীমের আর ঘরে ফেরা হলো না। তার অকাল মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক।

