
১৯৮৯ সালে লস এঞ্জেলেসে জুয়েল আইচের সাথে প্রবাসে প্রথম দেখা। দেশেতো দেখা হয়েই যায়,প্রবাসে সেই প্রথম। প্রবাসে আজ আবার এত যুগ পর ২০২৬শে টরন্টোতে দেখা। ভেবে ভালো লাগে আমরা আছি,নাই হয়ে যাইনি এখনো। সেপ্টেম্বরের প্রথম দিন প্রিয়জন খোকন রহমান যিনি কানাডা বাংলাদেশ সোসাইটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট লবঙ্গ রেস্টুরেন্টে ডিনারে ডেকেছিলেন।। টরন্টোতে ৪০তম ফোবানা বাম্পার অনুষ্ঠান করছেন এবার তারা। সেই উপলক্ষে দেশ থেকে স্বস্ত্রীক জুয়েল আইচকে এনেছে। সন্মাননা ক্রেস্ট তার হাতে বিতরণ করা হবে। তার টরন্টো পদার্পণ উপলক্ষে লবঙ্গ রেস্টুরেন্টে প্রায় ২০জনের ডিনারের আয়োজন। খোকন রহমান আমাকেও ডেকেছেন কোনো সন্মান-টন্মানের ব্যাপার নয়, আন্তরিকতার কারণে। তাদের মধ্যে দেশের টিভি চ্যানেলের দুজন প্রতিনিধী ছিলেন। ইংল্যান্ড থেকে আসা এক ধবল ব্যক্তিত্ব ছিলেন আর সবাই স্পনসার ও সোসাইটির নেতারা।
জুয়েল আইচ খুবই সুবক্তা তাছাড়া তার দীর্ঘ এই জীবনে এশিয়া ইউরোপ আমেরিকার প্রায় বড় শহরে নিজের জাদুর শো দেখিয়ে মাতিয়ে বেড়িয়েছেন, মাতিয়েছেন। জমেছে টনকে টন সেইসব ঘোরাঘুরির স্মৃতি। জুয়েলেরও বয়স হয়েছে কথা শুরু করলে সেইসব স্মৃতি পাহাড় আর সেই সব সন্মান তার প্রতি অন্যের ভালো বাসার কথাই চলে আসে বেশি। প্রবাসে যা হয় যে যার ফোনে ছবি আর ভিডিও করে যায়। কে শোনে জুয়েলের কথা মন দিয়ে।তবু বলে চলেছেন জুয়েল সিঙ্গাপুরের বড় চিনা ব্যবসায়ীর কথা বিশাল সুইমিং পুলের মধ্যিখানে তার জাহাজের মত বাড়ি। গেলে তিনিই আনতে যান এয়ারপোর্ট। তার বাড়িতেই থাকতে হবে এবং তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে ফেরার সময় এয়ারপোর্টে পৌঁছে দেন। ঠিক তেমনি নিউ ইয়র্কে এক বাংলাদেশী বিত্তশালী আছেন যিনি জুয়েল এলে সব কিছু নিজ দায়িত্বে নিজের খরচে করতে চান। এমন কি জুয়েল নিউ ইয়র্ক ছেড়ে লস এঞ্জেলাসে গেলে একদিন আগে সেখানে পৌঁছে পাঁচ তারা হোটেলে স্বপরিবারে ওঠেন ও জুয়েলের সেবায় নিয়জিত হয়ে যান। সবাই হাসি হাসি গদগদ মুখ করে কথা শোনার ভান করছে।
আমি হঠাৎ কড়া ব্রেক করে জুয়েলকে থামিয়ে দিলাম!
সবাই থমকে গেলো! খোকন রহমানের চেহারায় প্রশ্নবোধক অস্বস্তি। আমি হুট করে তাদের সন্মানিত অতিথিকে উল্টাপাল্টা না কিছু বলে বসি!
– ভাই জুয়েল,নিজের মুখে নিজের কথাতো বল্লেন অনেক! অনুমতি করলে আমি একটু বলি।
জুয়েলের মুখটা একটু হাঁ হয়ে রয়েছে ।পজে রাখা মুখের এক্সপ্রেশন। গত কোভিটকালে জমে মানুষে টানাটানি করে জীবন পেয়েছেন জুয়েল আইচ। তিনি বোঝেন কিনা জানিনা ,মাঝেমধ্যে হালকা স্লিপ করে তার কথা।
– জুয়েল আমিও কিন্তু আপনারই কথা বলবো – ১৯৮৯ সালে লস এঞ্জেলেস যখন এলেন তখন আমিও সেখাই ছিলাম। লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি জামী ভাই আর সহ সভাপতি মাহবুবুল হক বাচ্চু ভাই (টরন্টোর রিয়েলটর ফরিদার বড় ভাই) তারা জুয়েল আইচ আগমনে উইলশ্যায়ার রোডে এক বাংলা রেস্টুরেন্টের দোতলায় পার্টি হলে তাকে সংবর্ধনা ও ডিনারের আয়োজন করলেন।
তখন বাংলাদেশের সিনিয়র সাংবাদিক ইত্তেফাকের বার্তা সম্পাদক (পরে যিনি দৈনিক সমকাল ও যুগান্তর পত্রিকার জন্ম দিয়ে সম্পাদক হয়েছিলেন) তিনিও লস এঞ্জেলেস এসে ছিলেন। তিনিও আমার প্রিয় শ্রদ্ধেয়জন, তাই চেয়েছিলাম হচ্ছে যখন সংবর্ধনা আর ডিনার একই খরচে জুয়েল আইচের সাথে যদি গোলাম সারওয়ার ভাইয়ের হয় তা দারুণ হয়। শুধু সমস্যা জুয়েল পরিচিত মুখ সারওয়ার ভাই বড় মাপের মানুষ হয়েও মুখটি অপরিচিত! লস এঞ্জেলেস বাংলাদেশ সোসাইটির সভাপতি জামী ভাই, সহ সভাপতি বাচ্চু ভাই সারওয়ার ভাইকে তখন চিনতেন না, সেটাই স্বাভাবিক। দীর্ঘযুগ প্রবাসে থাকা গন্যমান্য মানুষ তারা। তাই কিছুটা দ্বিধায় পড়ে ছিলেন।
যখন বল্লাম দৈনিক ইত্তেফাকের গুরত্ব বোঝেন! সেই ইত্তেফাকের নিউজ এডিটার তিনি। অনেক বড় ঝামেলার সমাধান ওনার এক ফোনে কলে ঠিক হয়ে যায়। ওনারা দুইজনই রাজী হয়ে গেলেন বল্লেন – ঠিক আছে! তবে জুয়েল আইচ যদি ব্যাপারটি না মানেন। তখন কি হবে? – সেরকম কোনো সম্ভাবনা নেই!
হলো ও তাই! জুয়েলকে ব্যাপারটি বলায় দাঁড়িয়ে পড়লেন! বল্লেন – আমার কি সৌভাগ্য গোলাম সারওয়ার ভাইয়ের সাথে আমার সংবর্ধানা অনুষ্ঠান হবে! এ আবার আমাকে জানানোর কি আছে,তিনিতো আমার পরম শ্রদ্ধেয় মানুষ। আমি বরং ধন্য হবো।
এই হচ্ছেন দেশের একমাত্র স্বনামধন্য জাদুকর জুয়েল আইচ। * সেই ১৯৮৯ সালের লস এঞ্জেলেসে জুয়েল আইচ ও গোলাম সারওয়ার ভাইয়ের সংবর্ধনার শুরু হওয়ার আগে এক কাপ কফি নিয়ে সভাপতি জিয়া ভাই সহ আমরা দাঁড়িয়ে। কেউ একজন একটা ছবি তুলে পাঠিয়ে ছিলো তখন,যা রয়ে গেছে।

